[এলেক্স লোয়ে’র সাথে কনরাড এংকর। ছবি: ক্রিস নোবেল। সূত্র: www.alexlowe.org]

আমরা জানতাম এই দিনটি আসবেই, কিন্তু কখনোই ভাবিনি এই দিনটি যেদিন আসবে সেদিন কি করব। এলেক্স লো এবং ডেভিড ব্রিজেসের মৃতদেহ তিব্বতে ৮০০০ মিটার উঁচু মাউন্ট শিশাপাংমার হিমবাহে জমাট বাঁধা অবস্থায় খুঁজে পাবার পর তাদের বন্ধু ও দলের অন্যতম সদস্য কনরাড এংকর এভাবেই তাঁর মনোভাব ব্যক্ত করছিলেন। কনরাড বলছিলেন, “আপনি কখনোই জানতে পারবেন না কবে হতে যাচ্ছে, তবে একদিন না একদিন ডাক এসেই যায়, ব্যস এইটুকুই।”

১৯৯৯ সালের ৫ অক্টোবর, শিশাপাংমা থেকে নেমে আসা এক ভয়ানক তুষার ধ্বসে সাদা বরফের রাজ্যে হারিয়ে যান এলেক্স লো এবং ডেভিড ব্রিজেস। ৪০ বছর বয়স্ক লো তাঁর সময়ের সেরা পর্বতারোহী অন্যদিকে ২৯ এ পা দেয়া ব্রিজেস, নবীন হলেও ছিলেন অসাধারণ এথলিট, পর্বতপ্রেমী ও আলোকচিত্রী। সেই দলের অন্যতম সদস্য কনরাড তখন তুষারে মোড়ানো উন্মুক্ত ঢাল ট্রেভার্স করে নেমে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই প্রকৃতির রুদ্ররূপ নিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠে মাউন্ট শিশাপাংমা। অলৌকিক ভাবেই সেদিন প্রাণে বেঁচে যান কনরাড, তুষার ধ্বসের স্রোত থেমে যাবার পর এংকর নিজেকে মুক্ত অবস্থায় পেলেও লোয়ে তুষারের সাদা চাদরে হারিয়ে যান। এংকর শুধু দেখছিলেন তাঁর বন্ধুদের এই বরফ কণার স্রোতের মাঝে হারিয়ে যাওয়া, সেই তার শেষ দেখা।

এই দুর্ঘটনার পর এংকর এলেক্সের তিন পুত্র ম্যাক্স, স্যাম ও আইজাকের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন। পরবর্তীতে এলেক্সের বিধবা স্ত্রী জেনির সাথে প্রেম করে তারা বিয়ে করেন ২০০১ সালে। বিয়ের পরও এংকর জেনির সংসারে এলেক্সের উপস্থিতি কখনোই ভাটা পড়েনি, জেনি তাঁর নামের জেনি লোয়ের অংশের সাথে এংকর জোগ করে পরিচয় নেন জেনি লোয়ে-এংকর হিসেবে।

এপ্রিল ২৯, ২০১৬ তারিখে এলেক্স লো ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বার্তা থেকে জানা যায়, দুই দিন আগের এক দুপুরে জেনি এবং এংকর এমন একটি ফোন পান, যার জন্যে তারা গত সাড়ে ১৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ছিলেন। তিব্বত থেকে আসা ফোনটি করেন ইউরোপের খ্যাতনামা পর্বতারোহী সুইস মেশিন উইলি স্টেক ও জার্মান ডেভিড গোয়েটলার। এই যুগল শিশাপাংমার গোড়ায় অতিরিক্ত উচ্চতার সাথে শরীরকে মানিয়ে নেবার জন্যে প্রস্তুতি নেবার সময় বেজ ক্যাম্পের কাছেই নীল শক্ত বরফের মাঝে দুটি মৃতদেহ দেখতে পান। তাদের দেয়া বর্ননা অনুযায়ী, সেই দুই মৃতদেহের পড়নে থাকা লাল ও নীল রঙের নর্থফেস প্যাক, হলুদ রঙের কফলাক প্লাস্টিক বুট এসব মিলিয়ে এংকর তাদের লো ও ব্রিজেস বলে পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

এলেক্স লো’র প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার জানান, তারা সপরিবারে শিশাপাংপায় যাচ্ছেন। এলেক্স ও ব্রিজেসের বাবা-মা’র ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের স্থানীয় রীতিতে শেষকৃত্য করা হবে। তিনি আরও বলেন, “সাড়ে ষোল বছর ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। এখন সময় এসেছে এলেক্সকে শ্রদ্ধার সাথে বিদায় জানাবার।”

সেই সাথে কনরাড জানান, “সাড়ে ১৬ বছর পর এই খবর টি আমার, জেনিফার ও আমাদের পরিবারের জন্য একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। যা অনেক স্বস্তির ব্যাপার। আমি আশা করব এই সময়টা আমাদের পরিবারকে একটু একা থাকতে দিবে সবাই।”

যদি আপনারা এলেক্স’কে মনে করতে ও শ্রদ্ধা জানাতে চান তাহলে একটু কষ্ট করে এলেক্স লো ফাউন্ডেশন থেকে ঘুরে আসুন।

তথ্য সূত্র: www.alexlowe.org

প্রতিবেদক: মাসুক-উর-রহমান

(Visited 1 times, 1 visits today)

1 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *