বাংলাদেশে পর্বতারোহণ যুগের সূচনা (পর্ব ২)

বাংলাদেশে পর্বতারোহণ যুগের সূচনা (পর্ব ১)

পড়ুন পর্ব ১


সম্পাদকের কথা

‘হিমালয়, এভারেস্ট ও বাংলাদেশ’ ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রাবণ প্রকাশনী হতে প্রকাশিত মীর শামছুল আলম বাবুর রচিত একটি সম্পূর্ণ গ্রন্থ।আমাদের এই লেখনীর শিরোনামটি অর্থাৎ ‘বাংলাদেশে পর্বতারোহণ যুগের সূচনা’ সেই গ্রন্থেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অধ্যায়টির তাৎপর্য বিবেচনায় সেটিই লেখকের অনুমতিক্রমে পর্ব আকারে অদ্রিতে প্রকাশিত হচ্ছে।
সম্পাদনায় সীমিত শাব্দিক/ ভাষাগত পরিমার্জন ব্যতীত মূল গ্রন্থের তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ অবিকৃত রাখা হয়েছে। এই পুনঃপ্রকাশকালে লেখকও অধ্যায়টির পরিমার্জনে একই নীতি অনুসরণ করেছেন। এছাড়া পর্বগুলোর উৎকর্ষ সাধনে মূল গ্রন্থে ছাপাকৃত আলোকচিত্রের বাইরেও কিছু অতিরিক্ত আলোকচিত্র এখানে সংযোজন করা হল। আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, গ্রন্থটি দশ বছর পূর্বের বাংলাদেশে অর্থাৎ পর্বতারোহণ যুগের সূচনালগ্নের একটি সময়ে বসে রচিত ও প্রকাশিত, তাই এটি পঠনের সময় পাঠকদের তৎকালীন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে পাঠ করাটাই কাম্য হবে। বইটি প্রকাশের পরে বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে আরও নতুন নতুন পালক যুক্ত হয়েছে। সেসব বিবেচনায় রেখেও, এই লেখনীটি এখনও কতখানি প্রাসঙ্গিক, তার বিচারের ভার পাঠকদের হাতেই রইল। পরিশেষে, ধন্যবাদ জানাই লেখককে, গ্রন্থটির একটি কপি তিনি অদ্রি পাঠাগারে প্রদান করে আমাদেরকে কৃতজ্ঞ করেছেন।

এরপর দলে দলে রোমাঞ্চকর অভিযানপ্রিয়রা যেতে থাকলো বান্দরবান, বগালেক, কেওক্রাডং আর তাজিংডংয়ে। সেই বছর [১৯৯৯] ২রা মে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশানের মশহুরুল আমিন মিলন ও ডা. মিজানুর রহমান শাওনের সাথে প্রথমবারের মতো ঢাকার একটি মেয়ে মোনালিসা রহমান কেওক্রাডং ঘুরে আসেন।


অপার আহমেদ


ইয়াহিয়া খানের সাথে ট্রেকিং করা অপার আহমেদ ট্রেকিংপ্রিয় তরুণীদের মধ্যে আরো একটি জনপ্রিয় নাম। এই দুই তরুণীর পাশাপাশি উচ্চারিত হতে পারে আরও কয়েকজনের নাম; নতুন ঢাকার নূর-উস-সামস শম্পা, পুরাতন ঢাকার সুত্রাপুরের মেয়ে আফরিন খান দীপা ও গেন্ডারিয়ার সাদিয়া সুলতানা সম্পা। শেষের জন ইতিমধ্যে পর্বতারোহণের মতো রোমাঞ্চকর জগতে বাংলাদেশের মেয়েদের অভিষেক ঘটিয়েছেন।


সাদিয়া সুলতানা সম্পা


ছেলে ও মেয়েদের এইসব ট্রেকিং কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ট্রেকিংপ্রিয়দের নিজেদের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ ঘটতে থাকে। ফলে আজিমপুরের ভ্রমণ বাংলাদেশ, শাহবাগস্থ আজিজ সুপার মার্কেটের পরিযায়ী ও বনানীর পুরাতন ডি.ও.এইচ এস-এ ইনাম আল হকের বাসায় মাসিক নির্দিষ্ট দিনে মিলিত হওয়ার পাশাপাশি সংগঠিত হতে থাকে ঢাকার ট্রেকিংপ্রিয়রা। এক সময় ২০০৩ সালে এসব আড্ডা থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের পর্বতারোহণ প্রক্রিয়া।

