কোন কিছুর পরিচিতি ও প্রকাশ এই দুই ক্ষেত্রেই ছবি বা আলোকচিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আমাদের মানসপটে পাহাড়-পর্বতের কি সরূপ, কি তার পরিচিতি তার কিছুটা হলেও ‘আলোকচিত্র’ অবশ্যই নির্ধারণ করে। কারণ আমাদের স্মৃতি স্থিরচিত্রকেই সহজে মনে রাখতে পারে। মাঝে মাঝে কোন স্থানের একটি বিশেষ ছবিই হয়ে উঠে পারে সেই স্থানের সমার্থক। আবার অনেক সময় একটি ছবিই সৃষ্টি করে কোন বিশেষ পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে প্রথম আগ্রহের সূত্রপাত। পাহাড়-পর্বতের সেরকম ছবিগুলো নিয়েই অদ্রির ধারাবাহিক আয়োজন ‘একটি জনপ্রিয় ছবির গল্প’। আন্তর্জালে বিভিন্ন সময় পাহাড়-পর্বত নিয়ে প্রকাশিত জনপ্রিয় ছবিগুলোর আলোকচিত্রীকে চেনা ও তার কাছ থেকেই সেই ছবিটি তোলার পেছনের গল্পটি জানা আমাদের এই ধারাবাহিকের উদ্দেশ্য।

এবারে থাকছে ২০০৯ সালে বান্দরবানের তিন্দুতে মাসুদ আনন্দের তোলা একটি ছবির গল্প। প্রকাশের কয়েক বছর পর ছবিটি হঠাৎ আন্তর্জালে দারুনভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে। আন্তর্জালে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রচারণাতেও ছবিটি এখন ব্যবহৃত হয়। তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আলোকচিত্রীর অনুমতি গ্রহণ বা নাম জানার চেষ্টা ব্যতিরেকেই ছবিটি সকলকে ব্যবহার করতে দেখা যায়। আজ আমরা আলোকচিত্রীর ভাষায় সেই ছবিটির পেছনের গল্পই জানব।    



≡  মাসুদ আনন্দ

ছবিটা যে ভ্রমণে তোলা (২০০৯), সেটার ভ্রমণ পরিকল্পনাটা হয় হঠাৎ করেই; চারুকলার সামনে এক আড্ডায়। দু-তিন দিনের ছুটিতে আমরা কয়েকজন ছুটে গিয়েছিলাম বান্দরবানের পাহাড়ি অরণ্যে।

প্রথম দিন ভোরবেলায় বাস থেকে নামলাম বান্দরবান শহরে। সেখান থেকে চান্দের গাড়িতে থানচি। থানচি থেকে আবার নৌকায় তিন্দুতে রাত্রি যাপন করি। দ্বিতীয় দিনে আমাদের পরিকল্পনায় ছিল তিন্দু বড় পাথর হয়ে সাঙ্গু পার হবো। সকাল ৮ টার মধ্যে তিন্দু বাজার থেকে রওনা দিয়ে বড় পাথর চলে আসলাম।

এই ট্রিপে আমরা ছিলাম মোট ৫  জন। বাবু ভাই, কামরুল, শরীফ, সাইকেল শরীফ আর আমি। টিম লিডার বাবু ভাইয়ের নির্দেশ মতো বড় পাথরের কাছে নৌকা ভিড়ানো হল। রিভার ক্রসিং চর্চার জন্য প্রয়োজনীয় গিয়ার আমাদের সাথেই ছিল। যাবতীয় গিয়ার নৌকা থেকে নামিয়ে নিদির্ষ্ট স্থানে রাখা হল। রোপ ফিক্স করার জন্য বাবু ভাই নৌকা নিয়ে নদীর অপর পাড়ে চলে গেলেন, আর এপারের রোপ ফিক্স করার দায়িত্বটা আমি নিয়ে নেই। ক্রসিং রোপ লাগাবার জন্য দড়ি নিয়ে আমি একটা পাথড়ের উপর উঠেছিলাম।

পাথরের উপর উঠায়  তিন্দু-বড়পাথরের ভিউটা বেশ সুন্দর দেখাচ্ছিল। সম্ভবত সেদিন ছিল থানচি বাজারের দিন, রেমাক্রির দিক থেকে অনেক পাহাড়ি মানুষ তাঁদের বিভিন্ন দ্রব্য বিক্রি করার জন্য নৌকা নিয়ে থানচির দিকে যাচ্ছিল। আমি দূর থেকে ছবির সেই নৌকাটিকে আসতে দেখি। সিদ্ধান্ত নেই ছবি তুলবো। যা ভেবেছি সেই মতো ক্যামেরা হাতে নিয়ে প্রস্তুত। নৌকাটি ক্যামেরার ফ্রেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে একের পর এক ক্যামেরার সাটার। ফ্রেম থেকে নৌকা বের হয়ে যাবার পর বন্ধ হয় সাটার। আমার ঝোলায় জমা হয়ে যায় সুন্দর একটা ছবি।

এখন অনেকে হয়ত অনুমতি না নিয়ে অনেক জায়গায় এই ছবিটি ব্যবহার করে, কিন্তু তাতে আমার খুব একটা খারাপ লাগে না। ভেতরে ভেতরে পুলকীত হই এই ভেবে, আমার সৃষ্টি অনেককে আনন্দ দিচ্ছে।


One Comment on “একটি জনপ্রিয় ছবির গল্প”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *