অদ্রি সালতামামি ২০১৭


কেমন ছিল আমাদের জন্য ২০১৭ সাল?

চলুন দেখে নেয়া যাক এ বছর কোথায় কেমন অভিযান করেছেন আমাদের অভিযাত্রীরা।

এ বছর  ১৩টি চূড়ায় মোট ২৫টি অভিযান সংঘটিত হয়েছে। এই অভিযানের সব মিলিয়ে ৬৭ জন অভিযাত্রী অংশ নিয়েছেন, যা গত ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালে অভিযাত্রীর সংখ্যা ছিল ২৬ জন ও গত বছর ছিল ৪৬ জন। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বৃদ্ধির হার ৪৫.৬ শতাংশ। সংখ্যা বৃদ্ধির এই তুলনামূলক চিত্রই প্রমাণ করে আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে পর্বতারোহণ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সাল চূড়ার সংখ্যা অভিযান সংখ্যা অভিযাত্রীর সংখ্যা অভিযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার (%)
২০১৫ ১২ ১২ ২৬
২০১৬ ১০ ১৭ ৪৬ ৭৬.৯
২০১৭ ১৪ ২৫ ৬৭ ৪৫.৬

পর্বতারোহণের মত বিশেষায়িত এই ক্ষেত্রে অভিযাত্রীদের পদচারণা ইতিবাচক হলেও পর্বতারোহণের গুনগতমানের বিষয়টি সম্পর্কে এখনও আশাব্যাঞ্জক কোন জায়গায় আমরা পৌঁছাতে পারিনি।

এ বছরের অভিযান গুলো বিশ্লেষণ করে একটি বিষয় বুঝা যাচ্ছে যে আমাদের মধ্যে পূর্ববর্তী অভিযান গুলোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা বা সেগুলোর ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নেয়ার বিষয়টি একেবারেই অনুপস্থিত। এ ব্যাপারটি বাংলাদেশের পর্বতারোহণের জন্য একটি ভীতিকর ব্যাপার।

গত বছর বাংলার ট্রেকার দল গিয়েছিল মেন্টক কাংড়ি অভিযানে। সেখানে তারা যেই এজেন্সির মাধ্যমে গিয়েছিল তারা অভিযানের জন্য অপরিহার্য একটি সরঞ্জাম কম নিয়েই অভিযান শুরু করেছিল। বেইজ ক্যাম্পে যাবার পর অভিযাত্রীরা জানতে পেরেছিল তাদের এক জোড়া ক্রাম্পন কম আছে। দলটি ক্রাম্পন ছাড়াই আরোহণ শুরু করলে দূর্ঘটনার কবলে পড়েন। সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের কোন ক্ষতির হওয়া থেকে দলটি রক্ষা পায়। তাদের এই শিক্ষা থেকে দলনেতা নিজাম উদ্দিন অদ্রিতে একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন, যেন ভবিষ্যতে অন্য কেউ একই ধরনের ভুল না করেন।

এবছরও এজেন্সির গাফিলতির চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। ট্রেকার্স অফ বাংলাদেশ দলের মাউন্ট গারুর ডোম অভিযানে ঠিক গত বছরের মতই ঘটনা ঘটেছে। স্নো বুটের মত অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি গিয়ার অভিযাত্রী দল এজেন্সির ভরসায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তারা কেউই দেখেনি সেই স্নো বুট পায়ের মাপের চাইতে অনেক বড়। বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর যেহেতু আর কিছুই করার থাকে না তাই ঐ বুট পড়েই আরোহণ শুরু করলে একবার ডান পা থেকে বুট খুলে নিচে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত এবারও বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনাটিই প্রমাণ করে পর্বতারোহণের খুব প্রাথমিক বিষয় গুলো সম্পর্কে এখনও আমরা ঠিকঠাকভাবে অবগত নই। একটি অভিযান সংগঠিত করার আগে কি কি বিষয় নজর দিতে হবে আর পরিকল্পনা করতে হবে এই বিষয়ে আমাদের সকলের মধ্যে এখনও সুস্পষ্ট ধারণা পৌঁছোয়নি।

এই বছরের কমপক্ষে দুটি অভিযান বিশ্লেষণ করে বুঝা গেছে বানিজ্যিক পর্বতারোহণের চর্চায় এজেন্সির উপর পুরোপুরি নির্ভরতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। মাউন্ট গারুর ডোম ও তন্ময় সজীবের ফ্রেন্ডশিপ  পিক আরোহণকালে সামিটে না পৌঁছেও একটি জায়গাকে সামিট হিসেবে দাবি করেছে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্সির গাইড। অভিযানপূর্ব পড়াশোনার অভাব ও কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়া একেবারে র‍্যান্ডম অভিযানে চলে যাবার কারণে এই ঘটনা গুলো ঘটছে। অভিযাত্রীরা সচেতন না হলে আর পর্বতারোহণ ও অভিযানের বিষয়ে বিস্তর লেখাপড়া না করলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটবে বলে আশংকা রয়ে যায়।

এ বছর আলোচনা-সমালোচনায় মুখর ছিল ২২ বছর বয়সী মৃদুলা আমাতুন নূরের এভারেস্ট অভিযান। শুধুমাত্র একটি বেসিক কোর্স করে পর্বতারোহণের তেমন কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই এভারেস্টের মত একটি অভিযানে চলে যাওয়ার বিষয়টি অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। শেরপাদের তত্ত্বাবধায়নে নিরাপদভাবে মৃদুলা ক্যাম্প-২ এর কাছ থেকে ঘুরে এসেছেন। সামিট ফিভার যে তার মধ্যে ভর করেনি ও সামিট করার গোয়ার্তুমি যে সে করেনি এর জন্য তাকে অনেক অভিনন্দন। উল্লেখ্য মৃদুলার দলেরই একজন সহ অভিযাত্রী ভারতীয় রবি কুমার এভারেস্ট সামিট করে ফেরার পথে অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে মারা যান।

এ বছর সব কটি অভিযান মিলিয়ে অতি উচ্চতাজনিত কারণে অসুস্থ হয়েছে মোট ২০ জন অভিযাত্রী। যা মোট অভিযাত্রীর প্রায় ৩২ শতাংশ। এর মধ্যে  মাউন্ট কানামো ও স্টোক কাংড়ি অভিযান গুলোর তালিকা বিশ্লেষন করে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক অভিযান এই দুটি চূড়া ঘিরেই হয়েছে। বলাই বাহুল্য এই দুটি চূড়ায় নবীন অভিযাত্রীরাই অভিযানে গিয়েছেন। এ দুটি চূড়ায় সর্বমোট ১২ টি অভিযানে ৩৪ জন অভিযাত্রী  আরোহণের চেষ্টা করেছেন। যা মোট অভিযাত্রী সংখ্যার অর্দ্ধেকেরও বেশী। এ দুটি চূড়ায় আরোহণের চেষ্টা করতে গিয়ে অল্টিটিউড সিকনেসে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ অভিযাত্রী। এই সংখ্যাটি প্রমাণ করে পরিকল্পনা করার সময় আমরা অ্যাক্লিমাটাইজেশনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির দিকে একেবারেই নজর দেই না। অনেকেই আবার অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থাতেও সামিট পর্যন্ত আরোহণ করেছেন, যা অত্যন্ত ভীতিকর একটি সংস্কৃতি। এর থেকে এখনই বের হতে না পারলে সামনেই হয়ত বড় ধরনের কোন দূর্ঘটনা আমাদের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে।

চূড়ার নাম অভিযানের সংখ্যা অভিযাত্রীর সংখ্যা আরোহণকারীর সংখ্যা হার (%) উচ্চতাজনিত অসুস্থ হওয়া অভিযাত্রীর সংখ্যা হার (%)
মাউন্ট কানামো ০৬ ২০ ১৩ ৬৫ ০৭ ৩৫
স্টোক কাংড়ি ০৬ ১৪ ০৩ ২১.৪ ০৪ ২৮.৫

অন্যদিকে কানামো ও স্টোক কাংড়ির মত চূড়া গুলোর বিষয়ে ইন্টারনেটে যে তথ্যই পাওয়া যায় সেখানে লিখা থাকে এগুলো একদমই সহজ। আমাদের নবীন অভিযাত্রীরা এই তুলনামূলক সহজ চূড়া গুলোর ব্যাপারে কোনরকম গবেষণা না করে, যথাযথ প্রস্তুতি না নিয়েই অভিযানে চলে যাচ্ছেন। কানামোর তুলনায় স্টোক কাংড়িতে টেকনিক্যাল সমস্যা কিছুটা বেশী। অতি উচ্চতার সাথে সাথে সেখানে তুষারপাতের উপর নির্ভর করে হিমবাহ নেগোশিয়েট করতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্নো বুট, আইস এক্স ও ক্রাম্পন প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের অভিযাত্রীরা এই দুটি চূড়াকে খুবই হালকাভাবে নিয়ে থাকেন। এবছর দেখা যাচ্ছে স্টোক কাংড়িতে এগার জনের মধ্যে চূড়ায় আরোহণ করতে পেরেছেন মাত্র ০৩ জন অভিযাত্রী। বাকি প্রায় সবাই অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অল্টিটিউড সিকনেসের কারণে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

আমাদের দেশের সাধারণ জনগনের মধ্যে পর্বতারোহণ সম্পর্কে ধারণা একদমই কম। যারাই পর্বতারোহণের মত ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল এই ক্রিয়ায় আসছেন তারা অনেক বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে নিজেদের স্বপ্ন গুলোকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমাদেরই গাফিলতির জন্য ভয়ানক কোন দূর্ঘটনা ঘটলে এই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। তাই নিজেদের স্বার্থেই আমাদের এই বিষয় গুলোর প্রতি আরও বেশী সচেতন হতে হবে।

