সুউচ্চ বৃক্ষরাজি ও ভাল মানুষদের গল্প

One of the last mature forest patches of CHT_Sayam U. Chowdhury

উঁচু উঁচু পাহাড়ের তলদেশে, মায়ার উপত্যকায়,
অতিকায় বৃক্ষরাজি হতে উচ্ছ্বাসের ফিসফিসানি আর উৎসুক হাওয়ায়,
যেখানে বৃষ্টি আদিম শিকড় ছুঁয়ে, পাহাড়ি ছড়া হয়ে নেমে আসে।
এখানে মমতা নিয়ে বাঁধা বাঁশের তৈরি ঘরে
ভাল মানুষ, পাহাড়ি কৃষক বসবাস করে।

কখনও কি আপনি আমাদের সবুজ পাহাড়ের এতটা গভীরে গিয়েছেন, যেখানে এর সত্যিকারের বাসিন্দাদের খোঁজ পাওয়া যায়? ধারণা করি আমাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই পাহাড়ের শহুরে গণ্ডীর বাইরে গিয়েছি। ঘন বুনো পরিবেশের জীবন সম্পর্কে আমাদের অধিকাংশই স্বল্প ধারণা রাখি। শহুরে গণ্ডী পেরিয়ে একটু গভীরে উঁচু ভূমির দিকে যদি যান, প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা সুপ্রাচীন বনাঞ্চলের দেখা মিলবে। বৃক্ষের কাণ্ডগুলো যেখানে এতটাই প্রকাণ্ড যে পাঁচজন মানুষও একসঙ্গে চারদিক থেকে জড়িয়ে ধরলে একজন আরেকজনের হাত মেলাতে পারবেন না। আর এতটাই সুউচ্চ যে উপরের ক্যানোপির দিকে তাকালে মাথা ঘুরাবে আপনার। বৃক্ষরাজির আরোহীরা এতটাই দীর্ঘদেহী যে, ঝুলে ঝুলে এক বৃক্ষ থেকে আরেকটায় চলে যেতে পারে অনায়াসে। ওখানে বনগুলো এতটাই ঘন আর সন্নেবেশিত যে অপরাহ্নেই অন্ধকার নামে। এই পরিবেশের নির্মলতা ও বেড়িয়ে পড়ার ইচ্ছাটা সবসময়ই আমাকে এই দুর্গমতার দিকে টেনে নিয়ে গেছে।

২২০০ ফিট উচ্চতায় বন

পার্বত্য চট্টগ্রামের শেষ প্রাকৃতিক বনগুলোর মানুষ ও এর অন্যান্য প্রাণীকূল সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার অভিযানে, গত কয়েকটা বছর এর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানোর সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সুযোগ হয়েছিল বান্দরবানের গহীনে, সাঙ্গু-মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও এর আশপাশে কয়েকটি অভিযান চালানোর। সেখানে আমার প্রকৃতিবিদ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে এই দুর্গম পাহাড়গুলোতে অনেক চমকপ্রদ গল্পের সন্ধান পেয়েছি। তার চেয়েও বেশি যেটা পেয়েছি, তা হচ্ছে এই বিচিত্র ও বিপদসংকুল পাহাড়গুলো যে মানুষগুলোর আলয়, তাদের জীবনের গভীরে ডুব দেবার সুযোগ।

এমনি এক দিনে, পাহাড়ের উপর আমরা মাইলের পর মাইল সন্নিবিষ্ট বনের মধ্য দিয়ে হাঁটছিলাম। আমাদের মাথার উপরটা বৃক্ষরাজির ক্যানোপিতে ঢেকে ছিল। সেখানে না ছিল কোন রাস্তা, না ছিল মানুষ, না ছিল এমন কিছু যা ওই পরিবেশের প্রশান্তিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। পাতার ফাঁক গলে হলুদ-সবুজ বর্ণের সূর্যালোক আমার ত্বককে স্পর্শ করছিল। পাহাড়ি পাখির কলতান আমার মনকে করছিল প্রশমিত, সবুজ বনানীর দেয়ালের ফাঁক গলে অনিয়মিত মৃদু বাতাস মুখে এসে দিচ্ছিল ধাক্কা। যান্ত্রিক কোলাহল থেকে বহুদূরে এই আমি যখন আশেপাশের উপাদানগুলো মন দিয়ে উপভোগ করছিলাম, চারপাশের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমার অনুভবটা প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছিল।অদ্রি

আমাদের পাহাড়গুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সামগ্রিকতা। এখানে সবকিছু ভিন্ন ভিন্ন থেকেও যেন সবকিছু এক ও অভিন্ন। এই পাহাড়ি ভূমির বিশালতা সবসময়ই বিমোহিতকর, এই বিশালত্বের মধ্যে যে দিকেই তাকাই না কেন, তা একটা পাহাড় বা একটা গাছ বা একজন চাষীই হোক না কেন। প্রতিদিন সকালে সূর্যকে পিছনে রেখে আমি এই প্রাকৃতিক দৃশ্যের পানে চেয়ে চেয়ে দেখতাম। মানুষের পরাক্রমশালী পরিচয়ের খোলসটাকে দূরে সরিয়ে রেখে প্রকৃতির কাছে নিজেকে সঁপে দিতাম। কল্পনা যেন বাস্তবে রূপ নিত। আর আমি মনে করি ঠিক এখানেই সৃষ্টির শুরু এবং যেটা আমাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশালত্ব

সারাটা দিন আমরা বন্যপ্রাণীর সন্ধান করে কাটিয়ে দিতাম। বিশেষ করে এমন পাহাড়ি পাখিগুলো খুঁজতাম, যেগুলো বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যায় না। রাতে আমাদের ম্রো বন্ধুদের বাঁশের তৈরি ঘরে থাকতাম, একেক রাতে একেক পাড়ায়। দেশের সবচেয়ে উঁচু ভূমির এই পাড়াগুলো বেশির ভাগ সময়ই থাকত ঘন বন-জঙ্গলে ঘেরা।

কয়েকটি ছড়া ও ঢাল দিয়ে পরিবেষ্টিত কোন এক পাহাড়ের ঠিক উপরেই ছিল এমনি একটি পাড়া। তাতে কয়েকটি মাত্র ম্রো পরিবারের বসবাস। সেখানে আমার বন্ধু মংক্ষেও’র রয়েছে নিজের ছোট্ট একটি বাঁশের ঘর। প্রায়ই যখন আমার এই ম্রো বন্ধুটিকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করতাম, অনুভব করতাম তার রহস্যাবৃত চোখ জোড়া পাহাড়ের বিশালত্বে বিস্মৃত, তার সরু ও কৌণিক মুখখানা যেন পান করেছে বর্ষার শেষ জলবিন্দু আর তার শক্তিশালী দেহ বহন করে আছে পবিত্রতার সকল চিহ্ন।অদ্রি

মংক্ষেওর ঘরটার প্রায় সবকিছু বাঁশ দিয়ে তৈরি; ছাউনি, ছাদের কাঠামো, খুঁটি, মেঝে, এমনকি বালিশগুলো পর্যন্ত। ম্রো’রা খুব সাধারণ উপায়ে জীবন যাপন করে এবং সম্ভবত তারাই এ দেশের সম্পদের সবচেয়ে কম ব্যবহারকারী। তাদের নেই কোন বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই ইট কিংবা কনক্রিটের স্থাপনা, নিজের দুটি পা ছাড়া চলাচলের জন্য নেই কোন বাহন।

এক রাতে, অন্ধকার পাহাড়গুলোর দিকে মুখ করা এক ঢালের উপর বাঁশের মাচায় শুয়ে ছিলাম। কিছু সময় পর আবিষ্কার করলাম উপর থেকে হাজার হাজার তারা আমার দিকে চেয়ে আছে। জ্বলজ্বল করা আলোর ছন্দে যোগ দিয়েছে জোনাকিরা, রাতের ক্ষুদ্র প্রাণীরা তীক্ষ্ণ শব্দে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। কাছের একটা ঢাল থেকে কদাচিৎ একটা পাহাড়ি নিমপ্যাঁচা ডাকছিল। তারার আলোয় দূর পাহাড়ের রেখাগুলো আরও স্পষ্টভাবে যেন বুঝতে পারছিলাম। আশেপাশে এমন কিছু নেই যে এই সময়টাকে উপভোগ করতে কোনরকমভাবে বিরক্ত করতে পারে। না আছে আশপাশে কোন গাড়ির ভেঁপুর শব্দ, না আছে আমার মুঠোফোনটাতে কোন সিগন্যাল।

দিনের বেলায় আমি মাঝে মধ্যে ছড়ার পাশের ডিম্বাকার পাথরের উপর বসে বসে, বয়ে চলা পানির আঁকাবাঁকা গতিপথ দেখতাম। লক্ষ্য করতাম কিভাবে পানির স্রোত পাথরের উপর কাজ করে এর প্রকৃতি বদলে দেয়, হাজার বছরে বদলে দেয় সমগ্র ভূচিত্রকেই। মাথার উপরে গাছের ঝুলন্ত শাখা প্রশাখা পরিস্রুত সূর্যালোক ও ঢাল থেকে নেমে আসা প্রাচীন বৃক্ষের মাটি স্পর্শ করা শিকড়গুলো ছড়ার অগভীর অংশটাকে যেন একটা নুড়ি ভর্তি ছোট্ট উষ্ণ পুস্করিণীতে পরিণত করেছে। একটা উৎসুক দাগি মাকড়সা পাখি কয়েকবার এসে আমাকে তার অভিবাদন জানিয়েছে। বন্ধু মংক্ষেও আমার পাশে বসে বসে আমাকে নিচের উপত্যকার বন্যপ্রাণী সন্ধানে সাহায্য করত। আমরা আমাদের ভাললাগা, উচ্ছ্বাস ও বেদনার গল্পগুলো ভাগাভাগি করতাম।