বাংলাদেশের পর্বতারোহণ প্রক্রিয়া শুরু হবার পেছনে অনুঘটক হিসাবে কাজ করে কিছু পূর্ব ঘটনা। হিমালয়ের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক বহু পুরনো। বিক্রমপুরের সন্তান অতিশ দীপঙ্করের হিমালয় পাড়ি দিয়ে তিব্বত গমন, কলকাতার ছেলে রাধানাথ শিকদারের এভারেস্টের উচ্চতা পরিমাপন, বন্ধু তেনজিং নরগেকে বাঙালি রবীন্দ্র মিত্রের পতাকা প্রদানের পর বাংলাদেশিদের সাথে এভারেস্টের সম্পর্ক ছিল না, যতটা ছিল পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা বহুপূর্ব হতে পর্বতারোহণে অভ্যস্ত হলেও বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। ব্যতিক্রম সত্তরের দশকে পাখি পর্যবেক্ষণ করতে ডা. বাইনের এভারেস্ট বেইজ ক্যাম্প ট্রেকিং।


এডমন্ড হিলারির বাংলাদেশ ভ্রমণ


এরপরের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী স্যার এডমন্ড প্যারসিভাল হিলারির বাংলাদেশ ভ্রমণ। ১৯৮৫ সালে ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ডের হাই কমিশনার হিসাবে নিয়োগ পান এডমন্ড হিলারি। ১৯৮৬ সালে একজন হাই কমিশনার হিসেবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আগমন করেন। ঢাকায় নিউজিল্যান্ডের কোন হাই কমিশন না থাকায় ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে কার্য পরিচালনা করা স্যার এডমন্ড হিলারি বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে এক সাক্ষাৎকার দেন যাতে তিনি উল্লেখ করেন হিমালয়ের কাছের দেশ বাংলাদেশে আসতে পেরে তিনি আনন্দিত।অদ্রি

পরবর্তীতে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে তার সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় বাংলাদেশের তরুণরা অ্যাডভেঞ্চার করে না জেনে অবাক হন এবং তাদের অ্যাডভেঞ্চার করার আহ্বান জানান। বর্তমান [২০০৭] বাংলাদেশ এভারেস্ট টিম ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের অন্যতম সদস্য মীর শামছুল আলম বাবু ওই সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সেই আশির দশকে বেসামরিক উর্দ্দি পরিহিত সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়ে হিলারির আহ্বানে সাড়া দেবার মনোভাব তরুণদের মধ্যে ছিল না। বাংলার তরুণ সমাজ তখন রোমাঞ্চকর ক্রিয়াতে অনভ্যস্ত। তবে ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ১৯৬৭ সালে জামালপুরবাসী ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ ২১ বছর বয়সে পশ্চিমবঙ্গের পর্বতারোহণ ক্লাব ‘মাউন্টেনিয়ার্স ক্লাবে’র মাধ্যমে প্রথম পরিভ্রমণ করেন রূপকুণ্ড। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সুনীল চৌধুরী, সমর বন্দোপাধ্যায়, বৈদ্যনাথ রক্ষিত আর গাইড হুকুম সিং, পানসিং ভুটিয়ার দলে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। ১৯৬৭ সালের মধ্য অক্টোবরে সেই অভিযানেই প্রথম তুষারপাত ও তুষারঝড় দেখা, প্রথম অসুস্থ হওয়া, প্রথম শুভ্র গাড়োয়াল হিমালয়ের সাথে পরিচয়। ১৯৬৮ সালে মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাবের পরিচালনায় রক ক্লাইম্বিং কোর্সে অংশ নেন বাঁকুড়ার জয়চন্ডী পাহাড়ে। পরের বছর ১১ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল (১৯৬৯) পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ৬৫ নং বেসিক কোর্সে সাফল্যের সাথে অংশগ্রহণ করেন। ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ফিল্ড ডিরেক্টর কিংবদন্তী পর্বতারোহী তেনজিং নরগে শেরপা তাকে ডাকতেন ‘বর্মী’ বলে। সেকালের ৩৫ দিনের (বর্তমানে ২৮ দিনের) সেই বেসিক কোর্সেই তেনজিং নরগের কাছে পর্বতারোহণের খুঁটিনাটির হাতেখড়ি। কোর্সের অংশ হিসাবে সামিট করেন সিকিম হিমালয়ের ১৮০০০ ফুট উঁচু অজেয় অনামী পর্বত শৃঙ্গ। এর পরপরই সেই চূড়ার নামকরণ করা হয় সনামধন্য কালজয়ী ডা. বিধান চন্দ্র রায় (বি.সি. রায়) পিক। কোর্সের ভাল ফলাফল, তেনজিংয়ের আদর আর অলংঘনীয় আহ্বানে ধ্রুব জ্যোতি ঘোষের মানসলোকে তখন শুধুই হিমালয়।অদ্রি



ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ মুকুল


পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের পর্বতারোহণ তখন সবেমাত্র শৈশব অতিক্রম করে কৈশরে পড়েছে। সে সময়েই অতিথি পর্বতারোহী হিসাবে ধ্রুব জ্যোতি অংশগ্রহণ করতে থাকলেন একের পর এক পর্বতাভিযানে। ১৯৬৯ সালে গাড়োয়াল হিমালয়ে সুন্দর ডুঙ্গা অভিযানে গিয়ে থারকোট (২০,১০০ ফুট) পর্বত চূড়ায় উঠতে না পারলেও সামিট করেছিলেন একটি অনামী চূড়া।


[বামে] ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ ও জেমলিং নোরগে
[ডানে] শুশুনিয়া পাহাড়ে ক্লাইম্বিংয়ে ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ


১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালে ২১ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ৫১ নং অ্যাডভান্স কোর্স সমাপ্ত করেন। এরপর ১৯৭২ সালে অশোক পর্বত (১৮,৫০০ ফুট), ১৯৭৬ সালে ম্যানথোসা পর্বত (২১,১৪০ ফুট), ১৯৭৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রুবাল কাং (২০,৩০০ ফুট) ১৯৮০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ব্যাক পিক (২০,৯৫৫ ফুট) ছাড়াও অংশ নিয়েছেন বালজৌরী পর্বত (১৯,৪৩০ ফুট), পাঁওয়ালী ধার পর্বত (২১,৫৪০ ফুট), বান্দারপুঞ্ছ পর্বত (২১,৩৮০ ফুট), লাহুল-স্পিতি অভিযানে। এছাড়াও অংশ নিয়েছেন হাই অল্টিচ্যুড ট্রেকিংয়ে যার মধ্যে আছে, সান্দাকফু-ফালুট ট্রেকিং (১৯৬৯), দেবী কুন্ড-পিন্ডারী হিমবাহ-কাফনি হিমবাহ ট্রেকিং (১৯৭২), উত্তর পশ্চিম সিকিম ট্রেকিং (১৯৭৩), গোচা-লা পাস-পান্দিম ট্রেকিং (১৯৭৪) ইত্যাদিতে। এছাড়া ১৯৭৮ সালে এভারেস্ট জয়ের ২৫ বৎসর পূর্তিতে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে তেনজিং নরগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এভারেস্ট সামিটারস মিটে (এভারেস্ট আরোহণকারীদের মিলন মেলা) গিয়ে পরিচিত হয়েছেন এডমন্ড হিলারী, ক্রিস বনিংটন, মরিস হারযগ, ডাইরেন ফোর্থ, লোবার্তসহ তৎকালের তাবৎ বিখ্যাত পর্বতারোহীদের। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ব হতে পরবর্তী ৭০ ও ৮০ দশকে পর্বতারোহণ করলেও সঙ্গী হিসাবে এদেশের কাউকে পাননি।অদ্রি

১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে দার্জিলিংয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় রক ক্লাইম্বিং এবং পর্বতারোহণ শুরু করেন ইন্তেসার হায়দার। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে দার্জিলিং ভ্রমণে গিয়ে প্রাথমিক পর্বতারোহণ কোর্স সমাপ্ত করেছিলেন চট্টগ্রামের ছেলে সুমন সম্পদ বণিক। ২০০০ খ্রিস্টাব্দের মে-জুন মাসে কুল্লু মানালীতে ন্যাশনাল হিমালয়ান ট্রেকিং এক্সপিডিশনের তত্ত্বাবধানে ট্রেকিং কোর্স সমাপ্ত করে দেশে ফিরে এভারেস্ট অভিযান চালানোর ব্যাপারে খোঁজখবর শুরু করেছিলেন সজল খালেদ।


সুব্রত দাস নীতিশ


হিমালয় ট্রেকিংয়ের ব্যাপারে আরেক এদেশি পথিকৃৎ হলেন সুব্রত দাস নীতিশ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গবাসী এবং বাংলাদেশি অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের অন্যতম নীতিশ দা; বাড়ী তার ময়মনসিংহে। সাইক্লিস্ট হিসাবে বেশি পরিচিত সুব্রত দাস নীতিশ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়। ব্রহ্মপুত্র থেকে মেঘালয় পাহাড় দেখতে দেখতে পাহাড়প্রেম তার। বাবা-মায়ের সাথে বিরিশিরি ভ্রমণে গিয়ে পাহাড় ভ্রমণ শুরু। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ক্লাইম্বিং করেন রাজস্থানে। সে বছর থেকেই দার্জিলিংস্থ হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে যাতায়াত। দার্জিলিং, সান্দাকুফু, গ্যাংটক, সিকিম এলাকায় ১৩/১৪ বার ট্রেকিং করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বহু বিখ্যাত পর্বতারোহী এবং পর্বতারোহণ দলের সাথে খুব ঘনিষ্ট যোগাযোগ থাকলেও, কখনও পুরোপুরি মাউন্টেনিয়ার হবার ইচ্ছা তেমন জাগ্রত হয়নি এ বিষয়ে প্রচুর জানাশোনা ও পড়ালেখা করা সুব্রত দাস নীতিশের।

নব্বই দশকে রাজনৈতিক আন্দোলনের পর কিছুটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে শুরু হয় বাংলাদেশের তরুণদের ট্রেকিং সংস্কৃতি। এই দশকের শেষদিকে ২০০০ সালের  ৩১ ডিসেম্বর বান্দরবানের রুমা থানাধীন বগালেকে প্রথমবারের মতো টেকনিক্যাল ক্লাইম্বিং করা হয়। স্যাটেলাইট টেলিভিশনের কল্যাণে ডিসকভারি চ্যানেল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল তখন এদেশে প্রচারিত হচ্ছে- অ্যাকশান, অ্যাডভেঞ্চার জাতীয় কর্মকাণ্ড, যা তখন তরুণ সমাজে পরিচিত। সে সময় ঢাকার আজিমপুরস্থ ভ্রমণ বাংলাদেশের দলটি বাংলাদেশের বান্দরবানে ডিসেন্ডার, রোপ, ক্যারাবিনার, পুলি, জুমার ব্যবহার করে একটি বিকেল অতিবাহিত করে। ‘ভ্রমণ বাংলাদেশের’ দ্বিতীয় বৃহৎ ট্রেকিং অভিযানে ছিলেন সাইফুস সাঈদ সানি, আওলাদ হোসেন বুলবুল, গোলাম কিবরিয়া দিপু, রবিউল হাসান খান মনা, ওয়াসিমউদ্দিন সুমন, কাজী জুয়েল আব্বাস, মনসুর হাবিব, মো. ইস্রাফিল খোকন, মো. আনোয়ার উল্লাহ, আব্দুল ওয়াহাব, ওবায়েদুর রহমান আরিফ ও মীর শামছুল আলম বাবু।

সাইফুস সাঈদ সানির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই টেকনিক্যাল ক্লাইম্বিংয়ে সবচেয়ে বেশি সময় দেন মীর শামছুল আলম বাবু। ঐ অভিযানে ক্লাইম্বিং যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেন আজিমপুরের এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তি কাজী হামিদুল হক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফটোগ্রাফি, স্কুবা ড্রাইভিং, হান্টিং, ক্যাম্পিং, আর্চারি ও রক ক্লাইম্বিং তথা আউটডোর স্পোর্টস আর অ্যাডভেঞ্চারের সাথে বহুদিন কাটিয়ে বাংলাদেশে চলে আসা হামিদ সাহেব বাংলাদেশের পর্বতারোহণ যুগের সূচনার অন্যতম সহায়তাকারীদের একজন।



কাজী হামিদুল হক


বর্তমানে বাংলাদেশের পর্বতারোহণ কর্মকাণ্ডে সক্রিয়দের একজন সিরাজুল হক সাগর ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে নেপালের অন্নপূর্ণা ট্রেইলে ট্রেকিং করেছেন। ২০০০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার ক্রিসেন্ট রোডের বাসিন্দা ক্রিকেটার রফিকুল ইসলাম (ঢাকা বেইজ ক্যাম্পের সাধারণ সম্পাদক) পুরো অন্নপূর্ণা ট্রেইল সমাপ্ত করেছেন। ২০০২ খ্রিস্টাব্দের ৪-১৪ এপ্রিলে অন্নপূর্ণা ট্রেইলে ট্রেকিং করেছেন বৈমানিক এনাম তালুকদার, সাংবাদিক মুসা ইব্রাহীম ও বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের মশহুরুল আমিন মিলন। শুধু অর্নপূর্ণা ট্রেইলে নয়, এভারেস্ট বেইজ ক্যাম্প ট্রেইলে ট্রেকিং করেছেন অনেকে নেপাল ভ্রমণে যাবার পর। তবে নিছক ভ্রমণের উদ্দেশ্যেই তারা ওই সব ট্রেইলে গিয়েছিলেন, পর্বতারোহণের বিষয়টি মাথায় নিয়ে নয়। পর্বতারোহণ বিষয়ক চিন্তাভাবনা আসে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে।অদ্রি