এখন সময় এসেছে পর্বতারোহণের গুনগত মানোন্নয়নের দিকে নজর দেয়ার। পর্বতারোহণ যে নিছক ছুটি কাটানোর কোন মাধ্যম নয় বরং পুরোদস্তুর একটি জীবন পদ্ধতি এই বিষয়টির প্রচারণায় গুরুত্বারোপ করতে হবে। সেই সাথে পর্বতারোহণের কৌশলগত মান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার ব্যাপারে ব্যাপক জোর দিতে হবে। নিজেদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে পারলে আশা করা যায় আগামী দিন গুলোতে আমাদের নবীন অভিযাত্রীরা অনেক অনবদ্য ও গুনগত মানসম্পন্ন অভিযান উপহার দিবেন।


একনজরে ২০১৭ সালে পর্বতারোহণে বাংলাদেশীদের উল্লেখযোগ্য অভিযানসমূহ: 

● মাউন্ট ফাবরাং ( ৬১৭২ মিটার)
অবস্থান: মিয়ার উপত্যকা, হিমাচল প্রদেশ, ভারত।

দল/প্রতিনিধিত্ব: ভার্টিকাল ড্রিমার্স
সদস্য: দেবাশীষ বল, দীপ্তিমান জিতু, বাবর আলী, সাদাব ইয়াসির, নাদিয়া ডালিয়া
ফলাফল সম্পূর্ণ স্বনির্ভর পদ্ধতিতে পরিচালিত এই অভিযানের ৩ সদস্য দেবাশীষ, জিতু ও নাদিয়া বেইজ ক্যাম্প পৌঁছানোর আগে ট্রানজিট ক্যাম্প (২৯০০ মিটার) থেকে অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে চলে আসলে দলের বাকি দুই সদস্য বাবর ও সাদাব ৪০০০ মিটার উচ্চতায় বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করেন। টানা বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে তারা ৩ দিন বেইজ ক্যাম্পে আটকে ছিলেন। বেইজ ক্যাম্পের ৫০০ মিটার উপরে অ্যাডভান্স বেইজ ক্যাম্প থেকে খারাপ আবহাওয়ার কারণে অভিযাত্রী দুজন নিচে নেমে আসেন।

● স্টোক কাংড়ি (৬১৫৩ মিটার)
অবস্থান:লাদাখ, ভারত।
[১]

দল/প্রতিনিধিত্ব: অ্যাডভেঞ্চার নলেজ এন্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এ.কে.আর.এফ)
সদস্য: সাদেক হোসেন, ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ, মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, মোঃ মাহাবুবুর রহমান, ফেরদৌস আহম্মেদ খান
ফলাফল: ৬ সেপ্টেম্বর বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান করে ৯ সেপ্টেম্বর দলটি সামিটের উদ্দেশে রওনা হয়। দলনেতা সাদেক হোসেন সনি ও সোহাগ অসুস্থ বোধ করায় দলের সকলে সামিটে না যাবার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যাক্লিমাটাইজেশনের সময় দলটি সর্বোচ্চ ৫৩১৬মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
[২]
দল/প্রতিনিধিত্ব: দি এক্সট্রিমার
সদস্য: সেতু দাস, তাহমিদ আল মাসুম, ওয়ারদা সায়েদা
ফলাফল: ২৯ জুলাই মনোকারমা থেকে দুপুরের মধ্যে দলটি বেইজ ক্যাম্প (৪৯৮০ মিটার) পৌছে যায়। পরদিন এক্লিমাটাইজেশন শেষে রাত ১০ টায় তাদের সামিট পুশের জন্য রওনা হন। তাহমিদ এর প্রচন্ড মাথা ব্যথা ও সায়েদার ঘুম পাবার কারণে হাঁটতে সমস্যা হওয়ার দরুন দলনেতা সেতু দাস তাদের নিচে চলে যেতে বলেন। পরদিন ভোর ৬টায় সেতু দাস গাইড সহ সোল্ডারে পৌঁছে যান। অতঃপর সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে মূল চূড়ায় আরোহণ করেন।
