হিম যুদ্ধের শেষ অধ্যায়

[ছবি] কে-টু / উইকিমিডিয়া কমন্স


এক.

তখন অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ। রোথাং লা ও কুনজুম লা পাসে অতিরিক্ত তুষারপাতের কারণে রাস্তা বেশ কিছুদিন আগেই সরকারিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যেই এক ডেয়ারডেভিল ড্রাইভার বিপদের তোয়াক্কা না করে আমাদের স্পিতি পৌঁছে দিল। অনেকদিন থেকেই আমাদের ইচ্ছা ছিল হিমালয়ের তীব্র ঠান্ডায় নিজেদের পরীক্ষা করে দেখব। পুরোপুরি শীত না হলেও এই সময়টায় স্পিতির এভারেজ তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ১০ ডিগ্রি নিচে। যা আমাদের জন্য যথেষ্ট তীব্র শীত। এমন প্রতিকূল তাপমাত্রা ক্যাম্পিং করতে পারি কিনা বা এমন উচ্চতায় তাপমাত্রার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি কিনা সেটা যাচাইয়ের উদ্দেশেই এবার আমাদের স্পিতি আসা। শীতকালের প্রতিকূল পরিবেশে পর্বতারোহণের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

আমাদের ট্রেক শুরুর আগেই এক দূর্ঘটনায় আহাসান ভাই মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত তাকে রেখেই আমি আর শোয়েইব ভাই বেইজ ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে যাই। বিশাল বিশাল সব বোল্ডার, মোরেইনের ক্লান্তিকর পথ, দুই একবার রাস্তা হারিয়ে, হাঁটু সমান তুষারে পা দাবিয়ে আমরা যখন হিমবাহের উপর মোটামোটি সমতল একটা জায়গায় পৌঁছাই তখনও সূর্য ডুবে যায় নি। এমন সময়ে শোয়েইব ভাইয়ের পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হল। আমাদের পায়ে হিমবাহে হাঁটার উপযোগী কোন জুতা ছিল না। তার উপর প্রায় পুরোটা পথেই হাঁটু পর্যন্ত তুষারে পা ঢুবিয়ে আমাদের এগুতে হচ্ছিল। আমরা তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম আজ এখানেই ক্যাম্প করব। পায়ে যেন ঠান্ডা না লাগে সেই ব্যবস্থা সবার আগে করতে হবে। তখনও আমরা দুজন বুঝতে পারিনি কি ভয়ংকর একটি রাত আমাদের জন্য ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।

পা দিয়ে মাড়িয়ে হিমবাহের অল্প কিছু জায়গা সমান করে অনেক কষ্ট করে দুজন মিলে তাঁবু পিচ করলাম। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল গ্লাভস পড়ে এই কাজগুলো করা যায় না। আবার গ্লাভস খোলার মুহুর্তের মধ্যেই সব কটি আঙ্গুল জমে টনটন করতে থাকে। তাপমাত্রা মেপে দেখব বলে মানালির পুরো বাজার তছনছ করে শোয়েইব ভাই একটি ডিজিটাল থার্মোমিটার খুঁজে এনেছে। বিকাল ৪টায় রিডিং নিয়ে দেখলাম তাপমাত্রা মাইনাস ৯। একদিকে সূর্য পাশের পর্বতের পিছনে হারিয়ে যাচ্ছে আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডা। স্লিপিং ব্যাগের ভিতর সব জামা কাপড় পরেও রীতিমত কাঁপছি দুজন। আর সেই ঠান্ডা যে ঠিক কেমন, তা লিখে বুঝানোর মত ভাষা জ্ঞান আমার নেই।