বাংলাদেশে তখন ট্রেকিং জনপ্রিয়। দেশের পাহাড় ছাড়িয়ে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের নজর তখন বাইরের পাহাড়ের দিকে। এই সময় আজিমপুরের ‘ভ্রমণ বাংলাদেশের’ সদস্যরা, ইনাম আল হকের বাংলাদেশ ট্রেকার্স ক্লাবের সদস্যরা, এমনকি বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেন। স্বভাবত কারণেই এদের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বেশ সুদৃঢ়। অনেকেই সবগুলোর সদস্য, সব আড্ডাতেই যান। শাহবাগস্থ আজিজ সুপার মার্কেটের ‘পরিযায়ী’র ইয়াহিয়া খান, অপার আহমেদ, নিলিমা মণ্ডল আর রূপেস চাকমার সান্দাকফু ভ্রমণ, দলছুট পত্রিকার এভারেস্ট টিম গঠনের চিন্তা, সজল খালেদের এভারেস্ট অভিযানের ভাবনা আর ভ্রমণ বাংলাদেশের হিলারি, তেনজিংয়ের উত্তরসূরী হবার চিন্তার মাঝে হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকান দুই তরুণ- এস. এম মুনতাসির মামুন ইমরান আর রিফাত হাসান। তৎকালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ইমরান আর কম্পিউটার গ্রাফিক্স ফার্মে কর্মরত রিফাত ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে এভারেস্ট বিজয়ের পঞ্চাশতম বছর পূর্তি উৎসবে ভ্রমণ করে আসেন এভারেস্ট হাইওয়ে। আজিমপুরের কাজী হামিদুল হকের টেকনিক্যাল সাহায্যে সমাপ্ত করা রিফাত-ইমরানের এই ট্রেকিং এরপর অনেকের মনে এভারেস্টকে সামনে রেখে পর্বতারোহণের স্বপ্ন জাগ্রত হয়।

এরপর অনেকগুলো ঘটনা সংগঠিত হয় খুব তাড়াতাড়ি। বেইজ ক্যাম্প ফেরত রিফাত হাসান আর কালাপাত্থর আরোহণ করে এভারেস্টের ছবি তুলে আনা মুনতাসির মামুন ইমরানকে ২০ জুন ২০০৩-এ আজিমপুরের ‘আমাদের পাঠচক্রে’ সংবর্ধনা দেয়া হয়। বাংলাদেশে ট্রেকিং করা বহু সদস্যদের সামনে সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া দিপু আর মীর শামছুল আলম বাবু পরিচালিত ওই অনুষ্ঠানে রিফাত হাসান ও ইমরান তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এবং স্লাইড প্রদর্শন করেন।


মুনতাসির মামুন ইমরান ও রিফাত হাসান (১৭-৭-২০০৩)


২৭ জুন ঠাকুরগাঁয়ের ভুল্লি গ্রামে কামরুজ্জামান স্বাধীনদের আয়োজন করা সাঁওতাল উৎসবের যোগ দেয়া কাজী হামিদুল হক, মুনতাসির মামুন ইমরান ও মীর শামছুল আলম বাবুর মধ্যে আলোচনাক্রমে সিদ্ধান্ত হয় ইমরানের এভারেস্ট মিশনকে যথাসাধ্য প্রচার প্রচারণায় আনবার। এরপর হামিদ সাহেবের বন্ধু কাঠালবাগান নিবাসী আনোয়ারুল হাকিম ফারুকের সহায়তায় বিভিন্ন মহলে ঘটনাটি প্রচার করা শুরু হয়।