[৩]
দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র
সদস্য: মাহির সাদনাম
ফলাফল: ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১:৩০ মিনিটে গাইড স্ট্যাঞ্জিন পিটারকে সাথে নিয়ে মাহির বেইজ ক্যাম্প (৪৯৮০ মিটার) থেকে সামিটের উদ্দেশে রওনা দেন। পরদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮:৩০ মিনিটে স্টোক কাংড়ির সোল্ডার (৬১০০ মিটার) পর্যন্ত আরোহণ করেন।
[৪]
দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র
সদস্য: এম.এ আমিন ও জাহিদুর রহমান
ফলাফল: এম এ আমিন ও তার বন্ধু জাহিদুর রহমান বেইজ ক্যাম্প (৪৯৮০ মিটার) থেকে ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সামিট পুশ শুরু করেন। কিন্তু বেইজ ক্যাম্প থেকে ৩২০ মিটারের পর গাইডের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় আমিন আর সামনে না যাবার সিদ্বান্ত নেন। কিন্তু জাহিদুর রহমান পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর আনুমানিক সকাল ১১ টায় চূড়ায় আরোহণ করেন।
[৫]
দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র
সদস্য: মোঃ হোসেন তানভীর আমান, মারুফ হাসান
ফলাফল: ১০ অক্টোবর তানভীর, মারুফ, ভিটালি এনটিন (ইজরায়েলি) ও তাদের গাইড কাম কুক জিগমেট মানোকারমোতে (৪৩৫০ মিটার) তাদের প্রথম ক্যাম্প স্থাপন করেন। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৫৪০০ মিটার উচ্চতায় একটি অ্যাডভান্স বেইজ ক্যাম্প স্থাপণের পরিকল্পনা থাকলেও পানির উৎস সব জমে যাবার কারণে তারা ক্যাম্প-১ থেকেই সামিট পুশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১১ অক্টোবর রাত ৩:৩০ মিনিটে ক্যাম্প-১ থেকে রওনা হয়ে ভিটালি ও তার গাইড সামিট থেকে বিকেল ৫টায় আবার ক্যাম্প-১ এ ফিরে আসেন। এদিন তানভীর ও মারুফ ক্যাম্প-১ এই অবস্থান করেন। ১২ অক্টোবর রাত ২ টায় তানভীর ও মারুফ গাইড জিগমেটের সাথে ক্যাম্প-১ থেকে সামিটের উদ্দেশে রওনা দিয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ২:৩৭ মিনিটে সামিট করেন। সামিট শেষে রাত ৮:৩০ মিনিটে তারা ক্যাম্প -১ ফিরে আসেন। এর জন্য তাদের মোট সময় লাগে ১৮ ঘন্টা ৩০ মিনিট।
[৬]
দল/প্রতিনিধিত্ব: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সদস্য: মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম
ফলাফল: ২৯ সেপ্টেম্বর ইমতিয়াজ বেইজ ক্যাম্প থেকে সামিটের উদ্দ্যেশে যাত্রা করেন, কিন্তু পায়ের মাপের আইস বুট না থাকায় অপেক্ষাকৃত বড় মাপের আইস বুট পরিধান করার কারনে তিনি শরীরের উপর ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এর জন্য তাকে ১৭০০০ ফিট আরোহণ করেই বেইজ ক্যাম্পে ফিরে আসতে হয়। পরে পায়ের মাপের আইস বুটের ব্যবস্থা হলেও আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ার কারনে ১লা সেপ্টেম্বর তিনি পর্বত থেকে ফিরে আসেন।

● মাউন্ট কানামো (৫৯৭৪ মি)
অবস্থান: হিমাচল প্রদেশ, ভারত।
[১]

দল/প্রতিনিধিত্ব: বিডি অ্যল্পাইনিস্ট
সদস্য: হাদি মুন, সৈকত হাসান, শাওন মাযহার, ওয়াফি আহমেদ
ফলাফল: ১০ জুলাই ভোর ৫টায় অ্যাডভান্স ক্যাম্প থেকে সামিট পুশের জন্য রওনা হয়ে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর কৌশলে দলের সকল সদস্য বেলা ৩ টায় মাউন্ট কানামো শৃঙ্গে আরোহণ করেন।
[২]
দল/প্রতিনিধিত্ব: দ্যা কোয়েস্ট
সদস্য: মাহমুদ হাসান রাজীব, জহিরুল হাসান ইভান, এহসান ইমন
ফলাফল: হামতা পাস ট্রেক সম্পন্ন করে ৩ জনের দল কানামো আরোহণের উদ্দেশে কিবের চলে যান। সেখানে পৌঁছে ইভান সম্পূর্ণ সুস্থবোধ না করায় তাকে কিবেরে রেখে ইমন ও রাজীব কানামো বেইজ ক্যাম্প (৪৮২০ মিটার) চলে যান। ৯ সেপ্টেম্বর বেইজক্যাম্প থেকে সামিট পুশের সময় রাজীবের শ্বাস- প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়ায় সে ফেরত আসার সিদ্ধান্ত নেয় এবং রাজীবকে রেখে একা যাবেনা দেখে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকার পরও ইমন নিচে নেমে আসে । এদিকে ইভান পরের দিন কিছুটা সুস্থ হয়ে কোয়েস্ট-এর আরেকটি টিমের সদস্য মোঃ রিয়াদুল আলমের সাথে মাউন্ট কানামো আরোহণ করেন।
[৩]
দল/প্রতিনিধিত্ব: দ্যা কোয়েস্ট
সদস্য: রিয়াদুল আলম রিয়াদ, মাযহারুল সিকদার, সাব্বির রহমান, তামান্না সুলতানা, সাঈদ আহমেদ
ফলাফল: ৭ সেপ্টেম্বর দলটি কিবের পৌঁছায়। অ্যাক্লিমাটাইজেশন শেষে ৯ তারিখ দলটি বেইজ ক্যাম্প পৌঁছায়। বেইজ ক্যাম্পে সাঈদের হালকা সমস্যা দেখা যায়। সেদিন রাতে রিয়াদ ছাড়া অন্যরা তেমন সুস্থতা বোধ না করায় আরোহণের প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করে। পরে কোয়েস্টের আরেকটি দলের সদস্য জহিরুল হাসান ইভান ও গাইড সহ রিয়াদ স্থানীয় সময় ভোর ৪.৩০মিনিটে সামিটের উদ্দেশে রেব হন। প্রথমে আবহাওয়া ভাল থাকলেও সাড়ে ১০টার পর পর তুষারপাত শুরু হয়। প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস,হোয়াইট ও তুষারপাতের মধ্য দিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর স্থানিয় সময় দুপুর ২.৪৫ মিনিটে রিয়াদ চূড়ায় আরোহণ করেন। তার পনের বিশ মিনিট পরেই ইভান চূড়ায় পৌঁছান।
[৪]
দল/প্রতিনিধিত্ব: মাউন্টেইন ম্যানিয়াক
সদস্য : তৌফিক তমাল
ফলাফল: তৌফিক তমাল ও তার গাইড টাসি দোর্জে ৫ই সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মাউন্ট কানামো আরোহণ করেন।
[৫]
দল/প্রতিনিধিত্ব: মাউন্টেইন ম্যানিয়াক
সদস্য: আপন রায়, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, আসিফ আলতাফ,  আসিফ রায়হান।
ফলাফল: মাউন্ট কানামোর প্রবেশপথের শেষ গ্রাম ৪২০০ মিটার উচ্চতার কিবের পৌঁছানোর পর অ্যাক্লিমাটাইজেশনের সময় আসিফের শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়ায় পুরো দল পরদিন কিবের গ্রামে আরাম করেন। পরদিন আসিফ রায়হানের অবস্থার উন্নতি দেখা না দিলে বাকি দলটি ৪৮০০ মিটার উচ্চতার বেইজ ক্যাম্পে চলে যান। ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৩ টায় দলটি সামিট পুশের জন্য বেইজ ক্যাম্প থেকে রওনা দেন। সোল্ডারের কাছে পৌঁছানোর পর আমিনুল ক্লান্ত হয়ে পড়লেও দুজন গাইডের সহায়তায় দুপুর ১টা নাগাদ দলের সকলে চূড়ায় আরোহণে সক্ষম হন।
[৬]
দল/প্রতিনিধিত্ব: টিম এক্সপেডিশন আন্ডার টুয়েন্টি
সদস্য: শাহাদত হোসেন সরকার, শেখ সাদী সজীব, সন্দীপ রায়, সাবিরা সিদ্দিকী মেমী
ফলাফল: টিম এক্সপেডিশন আন্ডার টুয়েন্টি’ এর তিন সদস্য শাহাদত হোসেন সরকার, শেখ সাদী সজীব ও সন্দীপ রায় এক্সপিডিশন স্টাইলে গাইড তেঞ্জিং চেরিং সহ গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ১০:৫৬ মিনিটে ৫৯৭৪ মিটার উচ্চতার মাউন্ট কানামো চূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করেন। ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৩:১৬ মিনিটে দলের চার সদস্য বেইজ ক্যাম্প থেকে সামিট পুশ শুরু করেন। দলের অপর সদস্য সাবিরা সিদ্দিকী মেমী ৫৩০০ মিটারে অসুস্থ হয়ে ৪৭৮০ মিটার উচ্চতায় সামিট ক্যাম্পে নেমে আসেন।

● থরং রি (৬১৩০ মিটার)
অবস্থান: অন্নপূর্ণা হিমাল, নেপাল।

দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র
সদস্য শাহ মইনুল ইসলাম
ফলাফল: গত ১৮ই অক্টোবর রাত ২ টায় ৫৪১৬ মিটার উচ্চতার ‘থরং লা’ পাসে স্থাপিত বেইজ ক্যাম্প থেকে ‘থরং রি’ আরোহণের জন্য মইনুল ইসলাম রওনা দেন। থরং রি-খাতুং কাং পর্বতের হিমবাহ থেকে তৈরী ছোট ছোট কয়েকটি হিমবাহ হ্রদ পেরিয়ে পর্বতের দক্ষিণ গাত্র দিয়ে তিনি আরোহণ শুরু করেন। ৬১৩০ মিটার উচ্চতার থরং রি পর্বতের ৫৮০০ মিটার পর্যন্ত আরোহণের পর সামনের পথে বিপদজনকভাবে ওভারহ্যাং ঝুলে থাকায় ও এর মধ্য দিয়ে আরোহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় শাহ মইনুল ইসলাম সেখানেই তার ‘অনিশ্চিত অন্বেষা’ অভিযানে বিরতি টেনে সাবধানে নিচে নেমে আসেন।

