নন্দা দেবী রহস্য

ছবি [এ. আর. সোহেল ভূঁইয়া]


১৬ অক্টোবর ১৯৬৪

পিপলস রিপাবলিক অফ চায়নার চেয়ারম্যান মাও সে তুং  আজ বড্ড উত্তেজিত হয়ে আছেন। কিন্তু নিজের স্বভাব মতই গম্ভীর হয়ে তার সামনের বড় টিভি পর্দার দিকে তাকিয়ে আছেন। সব ঠিকঠাক থাকলে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই চায়না বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। কিছুক্ষণের মধ্যে উল্টো কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেল… দশ… নয়… আট… তিন… দুই… এক। তাকলামাকান ও কুমতাগ মরুভূমির মাঝে দূরহ প্রাকৃতিক প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ‘নপ নর’ নিউক্লিয়ার টেস্ট বেইজে সফলভাবে বিস্ফোরিত হল চায়নার প্রথম পারমানবিক বোমা।

চায়নার পারমানবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় সবচেয়ে অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যায় আমেরিকা। কোড-৫৯৬ নামে পরিচিত চায়নার এই পারমানবিক পরীক্ষা সম্পর্কে আগাম কোন গোয়েন্দা তথ্য জানতে না পারায় সকলের মাথায় চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়। তখন পর্যন্ত  গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার মত স্যাটেলাইট সিস্টেম ততটা কার্যকরী হয়ে উঠেনি। সরকারের উচ্চ মহল থেকে যেকোন উপায়ে চায়নার গুপ্ত পারমানবিক কার্যক্রমের উপর খবরদারি করার একটি কার্যকরী স্পাই নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য সিআইএ কে কঠিনভাবে নির্দেশ দেয়া হল।

যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৬৪

আগের বছর আমেরিকা থেকে প্রথমবারের মত এভারেস্ট আরোহণ করা দলের সদস্য বিখ্যাত ফটোগ্রাফার ও পর্বতারোহী ব্যারি বিশপ সম্প্রতি হিমালয় থেকে দেশে ফিরেছে। দেশে ফিরেই বন্ধুর দাওয়াত তার বাড়িতে। ইউ এস এয়ারফোর্সের চিফ অফ স্টাফ কার্টিস লিমে হিমালয়ের গল্প শোনার জন্য নিজের বাসায় দাওয়াত করেছে তাকে।

বিয়ারের বোতলে চুমুক দিয়ে হিমালয়ের অবাক করা সৌন্দর্যের কথা বলা শুরু করল বিশপ। সেখানকার মানুষ, তাদের সহজ সরল জীবনযাত্রা, হিমালয়ের সুউচ্চ চূড়া থেকে পশ্চিম তিব্বতের বিস্তৃর্ণ মালভূমিকে যে কতটা অদ্ভুত আর সুন্দর দেখায় এসবই একমনে বলে যাচ্ছিল বিশপ।

গল্প শুনার মাঝেই হঠাৎ করে লিমের মাথায় যেন কিছু একটা খেলে গেল। তড়াক করে লাফিয়ে উঠে ফোনের দিকে ছুটল সে। ফোন করতে হবে তাকে পেন্টাগনে। বিশপের গল্পে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু খুঁজে পেয়েছে লিমে যা এই মুহূর্তে জানাতে হবে কর্তৃপক্ষকে। অন্যমনষ্ক হয়ে লিমে ফিরে এলে তাদের আড্ডাটা আর জমলো না। ব্যারি বিশপ তখনও কিছু বুঝে উঠতে পারেনি কি হচ্ছে। সে কিঞ্চিৎ অবাক আর বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে রইল তার উদভ্রান্ত বন্ধুটির দিকে। বিশপের সাথে সাথে পৃথিবীর কেউ তখনও জানেনা কি হতে যাচ্ছে আর কিছুদিন পর!

ইন্ডিয়া, ১৯৬৫

নিজের অফিসে বসে কাজে মন বসানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিল ইন্ডিয়ান নেভীর অফিসার মনমোহন সিং কোহলি। আর কিছুদিন পরেই সে ৯ জনের একটি দলকে নিয়ে এভারেস্ট অভিযানে যাবে। এর আগে দুইবার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারেই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে ভারতীয় অভিযাত্রীদের। আগের দুটি অভিযানেও কোহলি ছিল। কিন্তু দলনেতার গুরুদায়িত্ব নিয়ে এবারই প্রথম সে অভিযানে যাচ্ছে।

মাথার মধ্যে নানারকম চিন্তাভাবনা ঘুরে চলেছে তার। আসন্ন অভিযানের কথা ভাবতেই সারা শরীরে অদ্ভুত শিহরণ বয়ে যাচ্ছে কোহলীর। একদিকে মৃত্যুভয়, বিপদের শঙ্কা অন্যদিকে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখানোর এমন সুযোগ-সবমিলিয়ে মিশ্র একটা অনুভূতিতে ছেঁয়ে আছে তার মন ও মস্তিষ্ক। দরজায় টোকা পড়তেই চিন্তায় ছেদ পড়ল কোহলির। মাথা তুলেই দেখতে পেল আমেরিকার বিখ্যাত পর্বতারোহী ব্যারি বিশপ দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। কুশল বিনিময় শেষ হলে সরাসরি কাজের কথা পাড়ল ব্যারি।

সিকিমের জেমু গ্লেসিয়ারে কোহলিকে নিয়ে যেতে চায় ব্যারি। শুনে একপ্রকার অবাকই হল কোহলি। কারণ বিশপের জানার কথা কোহলির আসন্ন এভারেস্ট এক্সপেডিশনের কথা এবং তার এটাও ভাবা উচিত এক্সপেডিশনটা কোহলি এবং তার দেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর সবথেকে বড় কথা ব্যারি বিশপ নিজেই একজন বড় মাপের মাউন্টেনিয়ার। সে যদি সিকিম যেতেই চায়, সে সরাসরি আই এম এফ (ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফেডারেশন)-এ গিয়ে কথা বললেই পারত। তার সাথে কথা বলার কারণ কি! কোহলির কি যেন সন্দেহ হয়। সে সিদ্ধান্ত নেয় বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর। ইন্ডিয়ান ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কর্মকর্তা ভোলা নাথ মল্লিককে সে বিষয়টি জানায় এবং ব্যারির উপর নজর রাখার জন্য অনুরোধ করে। কোহলির খটকা লাগে এই ভেবে যে তাকে কেন সিকিমে যাওয়ার কথা বলা হবে যা কিনা চিন এবং ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল। মাত্র তিন বছর আগে ইন্দো-চিনের যুদ্ধ ও নিয়মিত গণ্ডগোল হওয়া একটি সীমান্তে একজন আমেরিকানের যাওয়ার ব্যাপারটা শুনে কোহলির মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। কিন্তু একটি গভীর ষড়যন্ত্রের সে যে একটি গুরুত্বপূর্ণ গুটি হতে যাচ্ছে সেই ব্যাপারে ঘুনাক্ষরেও কোন সন্দেহ তার মনে জাগে নি।

জুন, ১৯৬৫

পালাম এয়ারপোর্ট, দিল্লি।

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাত্র পালাম এয়ারপোর্টের মাটি ছুঁল। টারমাক লোকে লোকারণ্য। সবাই এসেছে ভারতের প্রথম সফল এভারেস্ট অভিযানের দলটিকে স্বাগত জানাতে। প্লেন থেকে বের হওয়া মাত্রই তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনির শব্দ কানে এসে যেন ধাক্কা মারল কোহলীর। চতুর্থতম দেশ হিসেবে অবশেষে ভারতের নাম লিখাতে পেরেছে তারা এভারেস্ট শিখরে। এক্সপেডিশনটিকে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছিল সে। এখন সময় এসেছে সাফল্যটিকে উপভোগ করার। হাতে অফুরন্ত সময় তার এখন, অনেক ছুটি পাওনা রয়েছে তার। প্লেনের সিঁড়ি দিয়ে তুমুল করতালির মধ্যে দিয়ে নামতে নামতে এসব কথাই ভাবছিল কোহলি।

শক্ত পিচে পা রাখা মাত্র একজন অফিসার কাছে এসে তাকে প্লেনের পিছন দিকটায় যেতে বলল। ওখানে উর্দ্ধতন কেউ একজন তার জন্যে অপেক্ষা করছে। কোহলি ভাবছিল হয়তো কেউ তাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্যে ডেকেছে। কিন্তু তখনও সে ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি কত বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে তার জন্য!

শক্ত বাধানো টারমাকের উপর দিয়ে দ্রুত পায়ে প্লেনের পিছন দিকে এগিয়ে গেল কোহলি। এভিয়েশন রিসার্চ সেন্টার বা ‘আর্ক’- এর ফার্স্ট ডিরেক্টর রামেশ্বর নাথকে সেখানে দেখতে পেয়ে কোহলি ভাবছিল হয়তো তাকে বাহবা দেবার জন্যই এখানে তাকে ডেকেছেন তিনি। কিন্তু সবকিছু যেন নিমিষেই বদলে গেল! রামেস্বর নাথ গম্ভীর হয়ে কোহলিকে জানাল এখন উল্লাস করার মত সময় নেই। তার জন্যে নতুন একটা মিশন অপেক্ষা করছে! আর এবারের মিশনটি অত্যন্ত গোপনীয় ও রাস্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কোন কাকপক্ষীও যেন ঘুরাক্ষরেও কিছু টের না পায় আসন্ন মিশন সম্পর্কে।

এয়ারপোর্ট থেকে কোহলিকে নিয়ে সোজা হেডকোয়ার্টারে ফিরে গেলেন রামেশ্বর নাথ। এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কয়েক ঘণ্টা ব্রিফিং দেয়া হল তাকে। তার কাঁধে পড়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সি আই এ এবং ইন্ডিয়ান ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো একসাথে একটি মিশন হাতে নিয়েছে এবং মিশনটির দলনেতা বানানো হয়েছে কোহলিকে। ভারতের প্রতিবেশি দেশ চিনের পারমানবিক দূরভিসন্ধির উপর নজরদারি করার জন্যে একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। কোহলি এবং তার এলিট পর্বতারোহী টিমকে এই যন্ত্রটিই নিয়ে যেতে হবে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায়।

তিনবছর আগে ইন্দো-চিন যুদ্ধে ভারতের লজ্জাজনক পরাজয় আবার এদিকে স্নায়ু যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং প্রাচ্যে চিনের প্রভাব- এসকল বিভিন্ন কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এই গোপন মিশনে অংশীদার হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

গল্পের শুরুটা হয়েছিল ১৯৬৪ সালে ব্যারি এবং লিমের সেই আলাপের মাধ্যমে। ব্যারির মুখে তিব্বতের মালভূমির কথা শুনে লিমের মাথায় খেলে যায় চিনের উপর নজরদারির বিষয়টি। তখনই ফোন করে জানায় সে কর্তৃপক্ষকে। মিশনের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইএ কে। ব্যারির উপরে দায়িত্ব এসে পড়ে অভিযানের জন্য দল নির্বাচন করার। এদিকে ইন্ডিয়া থেকে কোহলির টিমের এভারেস্ট এক্সপেডিশন সফল হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তার ও তার দলের নাম উঠে আসে এই মিশনে।

কোহলিদের অল্প কিছুদিন সময় দেয়া হয় এভারেস্ট থেকে ফিরে খানিকটা বিশ্রাম নেয়ার জন্য। দলের সকলে আরও কিছু সময় চাইলেও তা তাদের কেউই পায়নি। ডিফেন্সের কঠোর নিয়মতান্ত্রিকতায় কর্তৃপক্ষের সকল সিদ্ধান্তে রাজি হওয়া ছাড়া আসলে আর কিছুই করার ছিল না। তাদের তখনও একপ্রকার অন্ধকারেই রাখা হয়েছিল মিশনের বিস্তারিত কাজ সম্পর্কে। তারা কেবল জানত ‘কিছু’ একটা নিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায় স্থাপন করতে হবে। জানতনা সেই ‘কিছু’ একটা থেকে তাদের কি ভয়ানক ধরনের বিপদ আসতে পারে! তাদের যে  একটি নিউক্লিয়ার পাওয়ারড ডিভাইস পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ চূড়ায় স্থাপন করতে হবে তা তারা তখনও জানতনা।

টিমের সকলের জন্য পাসপোর্ট-ভিসা সবকিছু তৈরি ছিল। সিআইএ’র বিশেষ চার্টার্ড বিমানে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সেখান থেকে কোহলি এবং দলের বাকি সবাই চলে যায় আলাস্কায়।

আমেরিকা এবং ইন্ডিয়ার বাছাই করা কিছু ক্লাইম্বারদের নিয়ে শুরু হয় কঠোর অনুশীলন। টিম বিল্ডিং এক্সারসাইজ হিসেবে দুই দেশের সকল সদস্য মিলে মাউন্ট ম্যাককিনলে (ডেনালি) চূড়ায় আরোহণ শুরু করে। সেখানেই কোহলি প্রথম দেখতে পায় সেই ‘কিছু’ একটার একটি রেপ্লিকাকে। টুকরো টুকরো যন্ত্রপাতিগুলো সম্পূর্ণ জোড়া লাগাতে সবার এক ঘন্টার বেশি লেগে যায়। কোহলি বুঝতে পারে এই প্ল্যানে অনেক বড় কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর আছে। বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে বেশ কিছু ব্যাপার। যন্ত্রপাতিগুলি ছিল অনেক ভারি এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার উপরে বাতাস খুবই পাতলা। এই অতিরিক্ত ওজন বহন করা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। আবার সম্পূর্ণ কাজটি করতে প্রায় ঘণ্টাখানেক লেগে যাচ্ছে। কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায় এক ঘন্টা অতিরিক্ত কাটানো মৃত্যুর নামান্তর হয়ে দাঁড়াবে!

দেশে ফিরেই কোহলি কর্তৃপক্ষের কাছে সব পরিষ্কার করে রিপোর্ট জমা দেয়। সবদিক বিবেচনা করে অনেক আলোচনা-পর্যালোচনার পর কাঞ্চনজঙ্ঘাকে মিশন থেকে বাদ দেয়া হয়। কিন্তু এখন কোন চূড়ায় স্থাপন করা হবে সেন্সরটিকে? একের পর এক আসতে থাকে আরো অনেক পর্বতচূড়ার নাম। সবশেষে আমেরিকানদের সাথে আলোচনা করে দুই পক্ষ মিলে সেন্সরটি বসানোর জন্য পবিত্র চূড়া নন্দা দেবীকে ঠিক করা হয়।

পর্বতারোহী মাত্রই জানে নন্দা দেবী কতটা দুরূহ একটি পর্বত। কোহলিও তার ব্যতিক্রম নন। সে ভাল করে জানে চিন সীমান্তের ৭৮১৬ মিটারের এই পর্বতটি মানুষের ধৈর্যের ও কষ্টের চরমতম পরীক্ষা নিতে পারে! এর চূড়ায় ওঠা তো অনেক পরের ব্যাপার! পর্বতটির পাদদেশে পৌঁছানোর জন্যও কঠিন অধ্যবসায় প্রয়োজন। নন্দা দেবী পর্বতচূড়াটিকে চারপাশ থেকে আরো বেশ কিছু দুরূহ পর্বত দূর্গের মত ঘিরে রয়েছে। যা এই পর্বতটির পাদদেশে পৌঁছানো আরও বেশি কঠিন করে দেয়। নন্দা দেবীর কাছে পৌঁছানোর একমাত্র সম্ভাব্য পথ হল রিশি গঙ্গা গিরিসংকট যার পথ লতা নামক এক গ্রাম থেকে শুরু হয়।

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অফিস ঘরে বসেও কোহলির কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। অন্যসব রিস্ক ফ্যাক্টরের সাথে কোহলি ভাবছিল রিশি গঙ্গা গর্জের একেবারে খাড়া ও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ঢালটির কথা। পুরো মিশনে এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে তাদের জন্য। তার উপরে রয়েছে নন্দা দেবীর মিথের ব্যাপারগুলো। নন্দা দেবী পর্বতটিকে স্থানীয়রা দেবী হিসেবে পূজা করে। বেশ কয়েকটি মন্দিরও রয়েছে পর্বতটিকে উৎসর্গ করে। ধর্মীয় মতে, এই পর্বতে আরোহণ করা পর্বতটিকে অপবিত্র করার নামান্তর। এমন একটি অভিযানে যাবার মত পর্যাপ্ত কুলি পাওয়া যাবে কি?

এভারেস্ট অভিযানের ক্লান্তি, রহস্যময় এই অভিযান সফল করার গুরুদায়িত্ব, অগুনিত অনিশ্চয়তা-সবমিলিয়ে এই অভিযানটি কোহলির কাছে আক্ষরিক অর্থেই দুঃস্বপ্নের মত মনে হতে লাগল। এদিকে ইন্দো-পাক যুদ্ধ তখন চরমে। প্রায় প্রতিদিনই খবর বা গুজব আসতে থাকে অভিযাত্রীদের কানে যে পাকিস্তানী প্যারাট্রুপাররা নন্দা দেবী পর্বতের ঐ অঞ্চলটায় নামছে! এ এমন এক মিশনের দায়িত্ব পড়েছে কোহলির কাঁধে, যেখানে রিস্ক ফ্যাক্টরের যেন কোন শেষ নাই! কিন্তু রক্তে যার পর্বতারোহণ রয়েছে কোন কিছুতে সে দমবার পাত্র নয়। এ যেন এক ভয়ংকর নেশা! প্রতি মুহূর্তে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াই এখানে। কঠিন এই অভিযানের জন্য কোহলি নিজেকে তৈরি করতে লাগল।

অগাস্ট, ১৯৬৫

সিআইএ’র বিশেষ বিমানে আমেরিকান দলটি ইন্ডিয়া এসে পৌঁছাল। নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার খাতিরে স্বাভাবিকভাবেই দলের প্রতিটি সদস্যের নাম-পরিচয়, পেশা এমনকি বসবাসের ঠিকানাও ভিন্ন ছিল। তাদের কেউই ভারতে অবস্থানকালীন সময়ে তাদের আসল নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি। মনসুন শেষ হয়ে এলে কোহলীর নেতৃত্বে সবাই নন্দা দেবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। রাশিয়ার তৈরী একটি হেলিকপ্টারে করে সমস্ত সাজসরঞ্জাম ও অভিযানের সকল সদস্য ভারতের উত্তরাখন্ডের চামোলি জেলার গৌচারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত একটি এয়ারফিল্ডে ল্যান্ড করে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করেই তাদের নন্দা দেবী স্যাংচুয়ারির মধ্যে নামিয়ে দেয়া হয়। ইয়শুরু হয় মূল অভিযান

সবাই নিরাপদেই নন্দা দেবীর পাদদেশে পৌছে গেল। বেজ ক্যাম্প সেট করে কোহলী সিদ্ধান্ত নিল আরো উপরে উঠার। শুরু হল দীর্ঘ বিপদসংকুল এক অভিযাত্রা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য সবাইকে নির্দিষ্ট উচ্চতা পর পর থামতে হবেই। এতে অনেক সময় চলে যাচ্ছিল। আবার এই বছরের ক্লাইম্বিং সিজন শেষ হতেও খুব বেশিদিন ছিল না আর।

কষ্টকর এই অভিযানে সবাই যার যার রসদ সে নিজেই বহন করছিল। মিশনের ব্যাপারে যত কম মানুষ জানবে ততই ভাল। এ কারণে তেমন কোন শেরপা বা পোর্টার রাখা হয়নি। কেবল যে সেন্সরটি স্থাপন করার জন্য এই কষ্টকর অভিযান, সেটির জেনারেটরটি বহন করার জন্য কিছু শেরপাকে নেয়া হয়েছিল।

জেনারেটরটি ছিল নিউক্লিয়ার পাওয়ারড। ফুয়েল হিসেবে এতে ছিল রেডিও একটিভ প্লুটোনিয়াম রড। একবার বসানো হলে জেনারেটরটি টানা দুইবছর ধরে চল্লিশ ওয়াটের সমতুল্য পাওয়ার সাপ্লাই দিয়ে যাবে। অফিসিয়ালি এর একটি বেশ গালভরা নাম ছিল- SNAP 19C (System for Nuclear Auxiliary Power)

রেডিও একটিভ প্লুটোনিয়াম তার নিজস্ব ধর্ম বজায় রেখে অবিরাম তাপ নির্গত করতে থাকে এবং যারা এটি বহন করত তারা একপ্রকার স্বস্তি নিয়েই কাজটি করত এটা থেকে নির্গত তাপের কারণে। কিন্তু সহজ সাধারন মনের শেরপারা জানতও না তারা যেটা পিঠে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে, এরই জাতভাই হিরোশিমাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। শেরপারা না জানলেও এই পরিকল্পনা যাদের মাথা থেকে বের হয়েছে তারা ঠিকই জানত। যে কারণে তারা অভিযাত্রি দলের সবাইকে সাদা রঙের একটুকরো কাপড়ের মত গাইগার ফেব্রিক দিয়েছিল যা সবাই নিজ নিজ জামায় লাগিয়ে রাখত। এটি ছিল একধরনের নির্দেশক। কোনপ্রকার রেডিয়েশন লিকেজ হলে সাথে সাথে টুকরোটি রঙ পরিবর্তন করে ফেলবে। যদিও কোহলীর কড়া আদেশ ছিল কেউ যেন জেনারেটরটি টানা চার ঘন্টার উপর এক নাগাড়ে বহন না করে।

দীর্ঘ কষ্টকর ও মৃত্যুসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে কোহলী ও তার দল ১৮ অক্টোবর নন্দা দেবীর চব্বিশ হাজার ফুট উচ্চতায় তাদের ক্যাম্প ফোর স্থাপন করে। আর এক-দেড় হাজার ফুট উঠলেই অর্ধেক কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপর শুধু সেন্সরটি জায়গামত বসিয়ে আরো একটি সফল অভিযান শেষ করে তারা সকলে বাড়ির পথ ধরতে পারবে। দীর্ঘদিন পর অবশেষে হয়ত মিলবে কাঙ্খিত বিশ্রাম।

কিন্তু তাদের নিয়ে প্রকৃতিমাতার বোধহয় ভিন্ন ইচ্ছা ছিল । এতদিনের সুন্দর ঝকঝকে আবহাওয়া যেন চোখের পলকে কোন এক অদৃশ্য ইশারায় মুহুর্তের মধ্যে বদলে গেল। মেঘমুক্ত ঝকঝকে নীল আকাশ নিমিষেই ঢেকে গেল ভয়ঙ্কর কালো মেঘে। সেইসাথে শুরু হল প্রলঙ্কারী তুষারঝড়।

কোহলী ও তার দল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চব্বিশ হাজার ফুট উপরে রয়েছে। এই উচ্চতায় সামান্য ঝুঁকিও মৃত্যু ডেকে আনবে যেকোন সময়। দলনেতা হিসেবে কোহলী যাই করুক তা তাকে অনেক ভেবে চিন্তে করতে হবে। তার সামনে এখন দুইটি পথ খোলা রয়েছে। হয় সবার ও নিজের জীবনের পরোয়া না করে সামনে এগিয়ে যাওয়া নয়তো প্রাণ বাঁচাতে নিচে নামতে শুরু করা। এই উচ্চতায় আবহাওয়ার মতিগতি সম্পর্কে কেউ কখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনা। এরকম ভয়াবহ ব্লিজার্ডের মধ্যে সামিট পুশ দেয়া আর নিজ হাতে নিজের কবর খোঁড়া একই কথা। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেয়া যায় যে তার টিম সামিট করে সেন্সরটি স্থাপন করতে পারবে, তাও এই পরিস্থিতিতে তারা সবাই নিচে নিরাপদে নেমে আসতে পারবে না। আর তার ফলাফল হবে নিশ্চিত মৃত্যু।

অনেক চিন্তা করে কোহলী এই অভিযান বাতিল করে দিল। তার কাছে অভিযানের থেকে মানুষের জীবনের মূল্য বেশি। সবদিক বিবেচনা করে কোহলী জেনারেটর এবং বাকি যন্ত্রপাতি সবকিছু ক্যাম্প ফোরেই রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। এই তেজষ্ক্রিয় পারমাণবিক বোমাটি ঘাড়ে করে শুধু শুধু টেনে নিচে নামানোর কোন অর্থ নেই। ঠিক হল সামনে সিজনে আবার এসে সব ঠিক করবে তারা। যন্ত্রটি স্থাপন করবে নন্দা দেবীর চূড়ায়।  কিন্তু কোহলী যদি সেদিন জানত সামনে সিজনে তাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে, তাহলে হয়তো এই সিদ্ধান্তটা সে নিত না!

দেহরাদুন,  সাল ১৯৬৬

পরের বছর নন্দা দেবীর অসম্পূর্ণ মিশনের ভার আবারও এসে পড়ে কোহলির উপর। গতবারের সদস্যদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে নিয়ে কোহলি ছোট একটি টিম গঠন করে। তবে এবার টিমে নতুন সদস্য বলতে কেবল একজন আমেরিকান নিউক্লিয়ার এক্সপার্ট রয়েছে। গতবছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে ইন্ডিয়া ও আমেরিকা এটা বেশ ভালভাবেই বুঝে গিয়েছিল যে নন্দা দেবী ক্লাইম্ব করা শুধু যে কঠিন তা নয়, এটি খুব বেশি বিপদজ্জনক। তারা এটাও বুঝতে পেরেছিল যে সেন্সরটি তারা অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার কোন পর্বতচূড়ায় বসিয়েও তাদের স্বার্থ হাসিল করতে পারবে। কোহলির এবারের মিশনটি ছিল তাই সেন্সর ও জেনারেটরটি নন্দা দেবীর উপরে ক্যাম্প ফোর থেকে নামিয়ে এনে পাশের আরেকটি অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার পর্বত নন্দা কোট চূড়ায় স্থাপন করা।

