ভূমিকা

লেখা‌টির উদ্দেশ্য মামূলী পাহাড়ি ঢালে মুক্ত হস্তে আরোহণ ও অবরোহণ অভ‍্যাসের জন্য একটি প্রস্তাব সংক্রান্ত। তবে লেখাটির ‘ভূমিকা‌ পর্ব’ ধান ভানতে শিবের গীত সদৃশ দীর্ঘ। তাই ইচ্ছা ও সময়াভাবে পাঠক সোজা ঢেঁকিতে পা রাখতে পারেন। অর্থাৎ চলে যেতে পারেন নিচে বর্ণিত প্রস্তাবে।

ছোটবেলায় অনেকেই হয়তো রেললাইন ধরে কে কতটা মাটিতে পা না ফেলে হাঁটতে পারে সেই খেলা খেলেছে। “মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর” চলচ্চিত্রে যৌবনেও পরমব্রত ও রাইমা তা খেলে। আসলে ব‍্যতিক্রম বাদে অনেকের মধ‍্যে‌ই পরিণত বয়সেও লুকিয়ে থাকে এক শিশু। তবে যদি ঐ রেললাইন মাটি থেকে দশ ফুট ওপরে হতো? তখনও কি অনায়াসে চলা যাবে নাকি একটু বুক গুড়গুড় করবে? আর যদি একশো ফুট ওপরে হয়? তাহলে কজন চেষ্টা করবে তাতে সন্দেহ আছে। এই ‘বুক গুড়গুড়’ অনুভূতিকেই পর্বতারোহণের পরিভাষায় বলে ‘Exposure’। এর সংজ্ঞা দিতে গেলে,

‘Exposure is the vertical distance between the climber’s present position and where he may land in the event of an unprotected fall, which could be 50’ to 5000’ or more.’

সাধু বাংলায় – কোনো উচ্চ স্থান হইতে পতন জনিত সম্ভাবনা থাকিলে এবং সেক্ষেত্রে কোনো নিরাপত্তা‌র ব‍্যবস্থা না থাকিলে তদ্জনিত উদ্ভূত মানসিক ভীতির কারণে শারীরিক দক্ষতার অবনতি হইয়া পতন সম্ভাবনা অধিক হইয়া পড়াকেই  Effect of Exposure বলা হইয়া থাকে। যাদের সেই Effect হয় না তাঁরা অতিমানব।

১৯৫৫ সালে প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ আরোহী বিখ্যাত ব্রিটিশ পর্বতারোহী জো ব্রাউন (জর্জ ব‍্যান্ড ছিলেন সহ অভিযাত্রী) ডন হুইল‍্যান্সের সাথে ইংল্যান্ডের পীক ডিস্ট্রিক্টে যে লিড্ ক্লাইম্বটি করেন তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘Cemetery Gate’ (কবর খানার দরজা)। ওটা এতো কঠিন ক্লাইম্ব ছিল যে বহুদিন কেউ তা পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি। তিনি একটা ২০০ ফিট ক্র‍্যাক রোপ ছাড়াই শুধুমাত্র হাত ও পা জ্যামিং করে করে চড়েছিলেন। এহেন দুঃসাহসিক সব চড়াইকান্ডের জন‍্য ১৯৬২ সালে কমিকসে স্পাইডারম্যান আসার আগেই বাস্তবে তাঁর নাম হয়ে গেছিল ‘মানুষ মাছি’। তাই কেবল ‘Human Fly – England’ এই ঠিকানায় পৃথিবীর যে কোনও প্রান্ত থেকে চিঠি পোষ্ট করলে তাঁর কাছে তা পৌঁছে যেত। পর্বতারোহণে ব‍্যবহৃত Crack Anchor হিসেবে ‘নাট’ এর উদ্ভাবন তাঁরই মস্তিষ্ক‌প্রসূত। শোনা যায় জো ব্রাউনের আরোহণের সময় অসীম মনসংযোগ ও স্নায়ুর ওপর নিয়ন্ত্রণে‌র ক্ষমতা ছিল। ফলে তাঁর ওপর উচ্চতা‌জনিত এক্সপোজারের প্রভাব খুব বেশি পড়তো না। পড়লে অমন ক্লাইম্ব হয়তো তিনি করতে পারতেন না।

