যা হয়েছিল মুসার কার্সটেঞ্জ অভিযানে


ইন্দো-বাংলাদেশ কার্সটেঞ্জ পিরামিড যৌথ অভিযানের অভিযাত্রীদের রোমাঞ্চকর যাত্রা শেষ হয়েও হচ্ছে না। বেইজ ক্যাম্প থেকে হেলিকপ্টারে করে আজ নিরাপদে তিমিকায় অবতরণ করার পর কার্যত তারা গৃহবন্দী হয়ে আছেন। তিমিকার হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠান তাদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে রাখায় তারা দেশে ফিরতে পারছেন না।

তিমিকা থেকে পর্বতারোহী মুসা ইব্রাহিমের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠান এশিয়াওয়ান তাদের উদ্ধার করার জন্য এখন অন্যায়ভাবে তিনগুন টাকার (১১০০০ ডলার) দাবীতে তাদের পাসপোর্ট অবৈধভাবে বাজেয়াপ্ত করে রেখেছে।



পাওয়া যাচ্ছে অদ্রিতে। যোগাযোগ: ০১৯৬৬৭৮৪১৮১


অভিযাত্রী মুসা ইব্রাহিম তার ফেসবুক পোস্টে দাবী করেন, “গতকাল রবিবার হেলিকপ্টার সকাল ১০ টায় বেইজক্যাম্পের দিকে গিয়েছিল, ততক্ষণে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় তারা আবার তিমিকায় ফিরে আসে, এটি পুরোটাই হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। কারণ তারা সকাল ৬টা থেকেই প্রস্তুত হয়ে ছিলেন।”

আজ সোমবার সকালে হেলিকপ্টার বেইজক্যাম্পের কাছে এসেও ফিরে যায়। অভিযাত্রীরা হেলিকপ্টারটি দেখতে পেয়েছিলেন, কিন্তু হেলিকপ্টার তাদের উদ্ধার না করেই ফিরে যায়। পরবর্তীতে, দ্বিতীয়বার হেলিকপ্টার আসায় তারা হাতে পতাকা নিয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অভিযাত্রীদের উদ্ধার করে তিমিকায় উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে জুনের ১৩ তারিখ স্থানীয় সময় সকাল ১১:৪৫ মিনিটে বাংলাদেশের মুসা ইব্রাহিম এবং ভারতের সত্যরুপ সিদ্ধান্ত ও নন্দিতা চন্দ্রশেখর ওশেনিয়া অঞ্চলের সর্বোচ্চ চূড়া ৪৮৮৬ মিটার উচ্চতার পুনাক জায়া বা কার্সটেঞ্জ পিরামিড চূড়ায় আরোহণ করেন। সামিট থেকে নীচে নামার সময় হঠাৎ করেই আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায় এবং ভারতীয় অভিযাত্রী নন্দিতা চন্দ্রশেখর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেদিনের পরিস্থিতি স্মরণ করতে গিয়ে ভারতীয় পর্বতারোহী সত্যরুপ সিদ্ধান্ত বলেন,

 ‘সামিটের দিন নীচে নামার সময় হঠাৎ করেই হেইল স্ট্রোম শুরু হয়। সেই সাথে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি আর সেই সাথে বইতে থাকে কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যাওয়ার ফলে নন্দিতা হাইপোথারমিয়ায় আক্রান্ত হতে থাকে। বেইজ ক্যাম্পে নেমে আসতে অনেক দেরি হয়ে যায়।’

বেলা ২ টা বেজে ৪৩ মিনিটে তারা বেইজ ক্যাম্পে ফিরে আসলে বিপদ কেটে যায়। কিন্তু নন্দিতা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিপদ এড়ানোর জন্য অভিযাত্রীরা হেলিকপ্টারে বেইজ ক্যাম্প ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই বিষয়ে সত্যরুপ বলেন,

‘বেইজ ক্যাম্প থেকে ট্রেক করে এই পথ ৫ দিনের। এদিক দিয়ে ফিরলে আমাদের আবার বৃষ্টিতে ভিজতে হবে। তাছাড়া এই বিপদসঙ্কুল পথটিতে খুব এলার্ট থাকতে হয়। নইলে যে কোন মুহুর্তে অঘটন ঘটতে পারে। সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে হেলিকপ্টার নেয়া হবে।’

এদিকে ১৪ তারিখে সত্যরুপের পাঠানো স্যাটেলাইট ম্যাসেজ থেকে জানা যায় তাদের সাথে থাকা পোর্টারদের রেশন শেষ হয়ে যাওয়ায় খাবার আনতে তারা সবাই নীচে নেমে গেছে। আবার তারা আগামীকাল ফিরে আসবে।


বেইজক্যাম্পে পর্বতারোহী সত্যরুপ সিদ্ধান্ত


খাবারের এমন স্বল্পতা কেন হল, এই প্রশ্নের জবাবে সত্যরুপ জানান পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের ১০ জন পোর্টার নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সাথে যোগ দেয় ২৫ জন পোর্টার। পোর্টার রা বেইজ ক্যাম্প থেকে দুই ঘন্টার দূরত্বে একটি গুহাতে অবস্থা করছিল। পরিকল্পনার তুলনায় পোর্টার বেশী হয়ে যাওয়ায় এক সময় খাবারে টান পড়ে যায়। এমন অবস্থায় অভিযাত্রীরা তাদের সাথে থাকা খাবার পোর্টারদের সাথে ভাগ করে নেন।

১৫ তারিখে পাঠানো স্যাটেলাইট ম্যাসেজ থেকে জানা যায়, সামিটের দিন নিচে নেমে যাওয়া পোর্টাররা খাবার নিয়ে আবার ফেরত চলে আসে। কিন্তু অভিযাত্রীদের খাবার শেষ পর্যায়ে চলে আসলে বিপদ এড়াতে তারা হেলিকপ্টারের সাহায্য নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর ১৮ তারিখ পর্যন্ত তাদের আর কোন আপডেট পাওয়া যায়নি। স্যাটেলাইট ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মুসা ইব্রাহিমের সাথে থাকা ল্যাপটপের মাধ্যমে সেটি আবার চার্জ দিয়ে অভিযাত্রীরা তাদের বেইজ ক্যাম্পে আঁটকে যাবার তথ্যটি জানান। সেই সাথে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে তাদের উদ্ধার অভিযানটি বেগবান করার জন্য অনুরোধ করতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়।

এরপর থেকে মূলত, বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট রাস্ট্র দুটির রাষ্ট্রদূত ও আশিয়ানের হস্তক্ষেপের ফলে অভিযাত্রীদের আজ সকালে বেইজ ক্যাম্প থেকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করে তিমিকায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে অভিযাত্রীরা হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানের সাথে পাওনা টাকা নিয়ে মধ্যস্ততা করার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)