ম্রো পাড়া_ সায়েম চৌধুরী

মংক্ষেও, তার পরিবার ও তার পাড়ার অধিবাসীদের এতটা কাছ থেকে জানতে পারাটা ছিল আমার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা। তারা আমাদের খুব কাছে বাস করেও, আমাদের থেকে অনেক দিক দিয়ে ভিন্ন। প্রতিদিন তার কাছ থেকে নতুন কিছু শিখেছি, শুধু পাহাড় সম্পর্কেই না, জীবন সম্পর্কেও। গত দশ বছর বাংলাদেশের সর্বত্র দুর্লভ সব সৌন্দর্য আর পাখিদের পিছনে ছুটেছি আমি, নানা পথের নানা মানুষের সঙ্গে মিশেছি, কিন্তু পাহাড়ের এই বন্ধুগুলোর মত এতটা উষ্ণভাবে ও সাদরে গ্রহণ করার মত মানুষের দেখা আর কোথাও পাইনি। যতখানি চেয়েছি তারা আমাকে তার চেয়ে বেশি কিছু দিয়ে এগিয়ে এসেছে; খাবার থেকে শুরু করে মাথা গোঁজার ঠাই, একটু আয়েশ, নিরাপত্তা- সবকিছু। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা অর্জন করতে পেরেছি, সেটা হচ্ছে তাদের বিশ্বাস। কিন্তু বিনিময়ে কখনই কোন কিছু তারা আশা করেনি।

আমি যখন এই লাইনগুলো লিখছি; জানি, হয়ত আমি এই মানুষগুলোর সঙ্গে মুক্তভাবে আর কথা বলতে পারব না। উর্দি পরিহিত নিরাপত্তা বাহিনীর তৈরি এক দেয়ালে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকব আমরা, মানুষগুলোর সঙ্গে বন্ধু হবার সুযোগটাও রহিত হবে আমাদের। ভয় হয়; আমার পাহাড়ের বন্ধুরা যারা আমাকে এত কিছু দিয়েছে, তারা হয়ত আমাকে কখনও আর বিশ্বাস করবে না, আর কখনই বন্ধু হতে চাইবে না।

আমি ভাবি, কিভাবে আবার সেই মানুষটির সামনে গিয়ে দাঁড়াব, যে একসময় আমার সকল অদ্ভুত চাহিদাগুলো পূরণ করেছে, তারই পিছনের উঠানে আমাকে বন্যপ্রাণী নথিভুক্ত করতে সাহায্য করেছে। জানি না আমি কিভাবে আবার তাঁর চোখের দিকে তাকাব। এরকমটা ঘটুক আমি তা কখনই চাই না। নিরাপত্তার নামে কেন আমাকে আমার বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে? গুটি কয়েকজনের কার্যকলাপের জন্য কেন এই দেশের প্রতিটি মানুষকে এই শাস্তি ভোগ করতে হবে?

আমাদের বনভূমি, জলাভূমি ও প্রতিটি বন্য জায়গা ধ্বংসের কারণ হিসেবে আমরা অন্ধভাবে দারিদ্র্য ও জনসংখ্যাকে দায়ী করি। দারিদ্র্য কিংবা জনসংখ্যা কোনটাই কিন্তু সুন্দরবনে তেল নিঃসরণ ঘটনার কারণ ছিল না। একইভাবে ম্যানগ্রোভ বনের প্রান্তে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর যেখানে কিনা হাজার হাজার পরিযায়ী পাখিরা এখনও মুক্তভাবে উড়ে বেড়ায় অথবা গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে ক্রস ড্যাম, যেখানে স্বল্প আয়ের জেলেরা তাদের জীবন ধারণের অবলম্বন খুঁজে ফেরে। রাষ্ট্রের গৃহীত নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো প্রকৃতি ও মানুষের যথাযথ মূল্যকে প্রতিনিয়ত অবিবেচকভাবে অবেহেলা করে যাচ্ছে। উপযুক্ত নীতির অভাবই আমাদের শেষ বন্য জায়গাগুলোকে সংকুচিত করে ফেলছে, ভাল মানুষগুলোর মধুর সম্পর্কগুলোর মধ্যে মিশিয়ে দিচ্ছে তিক্ততা।

আমরা স্বাধীনতার কথা বলি; একে সত্যিকার অর্থে অনুভব করতে হলে বোধ হয় এটাই সময় প্রকৃতি ও এই প্রকৃতির খুব কাছেই যে মানুষগুলো অবস্থান করে তাদের সঙ্গে আমাদের পুনঃসংযোগ স্থাপন করার। একটি দেশের কবিদের পংক্তিমালায় সবসময় সে দেশের জন্য প্রকৃত ভালবাসাটা প্রকাশ পায়, এ বিষয়ে সবাই সম্মত হব। এখন, আমাদের শহুরে সমাজে অভ্যস্ত কবিরা যদি পাখি, প্রকৃতি কিংবা জ্যোৎস্না রাত নিয়ে কিছু লেখার অবকাশই না পায় তাহলে দেশপ্রেমের সঠিক প্রকাশ হবেই বা কোথায়। যদি আমরা এভাবে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকি আর আমাদের সন্তানেরা কনক্রিটের উন্মাদনার ভেতর বাস করতে থাকে, তাহলে কিভাবে আশা করি যে তারা এই দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসবে আর দেশের জন্য ভাল কিছু করতে চাইবে? কিভাবে প্রত্যাশা করি যে তারা বর্তমান রাজনীতিবিদের থেকে পরবর্তীতে আমাদের ভিন্নভাবে নেতৃত্ব দিবে? আমরা কি কখনও এটা ভেবে দেখেছি?

(Visited 1 times, 1 visits today)
সায়েম ইউ চৌধুরী
সায়েম ইউ চৌধুরী
সায়েম ইউ চৌধুরী একজন জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞ। দেশ-বিদেশে কাজ করে যাচ্ছেন বিপন্ন পাখি ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণে।

৬ thoughts on “সুউচ্চ বৃক্ষরাজি ও ভাল মানুষদের গল্প

  1. বিশ্বাস করুন, আমি আমার নিজেকে ধন্য করবার জন্য আপনার এই ভাষায় প্রকাশ অযোগ্য লেখায় এই হাতটুকু দেবার দুঃসাহস করেছি। বিশ্বাস করুন। বিশ্বাস করুন। গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেছে আমার।

  2. “প্রতিদিন সকালে সূর্যকে পিছনে রেখে আমি এই প্রাকৃতিক দৃশ্যের পানে চেয়ে চেয়ে দেখতাম। মানুষের পরাক্রমশালী পরিচয়ের খোলসটাকে দূরে সরিয়ে রেখে প্রকৃতির কাছে নিজেকে সঁপে দিতাম। কল্পনা যেন বাস্তবে রূপ নিত। আর আমি মনে করি ঠিক এখানেই সৃষ্টির শুরু এবং যেটা আমাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে।”

    পাহাড়ের যে রূপ আপনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন, সেই রূপ আমার এখনো দেখা হয নি। খুব কম জানি পাহাড় সম্পর্কে। অনুভব করি, পাহাড় আমাকে কখনো কখনো হয়তো থেকে যেতে বলে তার কাছে। পাহাড়ের বিশালত্বে বিস্মৃত রহস্যাবৃত চোখের ম্রো বন্ধুর কথা পড়ে আমারও মনে হয়, আমার এমন কেউ থাকলে ভালো হতো। যে শক্তিশালী দেহ বহন করে আছে পবিত্রতার সকল চিহ্ন, তার কাছাকাছি থেকে প্রাচীন সুউচ্চ ভূমিতে পায়ে পয়ে হেঁটে চলা কিংবা পাহাড়ি নিমপ্যাচার ডাকের সাথে চোখ মেলে নীচের দিকে তাকিয়ে থাকা তারাদের দেখার অনুভূতি আমাকে অাকুল করে। কিন্তু, সেই আপনার মতো ভয় আমারও হয়। আমিও ভাবি, আমার কোন ম্রো বন্ধু হয়তো হবে না। জলপাই রঙের পোশাক ক্রমশ মজবুত আড়াল তুলছে আমাদের মাঝে। সুউচ্চ ভূমির ভালো মানুষদের সাথে আমার দেখা হওয়ার অপেক্ষা বাড়ছে ক্রমশ..। তবুও আমি আশা রাখি…। হাজার বছরের পাহাড়সাঁরিতে কোন এক ভালো মানুষকে সাথে নিয়ে পায়ে পায়ে হেঁটে চলার সুন্দর ভোরের আশা..। চমৎকার লেখার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা। ভালো থাকবেন। শুভ কামনা রইলো।

  3. না ভাবিনি । ভাববার প্রয়োজন বোধ করিনি । কারণ আমরা সবাই স্বার্থপর …..একদিন স্বার্থের প্রয়োজনে দু:খ করবো ।

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)