গোধুলির শেষ আলোটুকু মিলিয়ে যাবার সাথে সাথে মনে হল ঠান্ডা কয়েকগুন বেড়ে গেছে। হাড়ে কেউ যেন গরম শিক দিয়ে ছ্যাকা দিচ্ছে। ৫২০০ মিটার উচ্চতায় অক্সিজেনের  অভাবে খুব গভীর নিঃশ্বাস নিতে হচ্ছিল। প্রতিটি নিঃশ্বাস নেয়ার সময় মনে হতে লাগল নাক থেকে গলা হয়ে ফুসফুস পর্যন্ত সব জমে যাচ্ছে। পায়ে পাঁচ জোড়া মুজা পড়ার পরেও আঙ্গুলগুলো ভয়ানক যন্ত্রণা করছে। একটির পর একটি মোজা পরার কারণে টাইট হয়ে পায়ের রক্ত চলাচল আরও বন্ধ হওয়ার জোগাড়। হাতের আঙ্গুলগুলোর আগা ব্যাথায় টনটন করছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয়েছিল নাকের। আমার নাক শক্ত হয়ে একেবারে কালচে নীচ রঙের হয়ে গিয়েছিল। বারবার মনে হচ্ছিল আমার নাক খুলে চলে আসবে হাতে। প্রতিটি নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে বের হওয়া গরম বাতাস মুহুর্তের মধ্যে কনডেন্স হয়ে আমাদের স্লিপিং ব্যাগের উপরই গুড়ি গুড়ি বরফ হয়ে পড়ছে।একটা সময় মনে হতে লাগল কেউ আমাদের ডিপ ফ্রিজের ভিতর ঢুকিয়ে দিয়েছে। স্কেলে দেখলাম তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রিতে নেমে গেছে।

সারারাত আমরা কেউ কারো সাথে কথা বলিনি। অবশ্য কেউ তখন কথা বলার মত অবস্থাতেই ছিলাম না। এমন অবস্থায় কারো স্টোভ ধরিয়ে রান্না করার কথাও মনে হয়নি। বাইরে তুষারপাত আর ভিতরে আমাদের গোঙানির বিকৃত শব্দ। জমে যাবার ভয়ে দুই চোখের পাতা এক করতে পারিনি কেউই। ঠক ঠক করে শুধু কেঁপে গেছি আর প্রতিটা মুহুর্ত ধরে অপেক্ষা করে গেছি কখন সকাল হবে। একটি রাত কত দীর্ঘ হতে পারে সেবারই তা বুঝতে পেরেছিলাম। সেই মুহূর্তগুলোর যন্ত্রণা আমি এই এতগুলো বছর পরেও যেন অনুভব করতে পারি।

দুই.    

চায়না-পাকিস্থান সীমান্তের কারাকোরাম পর্বতমালার এক জটিল ধাঁধার মত ছড়িয়ে থাকা পর্বতসারির মধ্যে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চূড়া, কে-টু। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮৬১১ মিটার বা ২৮২৫১ ফিট। কারাকোরামের কঠিন টেরেইন, চরম অনিশ্চিত আবহাওয়া, দূরহ ও বিশ্বাসঘাতকের মত পাথুরে দেয়াল, যখন তখন ধেয়ে আসা ঝড় ও তুষারধ্বসের সম্ভাবনা কে-টু কে একটি আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। পৃথিবীর প্রায় সকল পর্বতারোহীদের জন্য কে-টু আরোহণ করা সবচাইতে আরাধ্য একটি স্বপ্ন। কে-টুর চূড়ায় আরোহণের জন্য সর্বোচ্চমানের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, স্ট্যামিনা, এনডিওরেন্স ও স্কিল থাকলেই শুধু হয় না সেই সাথে ভাগ্যের ও সহায়তা দরকার হয়। তাই কে-টুকে সবচাইতে জটিল ও কঠিন মাউন্টেনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আজকে খবরে দেখলাম পোল্যান্ডের ১০ জন হিম যোদ্ধার দল আসছে শীত মৌসুমে কে-টু পর্বতে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দক্ষ পর্বতারোহীর এই দল টিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১৪ টি ৮ হাজার মিটার চূড়ায় আরোহণকারী, প্রথম প্রজন্মের হিম যোদ্ধা ৬৭ বছর বয়স্ক ক্রিজটফ উইলিককি। এই দলে আরও আছেন এই প্রজন্মের হিম যোদ্ধা ডেনিশ উরবকু সহ শীতকালীন অভিযানে দক্ষ আরো ৮জন অভিযাত্রী। কাযাখাস্থান ও রাশিয়ার নাগরিক ডেনিশ উরবকু ২০১৫ সালে পোল্যান্ডের নাগরিকত্ব পান। যার কারণে তিনি ঐতিহ্যবাহী পোলিশ হিম যোদ্ধাদের দলে জায়গা পেয়েছেন।  নিজেদের পরিবারের সাথে বড়দিন কাটিয়েই তারা পাকিস্থান চলে যাবেন। এরপর শুরু হবে তাদের ৩ মাসের দীর্ঘ শীতকালীন অভিযান।

খবরটা পড়ার পর থেকেই আমার সেই রাতের কথা বারবার মনে পড়ছে। কি সাংঘাতিক ছিল সেই অভিজ্ঞতা। তাদের আগামী এই অভিযানের কথা চিন্তা করেই আমার মধ্যে একটি শিহরণ খেলে গেল। মনে হচ্ছে যেন আমি নিজেও তাদের সাথে এই কঠিন অভিযানে রওনা হচ্ছি। তারা কেমন সব কঠিন পরিস্থিতির সামনে পড়বেন আমি নারায়ণগঞ্জের বাসায় বসেই তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।

১৯০২ সালে প্রথমবারের মত কে-টু তে অভিযান চালিয়েছিল রহস্যময় ও বিতর্কিত পর্বতারোহী এলিস্টার ক্রাউলি। এরপর অনেক দেশের অভিযাত্রীর পরীক্ষা নিয়েছে এই পর্বত। ১৯৫৪ সালে শেষ পর্যন্ত ইটালীয় দুজন অভিযাত্রীকে কে-টু তার শীর্ষে আরোহণের অনুমতি দেয়। এলিজাবেথ হাওলি ও 8000ers.com এর ডাটাবেইজ থেকে জানা যায় এখন পর্যন্ত কে-টু’র চূড়ায় মাত্র ৩৯৬ জন আরোহণ করতে পেরেছেন। যেখানে এভারেস্টে এখন পর্যন্ত আরোহণের সংখ্যা ৮০০০ এরও বেশী। প্রতি বছর এভারেস্টে যেখানে ৪০০ থেকে ৬০০ মানুষ আরোহণ করে থাকে সেখানে কে-টু তে এমনও বছর গেছে যে কেউ আরোহণই করতে পারেনি।

অন্যদিকে কে-টু আরোহণ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৮৪ জন আরোহী মারা গেছেন। এদের মধ্যে ৩৪ জন মারা গেছেন সামিট থেকে ফেরার পথে। হিসেব বলে কেটু আরোহণ করতে গিয়ে প্রতি ৩ জন আরোহীর মধ্যে ১ জন মারা যান। মৃত্যুহারের দিক থেকে বিবেচনা করলে কে-টু অন্নপূর্ণার পর সবচেয়ে বিপদজনক পর্বত। তাই সবাই কে-টু কে দ্যা স্যাভেজ মাউন্টেইন, মাউন্টেইন অফ দ্যা মাউন্টেইন ও মৃত্যু চূড়ার মত নামে অভিহিত করে থাকে।

সাধারণ অবস্থাতে যখন আবহাওয়া তুলনামূলক ভাল থাকে তখনই যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে শীতকালে সম্পূর্ণ প্রতিকূল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে কে-টুর মত বিপদজনক একটি পর্বতে অভিযান চালানো কতটা কঠিন হবে সেটা আমি ধারণাও করতে পারছি না। এমন একটি লক্ষ্যের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দেওয়া সেই পর্বতারোহীদের কথা আমার ভাবনায় চলে আসছে। কি সেই চালিকা শক্তি যা তাদের এমন একটি অনিশ্চিত ও কঠিন অভিযানে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। নিজেদের সহ্যের একেবারে শেষ সীমায় পৌঁছে যাবার এমন পরীক্ষায় স্বেচ্ছায় কেন তারা ঝাঁপিয়ে পড়ছেন? এত কষ্ট সহ্য করার মাঝে কি আনন্দ খুঁজে পান তারা?

তিন.

ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশরা চলে যেতেই উপনিবেশিক শাসনের সমাপ্তি ঘটে। এর পর বিশ্বের পরাশক্তিগুলো নিজেদের শৌর্য, বীর্য, একেক অপরের উপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও জাতীয়তার গৌরব প্রতিষ্ঠার জন্য পর্বতারোহণকে বেছে নেয়। ১৯৫০ সালে ফরাসিদের প্রথম কোন আট হাজারি চূড়ায় আরোহণের মধ্য দিয়ে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে নতুন এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পর্বতারোহণ নিয়ে চালানো হয় ব্যাপক গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পর্বতারোহণের রহস্যগুলো ভেদ করে পৃথিবীর উঁচু চূড়াগুলোতে নিজেদের দেশের পতাকা পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সবাই। ব্রিটিশ, সুইস, অস্ট্রিয়ান, জার্মান, ইটালীয়, চায়নিজ- এই প্রতিযোগিতা থেকে কেউ নিজেদের দূরে রাখে না।

১৯৫০ থেকে ১৯৬৪ মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে পুঁজি করে, ব্যাপক হারে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও দক্ষ পর্বতারোহীদের নিয়ে একেকটি অভিযানকে পুরোদস্তুর যুদ্ধের মত পরিচালনার ফলে একে একে এভারেস্ট, নাঙা পর্বত, কে-টু, কাঞ্চনজঙ্ঘা সহ পৃথিবীর ৮ হাজার মিটারের উপরের ১৪টি চূড়াতেই এই দেশগুলো আরোহণ করতে সক্ষম হয়।

বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর এই প্রতিযোগিতা এমনভাবে শেষ হয়ে যাবার পর পর্বতারোহণে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। উচ্চতার এই প্রতিযোগিতা শেষ হয়ে গেছে ভেবে পর্বতারোহণের উপর থেকে রাষ্ট্রগুলো আগ্রহ চলে যায়। তারা মনে করা শুরু করে পর্বতারোহণে এখন আর কিছু প্রমাণ করার নেই। এমন অবস্থায় একদল তরুণের মধ্যে পর্বতারোহণ নিয়ে নতুন এক দর্শনের উদ্ভব ঘটে।

জাতীয়তাবাদের উর্দ্ধে তারা নিজেদের আত্মতুষ্টির জন্য উচ্চতার সাথে সাথে পর্বতারোহণে নান্দনিকতা ও শৈল্পিকভাবে আরোহণের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেন। সবচেয়ে কঠিন ও আপাতভাবে অসম্ভব মনে হওয়া পথ দিয়ে আরোহণ, বিপদজনক সব ট্রাভার্স, নিজেদের দক্ষতা অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে তারা দূর্গম সব পর্বতে আরোহণ শুরু করলেন।

এদিক দিয়ে পোলিশ অভিযাত্রীদের পর্বতারোহণের শুরুটাই হয়েছিল অনেক দেরীতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পোল্যান্ডের শাসন চলে যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে। দেশের নাগরিকদের উপর নেমে আসে নানা প্রতিবন্ধকতা।রাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া সাধারণ নাগরিকরা বিদেশে পর্যন্ত যেতে পারতেন না। পর্বতারোহণের মত উচ্চাভিলাষী স্পোর্টসকে তাই  কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটি থেকে কোন ধরনের পৃষ্ঠপোষকতাই দেওয়া হয়নি।

সদ্য শেষ হওয়া উচ্চতা শিকারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থেকেই পর্বতারোহণের রঙ্গ মঞ্চে প্রবেশ করে পোলিশ অভিযাত্রীরা। কিভাবে এই মঞ্চে নিজেদের জন্য একটি মর্যাদার জায়গা প্রতিষ্ঠা করা যায় সেই চেষ্টা ও দর্শন শুরু থেকেই তাদের পর্বতারোহণের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে গেছে। কিভাবে ভিন্ন কিছু করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা যায় তা ভাবতে গিয়ে পোলিশরা নিজেদের জন্য সবচেয়ে কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিল- যা অন্য কেউ চিন্তা করার সাহস পর্যন্ত করে না সেই প্রতিকূল আবহাওয়ায় অর্থাৎ শীতকালের তীব্র ঠান্ডার মধ্যে হিমালয়ের উঁচু পর্বতগুলো আরোহণ করা।

সাধারণের থেকে আলাদা পথে চলা, সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কঠিন কোন চ্যালেঞ্জকে নান্দনিকতার সাথে মোকাবেলা করতে পারলে সেই অর্জন এক অন্য রকম মর্যাদা পায়। তাই তাদের কাছে কষ্টের চাইতে আত্মতৃপ্তি সবসময় গুরুত্ব পায়। এই দর্শন নিয়ে নতুন প্রজন্মের একদল পর্বতারোহী নিজেদের প্রস্তুত করতে লেগে যায়।

চার.

হিমালয়ে উইন্টার ক্লাইম্বিংয়ের অগ্র পথিক আন্দ্রে জাওয়াদার একটি বিখ্যাত উক্তি আছে। নিজ দেশের তরুণ অভিযাত্রীদের তিনি বলতেন, ‘তুমি শীতকালে তাতরা পর্বতে কি করতে পার সেটা আমাকে বল, এরপর আমি বলব তুমি আরও কি কি করতে পারবে।’

স্লোভাকিয়া ও পোল্যান্ডের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সীমানার মত একটি পর্বতশ্রেণী ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠে গেছে। ৭৮৫ বর্গ কিলোমিটরের এই পর্বতশ্রেণীর নাম তাতরা। কার্পেন্থিয়ান সিস্টেমের সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণী। এই পর্বত শ্রেনীর বেশীর ভাগ অংশই পড়েছে স্লোভাকিয়ায়। মাত্র ২২ শতাংশ অংশ পড়েছে পোল্যান্ডে। ২৪৯৯ মিটার বা ৮২০০ ফিট উঁচু চূড়া ‘রাইসি’ পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। উচ্চতা তেমন আহামরি না হলেও টেরেইন ও টেকনিক্যালিটির দিক থেকে তাতরা’র পর্বতগুলো পর্বতারোহীদের জন্য নেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।

শীতকালে উত্তরের সাইবেরিয়ান জেট সরাসরি এই পর্বতে এসে আঘাত করে। শীতের সময় তাই এখানকার তাপমাত্রা হিমাঙ্গের ৪০ থেকে ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত নিচে নেমে যায়। হিমালয়ের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে এর চাইতে ভাল অনুশীলনের জায়গা আর হতেই পারে না। তাতরা পর্বতে কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলনের মাধ্যমে তৈরি হয় পর্বতারোহীদের একটি দল যারা হিমালয়ে শীতকালীন অভিযানের মত অবাস্তব একটি পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত ছিল।

আন্দ্রে জাওয়াদার নেতৃত্বে ৭০ ও ৮০ দশক জুড়ে পোলিশ পর্বতারোহীরা শীতকালীন অভিযানের এক কিংবদন্তি ইতিহাস তৈরি করেছিল। ১৯৮০ সালে ক্রিজটফ উইলিককি ও লেসজেক চিচি শীতকা্লীন অভিযানে মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণ করে পুরো পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দেন। এরপর মাত্র ৮ বছরের মধ্যে একে একে ধাউলাগিরি, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে, মানসলু ও চো ইয়ুতে শীতকালে আরোহণ করে পর্বতারোহণকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। শীতকালের প্রচন্ড প্রতিকূল পরিবেশের সাথে রীতিমত যুদ্ধ করে টিকে থাকাই নয়, এই সময়কালে হিমালয়ে সম্পূর্ণ নতুন ২০টি রুট দিয়ে আরোহণ করা দৃঢ় প্রত্যয়ী এই পর্বতারোহীদের বিশ্বের সকলে সমীহ করে নাম দিল ‘আইস ওয়ারিওর্স’ বা হিম যোদ্ধা।

পোলিশদের শীতকালীন এই অভিযানগুলোর ৭৫ ভাগ সফল হলেও এর জন্য তাদের মূল্য দিতে হয়েছে অনেক। ১৯৮৬ সালের কে-টু অভিযানে নতুন ও দূরহ একটি রুট খুলতে গিয়ে মারা যান জার্জি কুকোজকার সঙ্গী পিওট্রোস্কি। ১৯৮৯ সালে লোৎসের সাউথ ফেইস দিয়ে আরোহণকালে জার্জি কুকোজকা মারা গেলে একটি ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে হিমালয়ে পোলিশদের আধিপত্যের সোনালী যুগের সমাপ্তি ঘটে।


আরও পড়ুন

হিমালয়ের হিম যোদ্ধা জার্জি কুকোজকার গল্প 


হিম যোদ্ধাদের সোনালী যুগ ফিরিয়ে আনতে পোলিশদের অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় ২৫ বছর। জার্জি কুকোজকা মারা যাবার পর এই হিম যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দেবার মত কেউ ছিল না। দেশের তরুণরা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠা তুলনামূলক নিরাপদ ও সহজেই সফলতা পাওয়া যায় এমন অভিযানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছিল। দেশের সোনালীর অতীত ও ঐতিহ্যকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য ২০০৩ সালে বিখ্যাত হিম যোদ্ধা ক্রিজটফ উইলিককি তরুণ পর্বতারোহীদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য রাখেন, যা ‘উইন্টার ম্যানিফেস্টো’ হিসেবে পরিচিত। তার এই বক্তব্য তরুণ পোলিশ পর্বতারোহীদের মধ্যে আবার নতুন করে চ্যালেঞ্জ নিতে অনুপ্রানিত করল। যার ফল স্বরূপ ২০০৫ সালে হিম যোদ্ধারা তিব্বতের শিশাপাঙমা আরোহণ করে পোলিশ শীতকালীন অভিযানের নতুন যুগের সূচনা করেন। এরপর ২০১২ সালে ঘাসেব্রাম-১ ও ২০১৩ সালে ব্রড পিক আরোহণ করেন।

কিন্তু এখন শীতকালীন অভিযানে পোলিশদের আর একক আধিপত্য ছিল না। রাশিয়া, ইটালি, স্পেনের অ্যাল্পাইনিষ্টরা শীতকালের অভিযানে পারদর্শী হয়ে উঠছিলেন। এই তালিকায় আছেন সিমোনে মরো, এলেক্স ট্রিক্সনের মত বিখ্যাত আর দক্ষ আরোহীরা। শীতকালে ৮ হাজার মিটারের ১৪টি চূড়ার মধ্যে এরপর বাকি রইল মাত্র দুটি, নাঙা পর্বত ও কে-টু’র মত বিপদজনক দুটি চ্যালেঞ্জ। গত বছর পাকিস্থানের আলি সারপারা, ইটালির সিমোনে মরো ও স্পেনিয়ার্ড এলেক্স ট্রিক্সন শীতকালে নাঙা পর্বতে আরোহণ করলে বাকি থাকে শুধুমাত্র কে-টু, শীতকালীন অভিযানের শেষ অধ্যায়।

মজার বিষয় হচ্ছে, অন্যান্য পর্বতে শীতকালে অনেকগুলো অভিযান চালানো হয়েছে। এক নাঙা পর্বতেই চালানো হয়েছে ৩০টি শীতকালীন অভিযান। বিপরীতে কে-টুতে শীতকালে অভিযান হয়েছে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ টি। শীতকালীন অভিযানে পারদর্শী বর্তমান যুগের অভিযাত্রীরাই বা কেন কে-টু অভিযানে আগ্রহী হন না?? কত টা বিপদজনক হতে পারে শীতকালের কে-টু? অভিজ্ঞ নেতৃত্বে নতুন হিম যোদ্ধাদের এই অভিযানে কে-টু আরোহণের সম্ভাবনাই বা কতটুকু?

পাঁচ.

দূর্গমতা ও সফলভাবে আরোহণের সম্ভাবনা কম থাকায় অভিযাত্রীদের কাছে কে-টু তেমন জনপ্রিয় নয়। এই ধরনের একটি হেভি স্কেল অভিযানের জন্য প্রচুর পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই খরচের বিষয়টিও অভিযাত্রীদের দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করে।

নাঙা পর্বতে যেখানে অভিযাত্রীরা দুইদিনের মধ্যেই বেইজ ক্যাম্পে চলে যেতে পারেন সেখানে কে-টু’র বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছানোর জন্য লেগে যায় এক সপ্তাহেরও বেশী সময়। ১৯৮৭ সালে আন্দ্রে জাওয়াদার শীতকালীন কে-টু অভিযানে ৩০ জন অভিযাত্রীর ৩ মাসের রসদ হিসাবে ১৭ টন মালামাল বহন করতে লেগেছিল ১২০০ পোর্টার। এই বছর অভিযানের রসদের মোট ওজন হবে প্রায় ১০০০ কেজি। বর্তমান সময়ে মালামাল ও অভিযাত্রীরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে হয়ত এই সমস্যা সমাধান করতে পারবেন কিন্তু সেটাও অনেক বেশী খরচ সাপেক্ষ ব্যাপার হবে।

অ্যালেনের ব্লগ থেকে জানতে পারলাম, এই বছরে শীতকালীন কে-টু অভিযানের মোট খরচ ধরা হয়েছে ৩,৭০,০০০ মার্কিন ডলার। শীতকালীন অভিযানের নিজেদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ও জাতীয়তাবাদের চেতনায় উইন্টার ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের শেষ অধ্যায়কে সফল করার জন্য দীর্ঘদিন পর কোন দেশের সরকার এত বিরাটভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এখন পর্যন্ত পোল্যান্ডের স্পোর্টস ও ট্যুরিজম মন্ত্রনালয় এই অভিযানের জন্য প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ টাকা (২,৭৫,০০০ ডলার) ফান্ডিং করেছে। বাকি খরচ উঠানোর জন্য লটো লটারি ছাড়া হবে।

