গ্রন্থ: দ্য ন্যাকেড মাউন্টেইন


পর্বতারোহণ একটা নেশা, তীব্র নেশা। যার উৎপত্তি, অনুভূতি, আর উপসংহার-যে পর্বতারোহণ করে সে ছাড়া অন্য কেউ কখনও জানতে পারে না। ১৯৭০ সালে যে রেইনহোল্ড মেসনার নাঙ্গা পর্বতের তৎকালীন সম্পূর্ণ অপরিচিত রুট ডায়ামির ফেস থেকে মৃত্যু সাথে করে নেমেছিলেন; বলেছিলেন, ‘এই অভিযানে আমি আমার জীবন ছাড়া বাকি সবকিছু হারিয়েছি। এটাই বোধহয় আমার পর্বতারোহণ জীবনের পরিসমাপ্তি।’ সেই মেসনারই ১৯৭৮ সালে আবার ফিরে গেছেন নাঙ্গা পর্বতে। সোলো ক্লাইম্বিং করে পৌঁছেছেন চূড়ায়।

কিসের নেশায়? কিসের নেশায় মৃত্যুকে সাথে নিয়ে ছুটে চলেছেন এক পর্বত থেকে আরেক পর্বতে?



পাওয়া যাচ্ছে অদ্রিতে। যোগাযোগ: ০১৯৬৬৭৮৪১৮১


একসময় প্রচন্ড রকমের থ্রিলার বইয়ে আসক্ত ছিলাম। কিন্তু মেসনারের লেখা ‘দ্য ন্যাকেড মাউন্টেইন’ পড়ার পরে কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম। প্রতিটা পৃষ্ঠা জুড়ে, উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর প্রবল আকর্ষণ। কি হয়েছিল সেই ১৯৭০ সালের নাঙ্গা পর্বত অভিযানে? পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত ফেস ৪৫০০ মিটারের রুপাল ফেসের উপরে? যেখানে মেসনার ভ্রাতৃদ্বয় নাঙ্গা পর্বত অবরোহণে মৃত্যুর মুখোমুখি। সাথে নেই কোন খাবার, পানি, তাবু, স্লিপিং ব্যাগ, এমনকি দড়িও।

হ্যালুসিনেশনে আক্রান্ত অনুজ গুনথার। ডেথজোনের সেই ৭৯০০ মিটারে, যেখানে কেউ কারো নয়, যেখানে সহযাত্রী পিটার আর ফেলিক্সরাও মুখ ফিরিয়ে নেয় নিজের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে। কিন্তু সকল বাঁধা বিপত্তিকে ঠেলে সম্পূর্ণ অপরিচিত, কঠিনতম রুট ধরে নেমে আসতে শুরু করলেন তারা। ভয়ংকর তুষারধ্বসে করুণ পরিণতি জুটল গুনথারের ভাগ্যে। তারপর? এই বইটি মূলত রেইনহোল্ড মেসনার ও তার ভাই গুনথারের করুণ পরিণতির প্রতিচ্ছবি। রেইনহোল্ড আর গুনথারের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জুটির রসায়ন বর্ণনায় ভরপুর এই বই।

মেসনার তার ছোট ভাইয়ের অদম্য সাহস আর প্রবল ইচ্ছা শক্তির বর্ণনা দিয়েছেন। অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বর্ণনা দিয়েছেন প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি পরিকল্পনার। অভিযানের অধিনায়কের পক্ষপাতদুষ্ট ভুল সিদ্ধান্তেরও ব্যবচ্ছেদ করেছেন নির্বিকারভাবে। ডায়ামির ভ্যালীর সেই অপরিচিত জনপদের মানুষের সহযোগিতার সাথে তিক্ততার অনুভূতিও প্রকাশ করেছেন ব্যথিত হৃদয়ে। তাদের দুই ভাইয়ের ডায়েরীর পাতা, ব্যক্তিগত চিঠি, সহযাত্রীদের মন্তব্য আর প্রয়োজনীয় তথ্য-ছবির সংগ্রহ বইটিকে করে তুলেছে আরও চিত্তাকর্ষক। কিন্তু বইয়ের সারবস্তু যে ট্রাজেডি তার প্রতিফলন ঘটে মেসনারের মন্তব্যে, (যখন তিনি হ্যালুসিনেশনে ভুগছিলেন) ‘যখন আমি হাঁটছিলাম আমি আমার মা কে দেখতে পাচ্ছি। তিনি রান্নাঘরে, আমার ভাই বাগানে। তারপর আবার আমার মা। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। কিন্তু গুনথার? সে কি শুধু অদৃশ্য হয়ে গেল? না, এটা কখনই হতে পারে না।’


বই সম্পর্কিত তথ্যাবলী

নাম: দ্য ন্যাকেড মাউন্টেন
লেখক: রেইনহোল্ড মেসনার
প্রকাশনী: দ্য ক্রোউড প্রেস লিমিটেড, ইউ কে
প্রকাশকাল: ২০ জুন, ২০০৫


 

(Visited 1 times, 1 visits today)
সোয়াইব সাফি
সোয়াইব সাফি
প্রচন্ড রকমের অন্তর্মূখী, নিজের ছোট্ট জগতে সারাদিন শুয়ে শুয়ে বই পড়া ও কোড করার ফাঁকে একটু অবসর পেলেই পাহাড়ে ছুটে যান; জীবনের অর্থ খুঁজতে। পর্বতারোহনকে জীবন দর্শন মনে করেন। জীবনের শেষ কটা দিন সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাহাড়ে ছোট্ট বাড়ি আর একটি লাইব্রেরীর মাঝে কাটিয়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখেন।

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)