সময়ের সাথে অভিযাত্রী‌দের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সাহস বাড়ে। তাই আমেরিকা‌র ইয়োসমিতি জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত হাফ ডোমের যে দুই হাজার ফিট খাড়া প্রায় মসৃণ গ্ৰানাইট দেওয়াল একসময় চড়া অসম্ভব বলে বিবেচিত হয়েছিল, ১৯৫৭ সালে চার সদস‍্যের একটি অভিযাত্রী দল ৫ দিনে তা চড়তে সক্ষম হয়। তবে তা ছিল দড়ি দড়া নিয়ে চিরাচরিত পদ্ধতিতে ক্লাইম্ব। অর্থাৎ পড়লেও মরবে না। কিন্তু ২০১২ সালে অকল্পনীয় দুঃসাহসিক‌তার সাথে দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতার নজির গড়লো সাতাশ বছরের  অ্যালেক্স হোনল্ড। মাত্র ১ ঘন্টা ২২ মিনিটে সে ওই ২০০০ ফুটের হাড় হিম করা পাথুরে খাড়া দেওয়াল চড়ে ফেললো – একা ও খালি হাতে, কোনরকম সেফটি ছাড়া। ঐ একটি ক্লাইম্বে সে দু-দুটি রেকর্ড (দ্রুততম ও ফ্রি সলো) করে ফেললো যা আজ অবধি অক্ষত।

তেমনই আরোহণ অসম্ভব বলে একদা ঘোষিত হয়েছিল ইয়োসমিতি চত্বরেই হাফ ডোমের বড়দা ‘দ্যা নোস অব এল ক্যাপিতান’। ২৯০০ ফিটের ঐ খাড়া দেওয়াল দেড় বছরের ‘Expedition Style Siege Tactics’-এ ফিক্সড রোপ লাগিয়ে ১৯৫৭ সালের ১২ই নভেম্বর তিন সদস‍্যের এক আমেরিকান দল এগার দিনে চড়তে সক্ষম হয়। কিন্তু স্বভাবজাতভাবে মানুষ রেকর্ড ভাঙতে বদ্ধপরিকর। তাই বিখ্যাত আমেরিকান মহিলা ক্লাইম্বার  লিন হিল তার ক্লাইম্বিং পার্টনার ব্রক স্যানডালকে নিয়ে ১৯৯৪ সালে ২৪ ঘন্টারও কম সময়ে ঐ নাক চড়ে ফেললেন যা তখন‌ অবধি এইড ক্লাইম্বিংয়ের নানান সরঞ্জাম নিয়ে কম করেও চার দিন সময় লাগতো। হিল কেবল পাথরে আগে থেকে লেগে থাকা অ্যাংকরে সেফটি রোপটি গলিয়ে পুরো ক্লাইম্বটি করলেন নিজের হাত পায়ের ভরসায়।

কিন্তু কিছু মানুষ থেমে থাকতে পারে না। অন‍্যকে বা নিজেকেও ক্রমাগত ছাপিয়ে যাওয়াই তাদের ভবিতব্য। অতএব সেই অ্যালেক্স হোনল্ড ২০১৭ সালের জুলাই মাসে পাথরে রচনা করলো আর এক অনন‍্য কীর্তি – মাত্র ৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিটে সে খালি হাতে, সেফটি রোপ ছাড়াই চড়ে ফেললো প্রায় ৩০০০ ফিটের রক্তজল ক‍রা ঐ খাড়া দেওয়াল। ঐ ক্লাইম্ব ভিডিও দেখলে গা শিরশির করে উঠে।

এসব হচ্ছে কিছু মুষ্টিমেয় অসম সাহসী দক্ষ বিদেশী আরোহীদের বিগ ওয়াল ক্লাইম্বিংয়ের গপ্পো। ক্লাইম্বিং জগতেও পৃথিবীতে মাত্র এক শতাংশ আরোহী অ্যালেক্সের পাগলামির ধারে কাছে আসতে পেরেছেন। তবে এই লেখায় প্রস্তাবিত পন্থা কেবল শখের আরোহী‌দের জন‍্য। এর উদ্দেশ্য, How to walk upright on moderate slope (Glacis in rock climbing terminology) without using hands.

Glacis হচ্ছে ৩০~৪০ ডিগ্ৰীর সাধারণ পাথুরে ঢাল। মনে হতে পারে এত কম ঢালে হাঁটা আবার সমস‍্যা নাকি? তবে ঐ আপাত সহজ ঢালই একটু কঠিন লাগতে পারে যদি তা হয় মসৃণ এবং ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে যদি তা হয় ভিজে, শ‍্যাওলা ধরা বা ঝুরঝুরে‌ কাঁকুড়ে। তখন ওতেই চার হাতেপায়ে হ‍্যাঁচোর পাঁচোর করতে চড়তে হতে পারে। 

গ্লাসিসের বেশি ৪০~৬০ ডিগ্ৰীর ঢাল কে বলে স্ল্যাব (slab)। ৬০~৯০ অবধি ওয়াল (wall), তার বেশি হলে ওভারহ্যাঙ (Overhang) এবং পুরো অনুভূমিক হলে তা হয়ে যায় ছাদ (Ceiling)। ওভার‌হ‍্যাঙ থেকেই মূলত এইড ক্লাইম্বিং জরুরি হয়ে পড়ে।

বিদেশে রক ক্লাইম্বিংয়ের আগে প্রাথমিক পায়েখড়ি হিসেবে আর একটা জিনিস খুব জনপ্রিয়। তা হল স্ক্র‍্যাম্বলিং। এদেশে আমরা সেটাকে হিল ওয়াকিং বলে থাকি বটে তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা আসলে হয়ে যায় জঙ্গল হাইকিং।

ক্লাইম্বিংয়ের আঁতুরঘর ইংল‍্যান্ডের পীক ও লেক ডিস্ট্রিক্ট, ওয়েলস্ ও স্কটল‍্যান্ডের অনেক জায়গায় কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিনের বিখ‍্যাত সব স্ক্র‍্যাম্বলিং রুট আছে। স্ক্র‍্যাম্বলিং মূলত গ্লেসিস ও স্ল্যাব ঘরানার ঢালে যা ৩০ থেকে ৬০ ডিগ্ৰীর মধ‍্যে হয়ে থাকে যাতে দড়ি দড়া নিয়ে না গেলেও পতন জনিত দূর্ঘটনা‌র সম্ভাবনা‌ কম হয়। কিন্ত নিয়মিত স্ক্র‍্যাম্বলিং অনুশীলন করলে একটি অতি প্রয়োজনীয় একটি অভ‍্যাস তৈরি হয়ে যায়- ফুট ওয়ার্ক ও বডি ব্যালান্স।

রক ক্লাইম্বিংয়ের থাম্ব রুলগুলোর একটি হল শরীরের ওজন যতটা সম্ভব পায়ে ধারণ করে শরীরকে ঠেলে ওপরে তোলা। হাতের ব‍্যবহার মূলত ভারসাম্য রক্ষা করা ও  বিশেষ ক্ষেত্রে হাতের জোরে শরীরকে টেনে তোলা (Mantel Up)।

আরেকটি নিয়ম হল, ঢালু তলে যতটা সম্ভব শরীর সোজা করে দাঁড়ানো। রকের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়লে পা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। এটা কম্পোজিশন ও রেজিলিউশন অব ফোর্সের গাণিতিক সূত্র দ্বারা প্রমাণিত। তবে অঙ্ক না কষেও কয়েকবার রকে আছাড় খেয়েও এটা হাড়ে হাড়ে‌ টের পাওয়া যেতে পারে।

তাই স্ক্র‍্যাম্বলিং ঠিক মতো করলে পায়ের ওপর ভরসা বাড়ে এবং হাতের ওপর নির্ভরতা কমে। এই শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সিরিয়াস ট্রেক বা ক্লাইম্বিংয়ে সাহায্য করতে পারে।

৩০০ ফিট লম্বা ৩০ ডিগ্ৰী পাথরের ঢালে অনেকেই হয়তো গড়গড়িয়ে উঠে যাবে, তবে সেই ঢালটি যদি হয় একটি ২ ফিট চওড়া সংকীর্ণ গিরি শিরা (narrow ridge) যার দুপাশেই তিন চারশো ফুট গভীর খাদ তাহলে কিন্তু অনেকেরই চলার গতি ও আত্মবিশ্বাসে টান পড়তে পারে। এটাই এক্সপোজারের মহিমা!  

তেনজিংয়ের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক জীবনী ‘টাইগার্স অফ দ্যা স্নো’ বইটি লিখতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আপনার জীবনের কঠিন‌তম অভিযান কোনটা। প্রত‍্যাশিত উত্তর ছিল এভারেস্ট। কিন্তু তেনজিং বললেন অন‍্য কথা। ১৯৫১ সালে আট সদস‍্যের ফরাসী নন্দাদেবী শৃঙ্গ অভিযানে দলনেতা রজার দুপলাত ও গিলবারট ভিনিয়া হারিয়ে যান। তাঁদের খুঁজতে গিয়ে, নন্দাদেবীর পূর্ব ও পশ্চিম শিখরের মধ‍্যবর্তী প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা সংকীর্ণ গিরি শিরা ধরে চলতে চলতে তেনজিং ও Louis Dubost একসময় আরোহণ করে ফেলেন নন্দাদেবী ইস্ট শৃঙ্গ। তেনজিংয়ের মতে নন্দাদেবী ইস্ট-ওয়েস্ট ট্রাভার্স তাঁর জীবনের ভয়ংকর‌তম অভিজ্ঞতা। 

অসমসাহসী ব্রিটিশ পর্বতারোহী পিটার বোর্ডম‍্যানেরও একথা মনে হয়েছিল ১৯৭৯ সালে গৌরীশঙ্কর পর্বত অভিযানে। দীর্ঘ, কঠিন, দক্ষিণ-পশ্চিম গিরি শিরা ধরে, দুপাশে বিভীষিকাময় গভীর খাদের এক্সপোজারের কথা মাথায় রেখে তিনি আরও দুই সদস‍্যকে নিয়ে চড়লেন যমজ শৃঙ্গের মধ‍্যে অপেক্ষা‌কৃত নীচু ২২৯৯৩ ফিট উচ্চতার দক্ষিণ শৃঙ্গ গৌরী তে। আবার সেরকম এক আত্মা হিম করে দেয়া দীর্ঘ সংকীর্ণ গিরি শিরা ধরে উত্তরের প্রধান শৃঙ্গ শঙ্কর এ আরোহণের শক্তি বা ক্ষমতায় আর কুলোলো না। তারা ফিরে এলেন।

এতো গেল অতি উচ্চতায় আরোহণের কথা। ভারতে মহারাষ্ট্রের পশ্চিমঘাট (ওয়েস্টার্ন ঘাটস) পর্বতমালার কিছু পাহাড়ি দুর্গে – যেমন কালাভন্তিন, হরিহরগড়, গোরখগড়, আলাং-মাদান-কুলাং ইত্যাদি কিছু জায়গায় ৪০~৫০ ডিগ্ৰী ঢালে পাথরে মাঝে মাঝে ধাপের মতো খাঁজ কাটা আছে হাঁটা‌র সুবিধার জন‍্য। তবু অনেকে‌র সেখানে সোজা দাঁড়িয়ে হাঁটতে একটু অস্বস্তি হয়। তখন তারা ঝুঁকে পড়ে পাথরে হাত দিয়ে ভারসাম্য রেখে ওঠে। কারণ সেই এক্সপোজার। পথের দুপাশে দুশো থেকে হাজারখানেক ফুটের খাদ থাকলে পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও পড়লে কী হতে পারে সেটা ভেবেই অস্বস্তি হয়।

তাই পাহাড়ের আপাত সাধারণ ঢালে হাত একেবারেই ব্যবহার না করে আরোহণ ও অবরোহণ অভ‍্যাসের জন‍্যই এই অনুশীলন প্রস্তাব।

প্রস্তাব
পাড়ায় ক্লাবের মাঠের একপাশে ৩০ ডিগ্ৰী ঢালে, কুড়ি ফুট লম্বা আট থেকে দশ ইঞ্চি চওড়া একটা কাঠের র‍্যাম্প বানাতে হবে। তার ওপর দেড় ফুট অন্তর এক ইঞ্চি মোটা তক্তা মেরে দিতে হবে যেন জুতো স্লিপ না করে। তার একটা প্রান্ত A থাকবে মাটিতে, অপর প্রান্ত B থাকবে জমি থেকে প্রায় ১২ ফুট উঁচুতে। মাঝে দুটি বা তিনটি X- সাপোর্ট দিয়ে এটাকে মজবুত কাঠামোর ওপরে রাখতে হবে যাতে অন্তত ৮০ কেজি ওজনের কেউ উঠলেও তা ঝুঁকে না যায়। র‍্যাম্প থেকে ৪ ফিট উঁচুতে ও ১ ফুট পাশে অন্ততঃ একদিকে বা চাইলে দু দিকে রাখতে হবে কাঠের বা বাঁশের Handrail যাতে কেউ ভারসাম্য হারালে তা ধরে সামলে নিতে পারে। B প্রান্তে রাখতে হবে একটি বাঁশের মই, নেমে আসার জন‍্য। তবে কেউ চাইলে A থেকে ওঠার বদলে মই দিয়ে উঠে B থেকেও নেমে আসতে‌ পারে। তাহলে পাহাড়ি ঢালে ঝুঁকে না পড়েও, পাথরে হাত না ঠেকিয়েও ভারসাম্য বজায় রেখে ওঠার সাথে সেভাবে নামার অভ‍্যাসও তৈরি হবে। এটা আরো বেশি জরুরি। কারণ পাহাড়ে বেশি‌রভাগ দুর্ঘটনা হয় নামার সময়।

এই অভ‍্যাসে‌র উদ্দেশ্য
ভবিষ্যতে কোনো ট্রেকে সংকীর্ণ গিরি শিরা ধরে বা পাহাড়ি ঢালে সরু পথে চলতে গেলে এই অনুশীলন মনে পড়বে। মনে আস্থা ফিরে আসবে, ভয়ে ভয়ে হাঁটতে হবে না বা ঝুঁকে পড়ে পাথরে হাত দিতে হবে না। ওঠা বা নামার গতি বাড়বে।

এই অভ‍্যাসে‌র প্রত‍্যাশিত নিয়ম
শরীরের ভারসাম্য কেবল পায়ের সাহায্যে বজায় রেখে উঠতে বা নামতে গিয়ে চেষ্টা ক‍রতে হবে যেন রেলিংয়ে হাত না দিতে হয়।

কখন এটি করা উচিত 
যখন‌ সুযোগ পাওয়া যাবে। অন্তত সপ্তাহে একদিন। চাইলে রাতের অন্ধকারে দৃষ্টি‌র ওপর ভরসা না করে, পায়ের দিকে না তাকিয়ে, শুধুমাত্র অনুভূতি‌র ওপর নির্ভর করেও এটি অভ‍্যাস করা যেতে পারে। এর ফলে একাগ্ৰতা ও  মনসংযোগ বৃদ্ধি পাবে। দক্ষ হয়ে গেলে চাইলে পিঠে ভারি স‍্যাক নিয়েও অভ‍্যাস করা যেতে পারে। এই অনুশীলন সারা বছর বা পাহাড়ে যাওয়ার অন্ততঃ মাস খানেক আগে থেকে করলে ভালো। এতে কাফ মাসলও মজবুত হবে।

সতর্কতা
এই অনুশীলন‌টি ৬০ বছরের কম বয়সী ও ৯০ কেজির কম ওজনের মানুষের মধ‍্যে সীমিত রাখলে ভালো, কেননা বেশি বয়সে বা ভারী শরীরে পড়ে গেলে চোট লাগতে পারে। তবে দুপাশে রেলিং থাকলে পতনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবু জমিতে মোটা করে খড় বিছিয়ে একটা ত্রিপল পেতে রাখলে পড়ে গেলেও চোট লাগবে না। ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক মানুষও ইচ্ছে হলে নিজ দায়িত্বে এটা অভ‍্যাস করতে পারেন।

এই সেট আপ তৈরি করতে খুব বেশি খরচ হবে না কিন্তু ভালো উপকার পাওয়া যেতে পারে।


1 Comments

  1. উত্তম প্রস্তাব।
    কিন্তু পাড়া-র club-এ আমরা সাপ্তাহিক carrom competition, ত্রৈমাসিক football match, এবং বার্ষিক “পূজা”-অনুষ্ঠান কর্মেই সীমিত থাকিবার প্রচেষ্টা করি।
    অতএব মহাশয়, আপনার প্রস্তাবটি যত্নসহকারে প্রত্যাখান করা হইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *