নেপালের ধাউলাগিরি অঞ্চলে একটি পর্বত অভিযানের সকল সদস্য ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে নিহত হয়েছেন। 

৯ সদস্যের অভিযাত্রী দলটি ধাউলাগিরি অঞ্চলের ৭১৯৩ মিটার উচ্চতার ‘গুরজা হিমাল’ পর্বতশৃঙ্গ আরোহণকালে দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার ৫ জন ও নেপালের ৪ জন আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে অভিযাত্রী দলটি গুরজা হিমাল পর্বত শৃঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন একটি পথ দিয়ে আরোহণ করার চেষ্টা করছিলেন। দূর্ঘটনার সময় সকল অভিযাত্রী ও তাদের সহায়কেরা বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ভয়াবহ ঝড়ে পাশের পাহাড় থেকে আকস্মিক নেমে আসা বরফ খন্ড ও পাথরের ঢলে তাদের ক্যাম্প পুরোপুরি বিধস্ত হয়ে গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এই অভিযানটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন কিম ছ্যাং-হো। এই অভিযানটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এজেন্সি ‘ট্রেকিং ক্যাম্প নেপাল’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াংচু শেরপার বরাত দিয়ে দ্যা হিমালায়ান টাইমস এর অনলাইন সংস্করণ জানায় গতকাল শুক্রবার থেকে অভিযানের সদস্যদের সাথে কোন ভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই আপদকালীন অবস্থা বিবেচনায় তারা নিকটবর্তী গ্রাম থেকে বেইজক্যাম্পে লোক পাঠায়। তারা গিয়ে ধ্বংসস্তুপ দেখে কাঠমন্ডুতে খবর পাঠালে একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হয়।

 শনিবার সকালে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারী একটি হেলিকপ্টার বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছে যায়। হেলিকপ্টারটির পাইলট সিদ্ধার্থ গুরুং থেকে জানা যায় পুরো বেইজ ক্যাম্প লন্ডভন্ড অবস্থায় ছিল। অভিযাত্রীদের তাঁবু, জিনিসপত্র সব এদিক সেদিক ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় দেখেছেন তারা। সেই সাথে ৮ জন অভিযাত্রীর মৃতদেহ ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে নিখোঁজ সদস্যও দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

আবহাওয়া খারাপ থাকায় ও বরফের ব্লক দিয়ে পুরো জায়গাটি বিপদজনকভাবে ঢাকা থাকায় তারা কোন মৃতদেহকেই উদ্ধার করে আনতে সক্ষম হননি।

নেপালি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, আগামীকাল রবিবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আবারও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হবে। এদিকে নিকটস্থ গ্রাম থেকেও একদল উদ্ধারকারী বেইজ ক্যাম্পের পথে রওনা দিয়েছেন যারা আগামীকাল ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে।

২০১৪ সালে এভারেস্টের খুম্বু আইসফলে ১৬ জন শেরপা ও পরবর্তী বছর ভয়াবহ ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট তুষারধ্বসে বেইজ ক্যাম্পে ১৮ জন আরোহী মারা যাবার পর পর্বতারোহণে এত বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটল।


[তথ্যসূত্র] দা হিমালায়ান টাইমসকাঠমন্ডু পোস্ট
[ছবি] উইকিমিডিয়া কমন্স 

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave A Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *