বাংলাদেশে পর্বতারোহণ যুগের সূচনা (শেষ পর্ব)

বাংলাদেশে পর্বতারোহণ যুগের সূচনা (পর্ব ১)

পড়ুন পর্ব ৩


সম্পাদকের কথা

‘হিমালয়, এভারেস্ট ও বাংলাদেশ’ ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রাবণ প্রকাশনী হতে প্রকাশিত মীর শামছুল আলম বাবুর রচিত একটি সম্পূর্ণ গ্রন্থ। আমাদের এই লেখনীর শিরোনামটি অর্থাৎ ‘বাংলাদেশে পর্বতারোহণ যুগের সূচনা’ সেই গ্রন্থেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অধ্যায়টির তাৎপর্য বিবেচনায় সেটিই লেখকের অনুমতিক্রমে পর্ব আকারে অদ্রিতে প্রকাশ করা হয়েছে। আজ প্রকাশিত হল শেষ পর্ব।
সম্পাদনায় সীমিত শাব্দিক/ ভাষাগত পরিমার্জন ব্যতীত মূল গ্রন্থের তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ অবিকৃত রাখা হয়েছে। এই পুনঃপ্রকাশকালে লেখকও অধ্যায়টির পরিমার্জনে একই নীতি অনুসরণ করেছেন। এছাড়া পর্বগুলোর উৎকর্ষ সাধনে মূল গ্রন্থে ছাপাকৃত আলোকচিত্রের বাইরেও কিছু অতিরিক্ত আলোকচিত্র এখানে সংযোজন করা হল। আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, গ্রন্থটি দশ বছর পূর্বের বাংলাদেশে অর্থাৎ পর্বতারোহণ যুগের সূচনালগ্নের একটি সময়ে বসে রচিত ও প্রকাশিত, তাই এটি পঠনের সময় পাঠকদের তৎকালীন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে পাঠ করাটাই কাম্য হবে। বইটি প্রকাশের পরে বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে আরও নতুন নতুন পালক যুক্ত হয়েছে। সেসব বিবেচনায় রেখেও, এই লেখনীটি এখনও কতখানি প্রাসঙ্গিক, তার বিচারের ভার পাঠকদের হাতেই রইল। পরিশেষে, ধন্যবাদ জানাই লেখককে, গ্রন্থটির একটি কপি তিনি অদ্রি পাঠাগারে প্রদান করে আমাদেরকে কৃতজ্ঞ করেছেন।


পাওয়া যাচ্ছে অদ্রিতে। যোগাযোগ: ০১৯৬৬৭৮৪১৮১


মে মাসে সজল খালেদ ও মুসা ইব্রাহীম হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের আয়োজনে বিশেষ উচ্চতর পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ কোর্সের অংশ হিসেবে জয় করেন সিকিম হিমালয়ের পাথুরে পর্বত ফ্রে পিক (১৯,১২৫ ফুট/ ৫,৮৩০ মিটার)। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডো দলের জন্য আয়োজিত এই বিশেষ কোর্সের সময় ফ্রে পিক জয়ের চেষ্টা চালানো হবে- একথা মীর শামছুল আলম বাবু ও মুসা ইব্রাহীমকে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সময়েই বলেছিলেন ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মেজর ধামী। বাবু ও মুসা তখন বাংলাদেশের জন্য একটি পর্বতারোহণ অভিযান আয়োজনের কথা বলেছিলেন মেজর ধামীকে। শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য নির্ধারিত কোর্সের সময়ে ভারতীয় কমান্ডো দলের বিশেষ কোর্সের সাথে বাংলাদেশের জন্য একটি পরিপূর্ণ অভিযান পরিচালনায় রাজি ছিলেন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।

দেশে ফেরত এসে বাবু ও মুসা ইনস্টিটিউটের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি নিজেদের সংগঠিত করতে থাকেন। সিদ্ধান্ত হয় বাংলাদেশ থেকে ৬/৭ জন যাবেন মে মাসের অভিযানে। মুসা ইব্রাহীম এজন্য একবার দার্জিলিং ভ্রমণ করেও আসেন। কিন্তু সময়মতো অর্থ না পাওয়ায় বাতিল হয়ে যায় এই অভিযান। ইতিমধ্যে জার্মানি থেকে অধ্যয়ন শেষে ফেরত আসেন সজল খালেদ। মে মাসেই হঠাৎ করে দুজনের জন্য অর্থ সংস্থান হয়ে যাওয়ায় মুসা যোগাযোগ করেন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের সাথে। অধ্যক্ষ মেজর ধামী দুজনের জন্য পরিপূর্ণ কোন অভিযান আয়োজন না করে সে সময়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ উচ্চতর পর্বতারোহণ কোর্সে যোগদানের জন্য বলেন। সে মোতাবেক মুসা ও সজল কোর্স শুরু হবার কয়েকদিন পর ১০ মে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

৭ মে থেকে শুরু হওয়া ভারতীয় সেনা বাহিনীর জন্য আয়োজিত বিশেষ উচ্চতর পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ কোর্সের সাথে মুসা ও সজল দার্জিলিংয়ে শারীরিক কসরৎ, কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক রকে ক্লাইম্বিং করার পর তিনদিন ট্রেকিং করে এইচএমআইয়ের বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছান। চৌরিখাং ও রাথং গ্লেসিয়ারে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ শেষে ফ্রে পিকের অ্যাডভান্স বেইজ ক্যাম্প হয়ে ২২ মে ভোর সাড়ে চারটায় শুরু হয় চূড়ান্ত আরোহণ। পাথুরে ফ্রে পিকের নড়বড়ে গায়ে লাগানো ফিক্সড রোপে ক্যারাবিনার, জুমারের সাহায্যে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস, তীব্র তুষারপাত আর হোয়াইট আউটের মধ্য দিয়ে কখনও ষাট-সত্তর ডিগ্রি খাড়া পর্বতগাত্রে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ক্লাইম্বিং করে ১০ জন সদস্য, তিনজন প্রশিক্ষক এবং দুজন ক্লাইম্বিং শেরপা বিকেল সাড়ে তিনটায় পৌঁছালেন ১৯,১২৫ ফুট উঁচু ফ্রে পিকের চূড়ায়। মুসা ইব্রাহীম ও সজল খালেদ জয় করলেন ফ্রে পিক।

কোন বাংলাদেশীর এটাই প্রথম কোন সফল পর্বতারোহণ না হলেও বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত পর্বতারোহণ শুরু করা কোন দলের দলগতভাবে এটাই প্রথম পর্বতচূড়া বিজয়। যদিও তা কোন পরিপূর্ণ পর্বতারোহণ অভিযান ছিল না। ছিল একটি বিশেষ কোর্সের আওতায় পর্বতশীর্ষ জয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সৈয়দ ইন্তেসার হায়দার মাউন্ট ওয়াশিংটন (৬,২৮৮ ফুট), মাউন্ট রাইনিয়ার (১৪,৪১১ ফুট), মাউন্ট ভিনসন (১৬,০৭৬ ফুট) ও মাউন্ট ফরবেস (১১,৮৫১ ফুট) জয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পর্বতারোহণ দলের সাথে। বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সদস্য রিফাত হাসানও ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের ২৬ অক্টোবর জয় করেন কারাকোরাম হিমালয়ের স্টোক কাংড়ি (২০,০৭৭ ফুট)। তাঁদের পর্বতশীর্ষ জয় ব্যাপক আলোচনায় না আসলেও মুসা ও সজলের ফ্রে পিক জয় পত্র-পত্রিকার কল্যাণে পরিচিতি পেয়েছে।

মার্চ মাসে বাংলাদেশের প্রথম নারী দলের কেওক্রাডং ট্রেকিং সফল হবার পর চিন্তাভাবনা হতে থাকে এভারেস্ট বেইজক্যাম্পে নারী দলের ট্রেকিং অভিযান পরিচালনা করার। সেজন্য পূর্বে একই রুটে ট্রেকিং করা সাদিয়া সুলতানা সম্পার নেতৃত্বে মেয়েদের একটি দল প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সজল খালেদ তাদেরসহ আরও কয়েকজনকে শারীরিক প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। হোটেল শেরাটনের পিছনে রমনা পার্কের এক শেডের নিচে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সদস্যরা ছাড়াও আরও কয়েক জন নিয়মিত ব্যায়াম করা শুরু করেন। সজল ও মুসার ফ্রে পিক বিজয় পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাউন্টেন ডিউ কর্তৃপক্ষ মেয়েদের এভারেস্ট বেইজক্যাম্প ট্রেকিং স্পন্সর করবে জানার পর প্রস্তুতি চলতে থাকে পুরোদমে। পাশাপাশি ভারতের লাদাখে একটি দলগত ও নেপালে একটি একক অভিযানের প্রস্তুতিও চলতে থাকে।

নারী দলের সদস্য নির্বাচনে গুরুত্ব দেয়া হয় ৮ মার্চ কেওক্রাডং ট্রেকিং সমাপ্ত করা দলকে। এই সদস্য নির্বাচনের পর্যায়েই দুটো দল তৈরি হয়। একটি সবার সম্মুখে সবাইকে জানিয়ে সাদিয়া সুলতানা সম্পার নেতৃত্বাধীন দল, অন্যটি সবার অজ্ঞাতে গঠন করা একটি দল। সম্পার দলটিতে শেষ পর্যন্ত সুযোগ পান বহুদিন ধরে বান্দরবানে ট্রেকিং করা আফরিন খান দিপা, কিছুদিন হল ট্রেকিং কার্যক্রম শুরু করা বদরুন্নেসা রুমা ও বান্দবান ট্রেকিংয়ে অভিজ্ঞ নিশাত মজুমদার নিশু। এছাড়া দলে স্থান হয় কোন ট্রেকিং অভিজ্ঞতা না থাকা জেসমিন আলীর। কয়েক সন্তানের জননী জেসমিন আলীর ট্রেকিং অভিজ্ঞতা না থাকলেও ছিল ব্যাপক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। মেয়ে তালবিদা আলী মীমের কেওক্রাডং ট্রেকিং কাহিনী এবং ইনাম-আল-হকের অনুপ্রেরণা তাকে সাহসী করে তোলে। মেয়েদের এই দলটির পাশাপাশি কতিপয় লোকের সহায়তায় অন্য একটি দল তৈরি হয়। মূলত বহুবার বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিং করা, কিন্তু মাউন্টেনিয়ারিংয়ের সাথে কোনরূপ সংযোগ না থাকা অপার আহমেদ অঙ্গুরির মেয়েদের পূর্ব ঘোষিত দলে স্থান না হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় দ্বিতীয় দলের জন্ম। ইয়াহিয়া খান, এনাম তালুকদার ও রোনাল্ড হাওলাদারের আর্থিক এবং বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের কারিগরি সহযোগিতায় দুই সদস্য বিশিষ্ট দলটি গঠিত হতে থাকে। অপার আহমেদ ছাড়া দলের অন্য সদস্য হলেন সালমা খাতুন।

বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের শারীরিক প্রশিক্ষণে সজ্ঞাতে গঠিত দলটির সাথে অজ্ঞাতে গঠিত দলের দুজনও অংশগ্রহণ করতে থাকেন। এই প্রশিক্ষণের অংশ হিসাবে তিনটি ছোট ট্রেকিংয়ে সবাই অংশগ্রহণ করেন। চট্রগ্রামের সীতাকুন্ডে দুটি এবং টিকরপুরে একটি ট্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়। ৫ জনের দলটির দলনেতা সাদিয়া সুলতানা সম্পার পূর্বে এভারেস্ট বেইজক্যাম্প ট্রেকিং, মেরা পিক অভিযান ও হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে বেসিক ও অ্যাডভান্স মাউন্টেনিয়ারিং কোর্স করার অভিজ্ঞতা থাকলেও বাকি চার জনের তেমন কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। অপর দিকে অপর দলটিরও একই অবস্থা। দুজনের দলটির দলনেত্রী অপার আহমেদের ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সান্দাকাফুতে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও অপর সদস্যা সালমা খাতুনের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। যা ছিল তা হল, দুবার চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ড ট্রেকিং এবং একবার দার্জিলিং ও নেপাল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

২০ সেপ্টেম্বর ২০০৬ বুধবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে কাঠমুন্ডুর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন অপার আহমেদ ও সালমা খাতুন। তখনও অভিযান পরিকল্পনাকারী কয়েকজন ছাড়া কেউ জানতো না তাদের খবর। অপর দিকে একই দিন বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের মাসিক সভায় ৫ জনের দলটির সব কিছু চূড়ান্ত হয়। অপার ও সালমার কাঠমুন্ডু পৌঁছানোর পরদিন দুয়েকটি খবরের কাগজের মাধ্যমে সকলে জানতে পারে তাদের এভারেস্ট বেইজক্যাম্প যাত্রার খবর। অপার ও সালমা ২০ সেপ্টেম্বর কাঠমুন্ডু পৌঁছে সালমার পূর্ব পরিচিতি আং দাওয়া শেরপার সহযোগিতায় অভিযানের সবকিছু চূড়ান্ত করেন। কাঠমুন্ডু-লুকলা টিকেট, হাই অলটিচ্যুাড পোর্টার, গাইড ইত্যাদি। ২২ সেপ্টেম্বর ভোরে কাঠমুন্ডু থেকে লুকলা বিমান যাত্রা শেষে ৯,০০০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট লুকলা জনপদ থেকে ট্রেকিং শুরু করেন। সাত দিন দীর্ঘ পাহাড়ি পথে মানজো-নামচে বাজার-থ্যাংবোচে-পেরিচে-দুগলা-লেবুচে-গোরকশেপ হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর পৌঁছান ১৭,৬০০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এভারেস্ট বেইজক্যাম্পে। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর কালাপাত্থর আরোহণ করেন।

