ফ্রেন্ডশিপ শিখরে বাংলাদেশ


গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল স্থানীয় সময় সকাল ৮:১৩ মিনিটে ভারতের হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত ৫২৮৯ মিটার উচ্চতার ‘ফ্রেন্ডশিপ’ চূড়ায় আরোহণ করেছেন বাংলাদেশী অভিযাত্রী তন্ময় সজীব।

তন্ময় সজীব সহ চার সদস্যের অভিযাত্রী দলে আরো ছিলেন এআর সোহেল ভূঁইয়া, সাদ্দাম হোসেন এবং দবির শিকদার। তারা গত ৭ সেপ্টেম্বর হিমাচল প্রদেশের ধুন্দি (২৮৫০মিটার) থেকে ট্রেক শুরু করে প্রথম ক্যাম্প স্থাপন করেন সোলাং উপত্যকার লুহালিতে। পরদিন দলটি বিয়াস নদীর অপরপাড়ে ‘লেডি লেগ’ নামের ঢালের উপর  ৩৭০০ মিটার উচ্চতায় তাদের বেইজক্যাম্প স্থাপন করেন। ৯ তারিখ বেইজ ক্যাম্প থেকে ৮০০ মিটার উচ্চতায় ৪৫০০ মিটারে সামিট ক্যাম্প স্থাপন করেন। সামিট ক্যাম্পে পৌঁছে দলের সকলে স্নো বুট পরে এক্লিমাটাইজেশনের জন্য আরো প্রায় ৩০০ ফিটের মত উচ্চতায় উঠে আবার সামিট ক্যাম্পে চলে আসেন।


অভিযাত্রী দল: দবির শিকদার, এ.আর সোহেল ভূঁইয়া ( উপর থেকে বামে) , সাদ্দাম হোসেন এবং তন্ময় সজীব ( নীচ থেকে বামে)।

১০ সেপ্টেম্বর রাত ২টায় সামিট ক্যাম্প থেকে তিন অভিযাত্রী রওনা হন। আগের দিন দবির শিকদার স্নো বুটে প্রাক্টিস করার সময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায়, সামিটে না যাবার সিদ্বান্ত নেয়। অন্য দিকে রাত ২:৪০ মিনিটে সামিট ক্যাম্প থেকে সাদ্দাম স্নো বুটে হাঁটতে না পারায় নিচে নেমে একাই সামিট ক্যাম্পে ফিরে আসে। সামিট রিজের সোল্ডারে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে সোহেল ভূঁইয়া অসুস্থ বোধ করায়, দলের কথা ভেবে তিনিও নিচে নেমে যান। তন্ময় সজীব তার দুজন গাইডের সহয়তায় সামনে এগিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।

রাত ৪ টার দিকে সামিট রিজের সোল্ডারে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আবহাওয়া বিরুপ আকার ধারন করে। প্রচন্ড বাতাস, হোয়াইট আউট আর তুষার পাত শুরু হয়। রিজ লাইনের সামান্য নিচে রক ওয়ালে রোপ ফিক্স করে গাইড রজত ঠাকুর। পরে তন্ময় ও গাইড আশু ফিক্স রোপ ধরে রিজ লাইনের শেষে পৌঁছে যান। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারনে স্থানীয় দুজন গাইড  চূড়ায় পা রাখতে অপারগতা জানানোয় ফ্রেন্ডশিপ চূড়ার মূল সামিটের ৮ মিটার নিচে এসে দলটি থেমে যায়।


মূল সামিটের ৮ মিটার নীচে তন্ময় সজীব।

এই বিষয়ে তন্ময় সজীব জানান, “সামিটের ৮ মিটার নিচে এসে গাইডরা যখন জানালো এটাই সামিট তখনই এই বিষয়ে আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করি। তারা জানায় ধর্মীয় কারনে তারা চূড়ায় পা রাখেন না। আর আই.এম.এফ ও নাকি চূড়ার ১০-১৫ মিটার নিচ পর্যন্ত সামিট হয়েছে বলে ধরে নেয়। আমার মন তাতে সায় না দিলেও আমি ওদের কথায় অবিশ্বাস করতে পারিনি। কারন এত খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যারা আমাকে এত দূর পর্যন্ত নিয়ে এসেছে তারা চাইলে এই ৮ মিটার ক্লাইম্ব করা আহামরি কোন ব্যাপার ছিল না। গাইডরা তাদের ধর্মীয় মতে নারিকেল ফাটিয়ে পূজাও দেয়। সব কিছু দেখে আমি তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে শেষ ৮ মিটার আরোহণ করা থেকে বিরত থাকি”।

(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)