বেইজক্যাম্প পর্যন্ত নতুন মিশনটি কোহলি ও তার টিমের জন্য তেমন কঠিন কিছু ছিল না ছিল। কিন্তু কোহলির পুরো দুনিয়া বদলে গেল ক্যাম্প ফোরে পৌঁছানোর পর। ক্যাম্প ফোরে পৌঁছে কোহলি হতভম্ব হয়ে দেখল ডিভাইসগুলো যেখানে তারা যত্ন করে নিরাপদে রেখে গিয়েছিল, সেখানে সেগুলি নেই! আশপাশের সমস্ত এলাকা তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও কিছুই পাওয়া গেল না! এত বড় বড় যন্ত্রপাতিগুলো যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।  এই নিয়ে কেউ টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করল না। এই খবরটি যদি মিডিয়ায় চলে যায় তাহলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। তাই উপর মহল থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছিল। এই অভিওযানের প্রতিটি সদস্য প্রচণ্ড রকম মানসিক চাপে ভুগতে লাগল। অজানা এক আশংকায় প্রত্যকে ভয় পেয়ে গিয়েছিল।

এদিকে আমেরিকা হাতে হাত রেখে বসে ছিল না। একটি নিউক্লিয়ার ডিভাইস হারিয়ে যাবার পরেও চায়নার উপর খবরদারি করার উচ্চাভিলাষী এই পরিকল্পনা থেকে তারা সরে আসেনি। বরং তাদের প্রথম উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও ঠিক তার পরের বছর অর্থাৎ ৬৭ সালে আরেকটি নিউক্লিয়ার পাওয়ারড সেন্সর ডিভাইস ভারতে নিয়ে যায় নদা দেবীর পাশের চূড়া নন্দা কোটে বসানোর জন্য। কোহলি এবং আরো কিছু ভারতীয় পর্বতারোহীর সহায়তায় তারা এবার সফলভাবেই তাদের ডিভাইসটি বসিয়ে আসে মাউন্ট নন্দা কোটের চূড়ায়। কিন্তু তারা এই নজরদারি বেশিদিন বজায় রাখতে পারেনি। বিভিন্ন কারণে এক বছর পরেই ১৯৬৮ সালে আমেরিকা আবারও ভারতের সহায়তায় ডিভাইসটি ফিরিয়ে আনতে যায়। ভারতীয় পর্বতারোহী এইচ.সি.এস. রাওয়াতের নেতৃত্বে টিমটি নন্দা কোটের চূড়ায় পৌঁছে এমন এক দৃশ্য দেখতে পায় যা দেখার জন্যে দলের সদস্যদের কেউ প্রস্তুত ছিল না।

যেখানে তারা যন্ত্রটি স্থাপন করে গিয়েছিল, সেখানে গিয়ে সবাই দেখল যন্ত্রটির কিছুই সেখানে নেই। এ যেন ৬৬ সালের অভিযান নতুন করে ফিরে আসল! তবে উপর থেকে দেখে রাওয়াতের মনে হচ্ছিল ডিভাইসটা হয়তো বরফের নিচে চলে গিয়েছে। কয়েক ফিট বরফ খুড়তেই এক অবিশ্বাস্য দৃশ্যের দেখা পেল সবাই। দেখে মনে হচ্ছিল নন্দা কোটের গম্বুজ আকৃতির চূড়ায় জমে থাকা বরফের মধ্যে কেউ যেন নিখুঁত পরিমাপে গোল একটি গুহা সদৃশ তৈরি করে রেখেছে। আর সেই বৃত্তাকার গুহার কেন্দ্রে যেন সম্রাটের মত বসে রয়েছে উত্তপ্ত জেনারেটরটি। জেনারেটর থেকে অবিরাম নির্গত হওয়া তাপের কারণে চারিদিকের ৮ ফিট বরফ গলে নিঁখুত একটি গোলকের আকৃতি নিয়েছে। তারা গুহাটির সুন্দর একটি নাম দিয়ে দিল- ‘ক্যাথেড্রাল ইন দ্য আইস’।