অর্থ যোগাড়ের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আবহাওয়া। কে-টু কারাকোরাম পর্বশ্রেনীর সর্বোচ চূড়া। কারাকোরাম হিমালয় থেকে আরও উত্তরে অবস্থিত। দক্ষিণ থেকে ধেয়ে আসা মৌসুমী বায়ু হিমালয় পেরিয়ে কারাকোরাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। শীতকালে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়ে উঠে। কারাকোরামের উত্তরে হিমালয়ের মত উঁচু আর কোন বাঁধা না থাকায় শীতকালের সাইবেরিয়ান জেট সরাসরি এসে কারাকোরামে আঘাত করে। বায়ু মন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার  ও স্ট্রাটোস্ফিয়ারের মধ্যে হারিকেনের মত ঝড় বইতে থাকে। যা কখনো কখনো ঘন্টায় ৪০০ কিলোমিটার গতির হয়ে থাকে। হুট হাট করে ধেয়ে আসা ঝড়ো বাতাসই অভিযাত্রীদের বেশী ভোগায়।

শীতকালে কারাকোরামের গড় বাতাসের গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার। আর গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাংঙ্কের ৪০ ডিগ্রি নিচে, যা হিমালয় থেকে ১০ ডিগ্রি কম। উইন্ড চিল ফ্যাক্টরের কারণে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেই মাইনাস ৬০ ডিগ্রির অনুভূতি হয়। যা মানুষের সাধারণ সহ্য সীমার মধ্যে পড়ে না। শুধু তাই না, কে-টুতে ঝড়ো বাতাসে অভিযাত্রী্কে ও অভিযাত্রী সহ তাবু উড়িয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ২০১১ সালে ঘাসেব্রাম-১ এর ঢাল থেকে তীব্র বেগে ছুটে আসা জেট স্ট্রিমে জেনাস গাল্ব সহ তার তাবু উড়িয়ে নিলে গিয়েছিল। সেই সাথে তীব্র ঝড়ে বেইজ ক্যাম্প তছনছ হয়ে গিয়েছিল।

সেই সাথে অভিযাত্রীদের ভয়ানক ঠান্ডার মধ্যে টিকে থাকতে হবে। ১৫ বছর আগে উইলিককি’র নেতৃত্বেই একটি দল কে-টু’র ৭৬০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কারাকোরামের তীব্র ঠান্ডার একটি বর্ণনা পাওয়া যায় উইলিককি’র একটি প্রতিবেদনে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘এত ঠান্ডায় আমাদের দাড়ি গোঁফ জমে শক্ত তারকাটার মত হয়ে যেত। ফ্রায়িং প্যানে গরম না করে দাড়ি-গোঁফ স্বাভাবিক করা যেত না। পনিরের টুকরো হয়ে গিয়েছিল শক্ত ইটের টুকরোর মত, যা মুখে দিয়ে খাওয়ার উপায় ছিল না। এক টুকরো পনির ভাঙার জন্য আমাদের আইস এক্স ব্যবহার করতে হত। নরম তুষার জমে শক্ত বাদামী বরফ হয়ে যেত। বরফগুলো এতই শক্ত হত যে আমরা আইস এক্স গাঁথতে পারতাম না, ক্রাম্পনের কাঁটা ও আইস স্ক্রু সেই বরফের ভিতর দিয়ে ঢুকানো যেত না।’

ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৫০০০ মিটারের উপর আমাদের শরীর রিজেনারেট করতে পারে না। তাই যতই আমি রেস্টে থাকি আর প্রয়োজনীয় ক্যালরী খেতে থাকি না কেন যত দিন যাবে আমাদের শরীর দূর্বল হতে থাকবে। যথাযথভাবে এক্লিমাটাইজেশন রোটেশনের পর সামিট উইন্ডোর জন্য অভিযাত্রীদের হয়ত অপেক্ষা করতে হবে ৩ মাস। দিনের পর দিন তাদের তাবুর ভিতর বসে অপেক্ষা করে যেতে হবে অনুকূল আবহাওয়ার জন্য।

তাই অভিযাত্রীদের ভাগ্যের উপরও অনেকখানি নির্ভর করতে হবে। তবে এবার অভিযাত্রীরা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অনেক সাহায্য পেতে যাচ্ছেন। তাদের সাথে থাকবে অত্যাধুনিক ফেব্রিকের তৈরি হিটেড গ্লাভস ও জ্যাকেট। স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ও আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য তারা ব্যবহার করবেন অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট সিস্টেম।

অভিযাত্রীরা ঠিক কোন রুট দিয়ে কে-টু আরোহণ করতে যাচ্ছেন সেটা এখনও নির্ধারিত না হলেও ধারণা করা যাচ্ছে তারা আব্বুরাজি রুট বা সেসেন রুটেই আরোহণ করবেন। গত বছর নাঙা পর্বতের পর এই বছর কে-টু তে শীতকালীন অভিযান নিয়ে অনেকেই আশাবাদী হয়ে আছেন। দেখা যাক, পর্বতারোহণের রঙ্গ মঞ্চের সবচেয়ে আরাধ্য মুকুটটি পর্বতারোহীদের কাছে ধরা দেয় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।


তথ্যসূত্র

[১] অ্যালান আর্নেটের ব্যক্তিগত ব্লগ
[২] রেডিও পোল্যান্ড
[৩] উইকিপিডিয়া
[৪] হিমালায়ান ডাটাবেইজ
[৫] 8000ers.com 

(Visited 1 times, 1 visits today)
সালেহীন আরশাদী
সালেহীন আরশাদী
সারাদিন শুয়ে শুয়ে বই পড়া তার শখ। পাহাড়ে যাওয়াটাকে জীবন দর্শন মনে করেন। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা পাহাড়ের ঔষধশাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করা তার স্বপ্ন।

১৮ thoughts on “হিম যুদ্ধের শেষ অধ্যায়

  1. অনেক সুন্দর আর তথ্যবহুল লেখা। কুব আগ্রহ নিয়ে পড়লাম অবশ্য আমি আপনার সব লেখাই আগ্রহ নিয়ে পড়ি।আর একটা বিষয় পিওট্রস্কির মারা যাবার সাল ১৪৯৮৬ আছে ওটা মনে হয় ১৯৮৬ হবে

  2. ভাই অনেক সুন্দর একটি লেখা লিখসেন। মনে হল কথা গুলো বাস্তবে চোখের সামনে ভেসে আসছে।

  3. ঘুম ঘুম চোখে শুরু করছিলাম পড়া কিন্তু কয়েক লাইন পড়েই এত থ্রিলিং লাগছিল যে ঘুম কখন যে বিদায় নিসে টেরই পাই নাই…. অনেক তথ্যবহুল লেখাটার জন্য সালেহীন ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ.. অনেক নতুন জিনিস জানলাম লেখাটা পড়ে

  4. “যেখানে এভারেস্টে এখন পর্যন্ত আরোহণকারীর সংখ্যা ৮০০০ এরও বেশী।” – এটি সম্ভবত একটু ভুল তথ্য, সামিটের সংখ্যা ৮০০০ হতে পারে, আরোহণকারীর সংখ্যা ৪০০০ এর চাইতে কিছু বেশি।

    লেখা চমৎকার উপভোগ্য হতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে জোর করে তথ্যের পুশ-ইন মনে হয়েছে। অর্ধেকটা পর্যন্ত চমৎকার লেগেছে, শেষে গিয়ে একটু যেন স্বাভাবিক ছন্দটা অনুপস্থিত।

    দশে নয় তারা!

    1. একটু কাঠখোট্টা হয়ে গেছে বোধ হয়। ধরিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তীতে বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল করব।

  5. নাইট শিফট ডিউটির পর ভাবছিলাম একটু ঘুমাবো। তার আগে কি মনে হল একটু ফেসবুকে ঢু মারি। এরপর অদ্রিতে নোটিফিকেশন। ঘুমের মায়রে বাপ। একটানা পড়লাম, মনের খায়েস মেটে নাই, এখন আবার পড়ব। অসংখ্য ধন্যবাদ তথ্যবহুল অসাধারন এই লেখার জন্য।

  6. অনেক তথ্যবহুল পাশাপাশি রোমাঞ্চকর একটা লিখা।
    পড়ে অনেক ভাল লাগল সামনে আরো ভাল এইরকম কিছু লিখা পাব আশা করছি।
    ধন্যবাদ

  7. অভিযাত্রীদের এই শীতকালীন কে-টু অভিযান নিয়ে ভীষণ আশাবাদী। তাদের সফলতার সংবাদ শোনার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকবো। অারোহীদের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা…

    #ধন্যবাদ সালেহীন ভাই.. এমন তথ্যবহুল ও রোমাঞ্চকর একটি লেখার জন্য….

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)