ইতিমধ্যে ইনাম আল হকের বাসায় ইমরানের এভারেস্ট হাইওয়ে ট্রেকিং অভিজ্ঞতা বর্ণনা ও স্লাইড শো অনুষ্ঠিত হয়। মীর শামছুল আলম বাবুর কারিগরি সহযোগিতায় একই অনুষ্ঠান হয় ধানমণ্ডি, কলাবাগান আর কাঁঠালবাগান এলাকার বিভিন্ন বাসায়। ১৬ জুলাই বুধবার ইনাম আল হকের বাসায় ট্রেকার্স মিটিংয়ে ইনাম আল হক বাংলাদেশ থেকে এভারেস্ট অভিযান পরিচালনা করার জন্য দল গঠনের চিন্তা প্রকাশ করেন। এরপর আনোয়ারুল হাকিম ফারুক ও মীর শামছুল আলম বাবুর সহায়তায় দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক আবির হাসানের বাসায় ইমরান ও রিফাতের দীর্ঘ ইন্টারভিউ গৃহীত হয়। ২৫ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠের পূর্ণ পৃষ্ঠাব্যাপী আবির হাসানের প্রতিবেদন ‘এভারেস্টে বাঙালি’ প্রকাশিত হয়। যাতে ছিল ইমরানের লেখা আর রিফাতের সাক্ষাৎকার। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর অনেককে আকৃষ্ট করে। প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই বাবু ও  ইমরানের সাথে যোগাযোগ হয় ক্রিসেন্ট রোডের ঢাকা বেইজক্যাম্পের সভাপতি ফজলুল কবির সিনা ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের।অদ্রি

২০ আগস্ট বাংলাদেশ ট্রেকার্স ক্লাবের জমায়েতে রক ক্লাইম্বিং বিষয়ে স্লাইড প্রদর্শন করেন জার্মানিতে অধ্যায়নরত সজল খালেদ। এরপর হামিদ সাহেব আর শামছুল আলম বাবুর সক্রিয় সহযোগিতা এবং রফিকুল ইসলামের বন্ধু সঞ্জয় চক্রবর্তী রুশোর সহায়তায়, রহিম আফরোজের আর্থিক অনুদানে অনুষ্ঠিত হয় এস. এম. মুনতাসির মামুন ইমরানের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ড্রিম এন্ড এভারেস্ট’। সেপ্টেম্বরের ৯ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনী এভারেস্টের প্রতি বাংলাদেশিদের আগ্রহকে উজ্জীবিত করে। শিক্ষা জীবনের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কারণে ইমরানের অবর্তমানে মীর শামছুল আলম বাবুর অনুরোধে পুরো আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন সাদিয়া সুলতানা সম্পা ও ফটোগ্রাফির ছাত্র রেজা। এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনের দিনই ইনাম-আল-হক আগ্রহী সাদিয়া সুলতানা সম্পা, রিফাত হাসান ও ইমরানের সাথে একটি দল [এভারেস্ট টিম] গঠনের ব্যাপারে আলাপ করেন।(অসমাপ্ত-পড়ুন পর্ব ৩)


প্রান্তটীকা
ধ্রুব জ্যোতি ঘোষের অংশটুকু এই পুনঃপ্রকাশকালে নতুনভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ছবি কৃতজ্ঞতা
[১] প্রচ্ছদ; ছবি: লেখক
[২] অপার আহমেদ;  ছবি: অপার আহমেদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ
[৩] সাদিয়া সুলতানা সম্পা; ছবি: লেখক
[৪] এডমন্ড হিলারির বাংলাদেশ ভ্রমণ/চিত্রালী-বাংলা চলচ্চিত্র পত্রিকা; ছবি: লেখক
[৫] ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ মুকুল; ছবি: লেখক
[৬] ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ ও জেমলিং নোরগে, শুশুনিয়া পাহাড়ে ক্লাইম্বিংয়ে ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ; ছবি: Taiger Temba
[৭] সুব্রত দাস নীতিশ; ছবি: সুব্রত দাস নীতিশের ফেসবুক প্রফাইল হতে
[৮] কাজী হামিদুল হক; ছবি: লেখক
[৯] মুনতাসির মামুন ইমরান ও রিফাত হাসান; ছবি: লেখক


পূর্ব পর্বের জের


 

(Visited 1 times, 1 visits today)
মীর শামছুল আলম বাবু
মীর শামছুল আলম বাবু
একাধারে আলোকচিত্রী, চলচ্চিত্র গবেষক, পর্বতারোহণ প্রশিক্ষক। পাহাড়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে বান্দরবানের কেওক্রাডংয়ে সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার ট্রেকিং ও পর্বতারোহণ জীবনে পদার্পণ।

১২ thoughts on “বাংলাদেশে পর্বতারোহণ যুগের সূচনা (পর্ব ২)

  1. আদ্রিকে ধন্যবাদ এতো সুন্দর ভাবে আমাদের দেশের পাহাড়প্রেমী মানুষদের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য। অসংখ্য ধন্যবাদ বাবু ভাইকে যে, বই আকারে একে সংরক্ষণ করেছেন। আমাদের এখন যতটুকুই পাহাড় নিয়ে জল্পনা কল্পনা তার পথ দেখাতে যে কাঠখড় আপনারা পুড়িয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। পাহাড়ের মত বড়ো মানসিকতাকে যদি আমরা জয় করতে পারি তাহলে আশা করি এই পথ দেখানো প্রচেষ্টা অনেক দূর, অনেক উঁচুতে উঠতে আমাদেরকে সহায়তা করবে। শুভ কামনা রইলো।

  2. ১৯৯৪ সালের ৫-৯ ফেব্রুয়ারী আমি কলিকাতার চড়াই-উৎরাই ক্লাব আয়োজিত রক-ক্লাইম্বিং-এর উপর বেসিক কোর্স সম্পন্ন করি। ট্রেনিংটা হয়েছিলো বিহারের বেলপাহাড়ী নামক রুক্ষ পর্বতময় এলাকায়। এসংক্রান্ত একটা পোস্ট আমি গতমাসে TOB-তে দিয়েছিলাম।

    1. মারুফ, তোমার রক ক্লাইম্বিং এর কথাটাও আমি জানি, আমাকে বলেছিলে, আমি বইটা লেখার আগে তোমার কাছে এই বিষয়ে তথ্যাদি এবং কাগজপত্র চেয়েছিলাম। কিন্তু যে কোন কারনেই হোক সেটা আমার হস্তগত হয়নি, তাই ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও প্রমানের অভাবে আমি বইতে দিতে পারিনি। আর ২০০৭ সালে বইটা প্রকাশের পর তুমি “আমাদের কথা লিখে আমাদের যে সন্মান দিয়েছেন, তার যোগ্য আমরা না” – এসব প্রশংসা করলেও ‘রক ক্লাইম্বিং’ এর তথ্যটা আর উল্লেখ করোনি। যাক এবার তারিখ সহ জানলাম।

  3. অদ্রি কে ধন্যবাদ, লেখাটা তখন লিখেছিলাম কোন কিছু মনে না করেই শুধু ইতিহাসকে ধারন করতেই। দশ বছর পরে এসে এটার কি প্রতিক্রিয়া হবে, তখন ভাবিনি। শুধু কর্তব্য মনে করে লিখেছি। এখন সবার কাজে লাগলেই আমার সার্থকতা।

    1. মীর শামছুল আলম বাবু আপনে লিখেছেন কোন কিছু মনে না করেই শুধু ইতিহাসকে ধারন করতেই । এই বই- এ কতো বার শুধু একজন “সাদিয়া সুলতানা সম্পা ” লেখা আছে ? অবাক লাগে আপনার বিচরন সর্বত্র কিন্তু এমোন কেন ?
      পশ্ন করুন উত্তর পাবেন ।

      1. মীর শামছুল আলম বাবু , এর আগে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত (মাউন্ট এভারেষ্ট) ফুটপাতে মেলে ধরলেন !! সর্বত্র আর নিজের ……..এই বইটি ইতিহাস নয় অন্য কিছু !!
        পশ্ন করুন উত্তর পাবেন অবশ্যই ।

  4. প্রিয় অদ্রি ও যোদ্ধাগন ,
    আপনাদের কাজের প্রতি সন্মাম জানাই , একটু একটু করে জানতে পারবো এই ভেবে ।
    তবে আপনাদের কাছে অনুরোধ করতে চাই যে , ট্রেকিং,মাউন্টেনিয়ারিং,ক্লাইম্বিং ও এ্যাডভেন্চার একসাথে করবেন না ।
    প্রথমেই বলি শাজাহান ও ইয়াহিয়া ভাই সহ যে আলোকচিএ টি দেখলাম এটি ট্রেকিংয়ের এবং সেটি ২০০০ সালের অনেক আগের । আমরা কয়েজন একসাথে বেরিয়ে পড়তাম ! এর বিস্তারিত কিনচিৎ পাঠকের চাহিদা ।
    এর পর ছবি আর এক জগতের ২০০৩ সালের পরের যুগ …..এবং যথারীতি রক ক্লাইম্বিং l