১৯৬৮ সালে আমেরিকা এই ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইসটি সেদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং হারিয়ে যাওয়া ডিভাইসটি পরিবেশের উপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখার জন্য ভারত ৮ম ইন্দো-তিব্বতীয়ান বর্ডার পুলিশ ব্যাটালিয়নকে তপোবনে নিয়োজিত করে। তপোবন ছিল রিশি-গঙ্গার তীরবর্তী একটি স্থান। সেখানে কোহলির ব্যাটালিয়ন যা পরবর্তিতে নন্দা দেবী ব্যাটালিয়ন নামে পরিচিত হয় তারা নিয়মিত তেজস্ক্রিয়তা খুঁজে পাওয়ার জন্য রিশি-গঙ্গার পানি নিয়ে পরীক্ষা করত। তখন থেকেই মূলত নন্দা দেবী স্যাংচুয়ারিতে সকল প্রকার পর্বতাভিজান অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তিতে ১৯৮৮ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক নন্দা দেবী স্যাংচুয়ারিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সেদিন থেকে আজ অবধি অনেক দিন পার হয়েছে। রিশি-গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। কিন্তু আজও কেউ জানেনা সেই জেনারেটরটির কি হয়েছিল। কোথায় হারিয়ে গেল সেই জেনারেটরটি। অনেক অভিযান হয়েছে পরবর্তিতে হারানো জেনারেটরটি খুঁজে পেতে। অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে নন্দা দেবীতে। খোঁজা হয়েছে তেজস্ক্রিয়তার চিহ্ন। কিন্তু আশানুরূপ কোন ফল পাওয়া যায়নি। যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে সব!

বর্তমান সময়
দেহরাদুন, ইন্ডিয়া।

নিজ বাসার বারান্দায় নিভৃতে বসে গভীর রাতের আকাশের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছেন ৮৩ বছর বয়সী মনমোহন সিং কোহলী। জীবনের ৮৩ বসন্ত পার করে আসলেও শরীরে এখনও তিনি যথেষ্ট শক্তি রাখেন। স্মৃতিশক্তি এখনও টনটনে। আপনমনে চিন্তা করছিলেন নিজের জীবনের কথা। কিছু প্রশ্নের উত্তর আজও তিনি জানেননা। জানেননা নন্দা দেবী অভিযানে হারিয়ে যাওয়া সেই আড়িপাতা যন্ত্রগুলোর কথা। কে জানে হয়তো আজও সেই তেজস্ক্রিয় প্লুটোনিয়াম রডগুলোকে নিজের বুকের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে নন্দা দেবী। হয়তো কোনদিন হিমবাহ থেকে বেড়িয়ে এসে গঙ্গায় ভেসে উঠবে তেজস্ক্রিয় যন্ত্রটি। আবার হয়তো কোনদিনই পাওয়া যাবে না। চায়না বা পাকিস্তানের কমান্ডোরা এসে চুরি করে নেয়নি তো যন্ত্রটি। প্লুটোপ্নিয়াম ক্যাপসুলটি কোথায় আছে এখন? মাত্র ৫০ বছর হয়েছে। আরও ৮৫০ বছর ধরে এই ক্যাপসুল থেকে তেজস্ক্রিয়তা বের হতে থাকবে। আমাদের বোকামির ফলে পুরো হিমালয় দূষিত হয়ে যায়নি তো? আজ এতদিন পর এসব প্রশ্নের উত্তর তিনি আর জানতেও চান না। অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়না। কিছু প্রশ্নের উত্তর গোপন থাকাই সকলের জন্য ভাল।


উপজীব্য

[১] Spies in the Himalayas by Kenneth Conboy & M.S Kohli

[২] Rock and Ice magazine

(Visited 1 times, 1 visits today)
তানভীর রিশাত
তানভীর রিশাত
মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন। ইচ্ছামত ঘুরে বেড়ানো, বই পড়া, পাহাড়ে যাওয়া তার শখ। স্বপ্ন সারা পৃথিবী ঘুরে ঘুরে দেখার।

১০ thoughts on “নন্দা দেবী রহস্য

  1. বরাবরের মত এবারও মুগ্ধ,,,, কিছু সময়ের জন্যে আমিও মনমোহন সিংহ কোহলির টিমের সাথে নন্দা দেবীর অভিযানে চলে গিয়েছিলাম,,,,অসাধারন লেখা ভাই,সত্যিই অসাধারন,,,❤❤❤

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)