● অনামি চূড়া (৬০৪৫ মিটার)
অবস্থান: লাদাখ, ভারত

দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র
সদস্য: মুনীম চৌধুরী, তাহমিদ রাফিদ এবং আরিফ হোসেন লনি
ফলাফল: ২৩ অগাস্ট স্থানীয় সময় সকাল ১০:১৫ মিনিটে ভারতের জম্মু-কাশ্মিরে অবস্থিত জান্সকার পর্বতশ্রেণীর একটি অনামী শৃঙ্গে তিন অভিযাত্রী আরোহণ করেন। এক্সপেডিশন স্টাইলের এই অভিযানে ট্রেকিং শুরু করার ৫ দিন পর তারা ৪৮০০ মিটার উচ্চতায় বেইজক্যাম্প স্থাপন করেন। বেইজ ক্যাম্পের পর তাদের আরো দুটি ক্যাম্প স্থাপন করতে হয়। তাদের সামিট ক্যাম্পের উচ্চতা ছিল ৫৪৭০ মিটার। সামিট ক্যাম্প থেকে ভোর ৪:৩০ মিনিটে রওনা দিয়ে তিন অভিযাত্রী সকাল ১০:১৫ মিনিটে ৬০৪৫ মিটার উচ্চতার অনামী শৃঙ্গে আরোহণ করেন।

● মাউন্ট গাড়ুর ডোম (৬২৬৮ মিটার)
অবস্থান: উত্তরাখন্ড, ভারত।

সদস্য: ইফতেসা অরনী, শাহেদ রুহী, তানিয়া পারভীন
ফলাফল: ৯ জুলাই ৩জন সদস্য ও দুজন গারোয়ালি গাইড বেইজ ক্যাম্প থেকে সামিটের উদ্দেশে রওনা হন। স্নো বুটের সাথে পায়ের মাপের বিস্তর তারতম্য থাকায় দলনেত্রী অরনী ৫৪০০ মিটার থেকে র‍্যাপেল করে নিচে নেমে আসেন। ৫৬০০ মিটার উচ্চতায় আরেক সদস্য শাহেদ রুহি অসুস্থবোধ করায় নিচে নেমে যান। অতঃপর স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩০ মিনিটে তানিয়া দুজন গাইড সহ একটি উচ্চতর জায়গায় পৌঁছানোর পর গাইডরা একে সামিট বলে দাবি করে। অভিযাত্রীর সাথে থাকা জিপিএস-এ সর্বোচ্চ স্থির উচ্চতা পাওয়া গেছে ৫৮২৭ মিটার।

● ফ্রেন্ডশিপ পিক (৫২৮৯ মিটার)
অবস্থান: হিমাচল প্রদেশ, ভারত
[১]

দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র
সদস্য: এআর সোহেল ভূঁইয়া, সাদ্দাম হোসেন, দবির শিকদার এবং তন্ময় সজীব
ফলাফল: ৭ সেপ্টেম্বর হিমাচল প্রদেশের ধুন্দি (২৮৫০মিটার) থেকে ট্রেক শুরু করেন। ৯ তারিখ বেইজ ক্যাম্প থেকে ৮০০ মিটার উচ্চতায় ৪৫০০ মিটারে সামিট ক্যাম্প স্থাপন করেন। ১০ সেপ্টেম্বর রাত ২টায় সামিট ক্যাম্প থেকে তিন অভিযাত্রী রওনা হন। আগের দিন দবির শিকদার স্নো বুটে প্রাক্টিস করার সময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায়, সামিটে না যাবার সিদ্বান্ত নেয়। অন্য দিকে স্নো বুটে হাঁটতে না পারায় রাত ২:৪০ মিনিটে নিচে সাদ্দাম হোসেন নেমে একাই সামিট ক্যাম্পে ফিরে আসেন। সামিট রিজের সোল্ডারে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে সোহেল ভূঁইয়া অসুস্থ বোধ করায় নিচে নেমে যান। তন্ময় সজীব তার দুজন গাইডের সহয়তায় সামনে এগিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। অতঃপর স্থানীয় সময় সকাল ৮:১৩ মিনিটে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারনে স্থানীয় দুজন গাইড চূড়ায় পা রাখতে অপারগতা জানানোয় ‘ফ্রেন্ডশিপ’ চূড়ার ফ্রেন্ডশিপ চূড়ার মূল সামিটের ৮ মিটার নিচে এসে দলটি থেমে যায়। গাইডরা এটিকেই সামিট হিসেবে দাবি করেন।
[২]
দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র ( নর্থ বেঙ্গল এক্সপ্লোরার্স ক্লাব, ভারত)
সদস্য: আজিমুন আক্তার সোনালী
ফলাফল: সোনালী ৪৮৭৬ মিটার পর্যন্ত আরোহণ করেন।

● কাংইয়াৎসে (৬২৫০ মিটার)
অবস্থান: লাদাখ, ভারত।

দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র
সদস্য: তন্ময় সজীব, ইমরান খান অজিল, মোঃ তৌফিকুল ইসলাম
ফলাফল: ৪ জুলাই বেইজ ক্যাম্প থেকে সামিটের উদ্দেশে রওনা দিয়ে চূড়ার প্রায় ৩০০ মিটার নিচ থেকে অভিযাত্রীরা ফিরে আসেন।

● চুলু ইস্ট (৬৫৮৪ মিটার)/ চুলু ফার ইস্ট (৬০৫৯ মিটার)
অবস্থান: অন্নপূর্ণা হিমাল, নেপাল।

দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র
সদস্য: আরিফুর রহমান, আশরাফুল হক, শাহিন গাফফার
ফলাফল: একজন সদস্যের অল্টিটিউড সিকনেস ( আশরাফ) ও আরেকজন সদস্য ( শাহীন) প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে পড়ায় দুই সঙ্গীকে ইয়াক খারকায় রেখে আরিফ একাই বেইজ ক্যাম্পে চলে যান। ২৩ নভেম্বর রাতে তিনি একাই কোন রকম সহযোগীতা ছাড়া সামিটের উদ্দেশে বের হন। চুলু ইস্ট ও ফার ইস্টের কানেক্টিং কল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার নিচ থেকে তিনি ফিরে আসেন।

● লারকে পিক/ থুলো লারকে (৬২৪৯ মিটার)
অবস্থান: মানাসলু হিমাল, নেপাল।

দল/প্রতিনিধিত্ব: বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)
সদস্য: নূর মোহাম্মদ, কাজী বিপ্লব, শায়লা পারভীন বিথী, ইকরামুল হাসান শাকিল ও এম.এ মুহিত
ফলাফল: দলটি ২২ অক্টোবর বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছায়। শেরপারা ২৩ তারিখ হাইক্যাম্প (৫৬৬০ মিটার)স্থাপন করেন। পরদিন অভিযাত্রীরা হাই ক্যাম্পে চলে যান। এদিন রাতেই সামিটের উদ্দেশে রওনা দেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রচন্ড বাতাস ও তুষারপাতের কারণে তারা বের হতে পারেন নি। পরদিন রুট ওপেন করতে গিয়ে শেরপা রা জানায় রিজলাইনের উপরে কোমর পর্যন্ত নরম তুষারে ঢেকে আছে। পরবর্তীতে সামিটে না যাবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ও দল ২৫ অক্টোবর বেইজক্যাম্পে ফিরে আসে।

● মাউন্ট এভারেস্ট (৮৮৪৮ মিটার)
অবস্থান: সলো খুম্বু, নেপাল।

দল/প্রতিনিধিত্ব স্বতন্ত্র (ইন্টারন্যাশনাল টিম; অরুন ট্রেক এন্ড এক্সপিডিসন্স, নেপাল)
সদস্য মৃদুলা আমাতুন নূর
ফলাফল: লুকলা থেকে ট্রেক শুরু করে এপ্রিলের ১৫ তারিখে বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছান। লোড ফেরি করার সময় এপ্রিলের ২৪ তারিখে ক্যাম্প-এক এর কাছে এক দূর্ঘটনায় ম্ররুদুলার দলের ৪ জন শেরপা দূর্ঘটনার কবলে পরেন। এর মধ্যে মৃদুলার নিজস্ব শেরপা নিমা নুরুকেও আহত অবস্থায় হেলি রেস্কিউ করা হয়। এর আগে কাঠমান্ডুর শম্ভুনাথ মন্দিরের বানরে তার উপর আক্রমন করে আঁচড় দিলে পরবর্তীতে সেই স্থানে সংক্রামণ দেখা দেয়। ফলে তার জুমারিং করতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল। অ্যাক্লিমাটাইজেশন রোটেশন শেষে সামিটের উদ্দেশে বেইজ ক্যাম্প থেকে রওনা দেয়ার পর ১৭ই মে ক্যাম্প-দুই থেকে ক্যাম্প-তিন এ পৌঁছানোর আগে ৬৭০০ থেকে ৬৮০০ মিটার উচ্চতা থেকে মৃদুলা নিচে নেমে আসেন।

● কিলিমাঞ্জারো/উহুরু পিক (৫৮৯৫ মিটার)
অবস্থান: তানজানিয়া।

দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র
সদস্য: মুহাম্মদ হোসেইন সবুজ
ফলাফল: ৯ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ৮:০৫ মিনিটে গাইড সায়মনকে সাথে নিয়ে সবুজ উহুরু চূড়ায় আরোহণ করেন।

●মাউন্ট চান্দ্রা ভাগা-১৩/এ (৬২৪০ মিটার)
অবস্থান: হিমাচল প্রদেশ, ভারত।

দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র (পাইওনিয়ার্স অ্যাডভেঞ্চারস, কাঞ্চাপাড়া)
সদস্য: হোমায়েদ ইসহাক মুন
ফলাফল: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পর্বতারোহণ ক্লাব পাইওনিয়ার্স অ্যাডভেঞ্চারস, কাঞ্চাপাড়া’র আয়োজনে পরিচালিত এই অভিযানে বাংলাদেশ থেকে যোগ দিয়েছিলেন হোমায়েদ ইসহাক মুন। দলের ৮ জন সদস্য ২ জন হাই অল্টিটিউড পোর্টারের সহায়তায় ১৭ অগাস্ট স্থানীয় সময় দুপুর ২ টায় চূড়ায় আরোহণ করেন। বাংলাদেশী অভিযাত্রী ৬১০০ মিটার উচ্চতা থেকে নিচে নেমে আসেন।

●শালডর রি (৫৯০০ মিটার)
অবস্থান: লাদাখ, ভারত।

দল/প্রতিনিধিত্ব: স্বতন্ত্র
সদস্য: শাহ মইনুল ইসলাম, কামরুল হাসান সজীব, সালেহীন আরশাদী, ইমরান খান অজিল
ফলাফল:৮ জুলাই রাত ১২ টায় বেইজ ক্যাম্প থেকে রওনা দিয়ে সকাল ৮:২০ মিনিটে হোয়াইট আউটের কারণে রিজ লাইনের ৫৫৮৬ মিটার উচ্চতা থেকে নিচে নেমে আসেন। ক্রাম্পনে সমস্যা হবার কারণে মইনুল ইসলাম ৫৩০০ মিটার উচ্চতার ক্রাপন পয়েন্টে এসে থেমে যান।


সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে: ১ জানুয়ারি ২০১৮

(Visited 1 times, 1 visits today)

৫ thoughts on “অদ্রি সালতামামি ২০১৭

  1. আমাদের মধ্যে পূর্ববর্তী অভিযান গুলোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা বা সেগুলোর ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নেয়ার বিষয়টি একেবারেই অনুপস্থিত। এ ব্যাপারটি বাংলাদেশের পর্বতারোহণের জন্য একটি ভীতিকর ব্যাপার। : sad but very much true.

    স্টকে বেশীর ভাগ সময় গাইডরা ফলস সামিট থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে – প্রেয়ার ফ্ল্যাগ ফলস সামিটেও থাকে – এডভানসড বেস ক্যাম্প এও থাকে ( স্টক – এ ) তাই জেনে শুনে না গেলে প্রতারিত হওয়া খুব সম্ভব । এ খানেও প্রস্তুতির অভাব ডেখা যায় ।

    অভিযান গুলোতে জিপিএস ব্যবহার – রিডিং এর ভিডিও – ট্রেইল এগুলো প্রকাশ বরাবরের মতই অনুপস্হিত ।

    চুলু ইষ্ট এ অলটিচিউড সিকনেসের সমস্যাটা কারণ হিসেবে উল্ল্যেখ করা হয়েছে – আমার জানা মতে বিষয়টা ঠিক না । ঠান্ডায় কাবু হয়ে যাওয়াটাই মুল কারণ ছিল ( অন্তত একজন সদস্যের জন্য সেটা আমি নিশ্চত ) – বিষয়টা সংশোধনের অনুরোধ রইল ।

    সালতামমি টা ভাললাগসে , অদরকারী কথা লৌকিকতা কম , কাজের কথা বেশী – সোজা সাপটা এপ্রোচ পছন্দ হইসে ।

  2. বেশ সুন্দর হয়েছে এইবারে অদ্রি সালতামামি,অনেক গুলো অভিজানের খুটি নাটি যানা অজানা বিষয় জানতে পারলাম,অদ্রিকে ধন্যবাদ এমন একটি উদ্দেগ নেয়ার জন্য,যা আমাদের মতো নবিন শিক্ষার্থী দের কাজে লাগবে বলেই আমি মনে করি,এই বছর বেশ কিছু অভিযান এর অনেক না যানা তথ্যাদি এর মাধ্যমে জানতে পারছি। অদ্রির সাথে জড়িত সকল সদস্যদের অভিনন্দন জানাচ্ছি সুন্দর পরিপাটি গোছানো সালতামামি উপহার দেয়ার জন্য। আমরা যারা পাহাড় ভালবাসি এবং পাহাড়ে যেতে চাই সবার এই তথ্য বহুল সালতামামি তে একবার চোখ বুলানো উচিৎ।
    তবে একটি অভিযান এর কথা মনে হয় বাদ পড়ে গেছে ১৭ সালে জুলাই মাসের দিকে একটি অভিজান হয়েছিল ইন্ডিয়ার লাদাখ অঞ্চলে সদস্য ছিলেন সালেহিন ভাই,মাইনুল ভাই ও কামরুল হাসান সজিব,ইনাদের অভিজান এর কথা দেখতে পাচ্ছি না,আশাকরি অচিরেই তথ্য টি আপডেট করা হবে।

  3. অনেকগুলো অভিযান সম্পর্কে জানতে পারলাম। ধন্যবাদ অদ্রিকে এমন একটি সালতামামি উপহার দেয়ার জন্য…

  4. পড়লাম, স্বল্প কথায় সুন্দর করে সব তথ্য দেয়া আছে। সব অভিযানের খবর আমি জানতাম না, জেনে ভালো লাগলো। অদ্রিকে ধন্যবাদ। তবে ‘কোয়েস্ট’-এর মাহমুদ হাসান রাজীব, জহিরুল ইসলাম ইভান, এহসান ইমন এর কানামো অভিযানের তারিখ সময় নাই। কেন কে জানে?
    তবে সেই ২০০৩ সালে HMI-তে বসে ব্যাপক হারে পর্বতারোহণ ছড়িয়ে যাবার যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, তার এমন ব্যাপকতা দেখে সত্যি কিছুটা হতাশ। আশংকা হচ্ছে সামনে দুর্ঘটনা সংগঠিত হবার।
    নতুন আগ্রহীদের বলছি – জেনে, বুঝে, শুনে, শিখে, দেখে পর্বতে যাও।

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)