  5. অদ্রির উওর না পওয়ায় , আমি অপার কে ফোনে না পেয়ে,বলতে চাই ইয়াহিয়া খানের সাথে ট্রেকিং করা আমি সহ আরও অনেকেই আছি বিশেষ করে এই ছবিটিতেও “অপার আহম্মেদ “ট্রেকিংপ্রিয় তরুণীদের মধ্যে আরো একটি জনপ্রিয় নাম , বিস্তারিত লিখুন।
    আর আমি যতোটুকু জানি(শাজাহান সরদার, ইয়াহিয়া খান,রোনাল্ড হালদার,এনাম তালুকদা,দীপু,বাবু,সানি,বুলবুল আরো অনেকেই তার সেই সময়ের ভ্রমন সঙ্গী, উল্লেক্ষ্য , আমি ১৯৯৬ সালে তার সাথে ভ্রমন করেছিলাম সোনাদিয়া,সিলেটের হওড় ও টেকনাফ । কৈ তখন ইয়াহিয়া ভাই ছাড়াই তো কত এডভেন্চার করেছি ।
    ঐ যুগে “ভ্রমন বাংলাদেশ”এবং ইনাম আল হকের ক্লাব ও ছিল না আরো অনেক কিছুই । মাদ্রাসায় পড়া লেখা করে বিমান বাহিনী……আসা পলিথিন ব্যবসায়ী এখন পরিবেশ ……বাকীদের কথা তো ধরলাম ই না । আর বাবুর বইকে দয়া করে বাইবেল ভাববে না !
    যাদের সম্পর কে লিখবেন তাদের সাথে সে বিষয়ে কথা বলে লিখুন ।
    কেহ ছোট বা কেহ হঠাৎ করে যেন বিরাট বড়ো না হয়ে যায় ।

  6. প্রিয় হাফিজা,
    আপনার নাম আমি শুনেছি। আমার কাছে প্রমান আছে ১৮৫৬ সালে (১৬১ বছর আগে) ‘কেউক্রাডং’ এবং ‘সাকা হাফং’ (ত্নাংময়, মদক মোয়াল) এ লোকজন গিয়েছে, হয়তো তার আগেও গিয়েছে – সবার কথা আমি লিখিনি। আপনি লিখেছেন “সোনাদিয়া,সিলেটের হওড় ও টেকনাফ” গিয়েছেন – এসব অঞ্চলে তো আরো হাজার বছর আগেই মানুষ গিয়েছে। এদেশের বা বিদেশের কোন পাহাড়ে গিয়েছেন কি ? শুনিনি। হয়তো আমার জানা নাই, আপনিও লিখেননি। যারা এদেশের শুধুমাত্র ‘পর্বতারোহণ’ এ অবদান রেখেছে – তাদের কথাই আমি লিখেছি – তাও দশ বছর আগে।

  7. মীর শামছুল আলম বাবু ,
    বলতে চাই যে ,
    প্রথমত :ট্রেকিং,মাউন্টেনিয়ারিং,ক্লাইম্বিং ও এ্যাডভেন্চার একসাথে করবেন না ।
    দ্বিতীয়ত :আমি কি বলতে চেয়েছি ভালো করে পড়ুন ।
    আন্দাজী উওর লেখার দরকার নেই না বুঝলে প্রশ্ন করুন ।
    ধন্যবাদ

  8. প্রিয় হাফিজা,
    আমি কোথায় ‘ট্রেকিং, মাউন্টেনিয়ারিং, ক্লাইম্বিং ও এ্যাডভেন্চার’ কে একসাথে করলাম?
    আর আপনি কি লিখেছেন তা যদি সামান্য কিছুটা ‘ট্রেকিং, মাউন্টেনিয়ারিং, ক্লাইম্বিং ও এ্যাডভেন্চার’ জানা একজন মানুষ হয়ে বুঝতে না পেরে থাকি তাহলে বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ। প্রশ্ন করলাম।
    উত্তরটা এখানে বা baboo71@gmail.com এ দিতে পারেন।

  9. আমার দৃষ্টিকোন থেকে জনাবা হাফিজা’কে বলছি:
    আমি একজন “নতুন ঘাস”. আপনার পরামর্শ পড়ে মনে হলো “বাকী”দের নাম নেই কেন..আর সেই ভাবে আপনার নামটাও বাদ পড়ায় আপনি রাগান্বিত ও আতংকিত যে ইতিহাস আপনাকে ভুলে যাচ্চে। আচ্ছা আপনি নাহয় নামের জন্য করছেন না, কিন্তু কিছু বলতে চাচ্ছেন। আচ্ছা বাবু ভাইয়ের মতো আপনারও কি কোন বই আছে?
    এবং শেষোক্তি, আপনি পয়েন্ট করে বলবেন কি- আপনি কি বলতে চান?

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)