অপরদিকে অন্য দলটির অর্থসহ সব কিছু ঠিক থাকলেও দুই সদস্যের পাসপোর্ট না থাকায় সমস্যা তৈরি হয়। ‘ভ্রমণ বাংলাদেশে’র আরশাদ হোসেন টুটুল, রিমন খান প্রমুখের আন্তরিক সহায়তায় আফরিন খান দীপা ও নিশাত মজুমদার নিশুর পাসপোর্ট তৈরি হয়। ২২ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে জানিয়ে ৫ জনের মূল নারী দলটির অভিযাত্রা শুরু হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিমান যোগে রওনা দিয়ে কাঠমুন্ডু পৌঁছায় সাদিয়া সুলতানা সম্পা, আফরিন খান দীপা, বদরুন্নেসা রুমা, নিশাত মজুমদার নিশো ও জেসমিন আলী। কাঠমুন্ডুতে ‘দি নর্থ ফেস’ নেপালের স্বত্বাধিকারী দিপ লামা, ভিলা এভারেস্টের ঠাকুর ও আং দাওয়া শেরপা তাদের সহযোগিতা করেন। ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোর ৬:৪০ মিনিটে ইয়েতি এয়ার লাইন্সের ১১১ নাম্বার ফ্লাইটে রওনা দিয়ে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পৌঁছে গেলেন লুকলা। লুকলাস্থ হিমালয়ান লজের মালিকের সহায়তায় মেয়েদের দলটি গাইড হিসাবে নিমা রাই এবং পোর্টার হিসাবে ওয়াংদি শেরপাকে পেল।

এভারেস্ট বেইজক্যাম্পের উদ্দেশে এভারেস্ট হাইওয়েতে ট্রেকিং শুরু করে প্রথমদিন পৌঁছালেন ফাকদিং (৮,৫৬১ ফুট)- পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর টকটক, মানজো আর তীব্র স্রোতের কয়েকটি পাহাড়ি নদীর উপরের সাসপেনসন ব্রিজ পার হয়ে সাগরমাতা ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ ফি ১০০ রুপি দিয়ে দুপুর নাগাদ পৌঁছালো জোরসালে (৯,২০০ ফুট)। ২৯ সেপ্টেম্বর খাড়া উঁচু পথ পার হয়ে থামসারকু, আমাদাব্লাম চূড়া অবলোকন করে শেরপা রাজধানী নামচে বাজার (১১,২৮৩ ফুট)। চতুর্থ দিন দুধকোশী, ইমজাসের পাশ দিয়ে পৌঁছালেন ফুঙ্গি ট্যাঙ্গা (১০,৬৬০ ফুট)। ১ অক্টোবর ট্যাংবোচে, মিলিঙ্গো হয়ে দলটি পৌঁছালেন ১৩,০৮৪ ফুট উঁচু প্যাংবোচে। এ পথেই মিলিঙ্গোতে দেখা হয় বাংলাদেশের মেয়েদের অন্য দলটির সাথে। সালমা আর অপারের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা ও ফটোসেশন আর কিসমিস, আমলকি বিনিময় হয়। ২ অক্টোবর ৫ জন মেয়ের দলটি পৌঁছালো ১৪,০৩৮ ফুট উঁচু পেরিচে-তে, ৩ অক্টোবর ১৫,১৫৪ ফুট উঁচু থুকলা বা দুকলা, ৪ অক্টোবর ১৬,২০৩ ফুট উঁচু লবুচে হয়ে ৫ অক্টোবর পৌঁছালো এভারেস্ট হাইওয়ের সর্বশেষ মানুষ্য বসতী ১৬,২০৩ ফুট উঁচু গোরকশেপে। ওইদিন দুপুরেই সম্পা, রুমা, আফরিনরা আরোহণ করলো কালাপাত্থর (১৮,০০০ ফুট)। যেখান থেকে দেখা যায় লোৎসে, নুপৎসের মাঝে এভারেস্ট আর অন্য পাশে পুমেরি। পরদিন ৬ অক্টোবর শুক্রবার ৫ জন মেয়ের দলটি দুপুরের মধ্যে পৌঁছালেন শেষ গন্তব্যস্থল এভারেস্ট বেইজক্যাম্প, যেখানে ট্রেকিংয়ের শেষ এবং ক্লাইম্বিং শুরু।

মুসা ইব্রাহীম, সজল খালেদ, সাকেব নিজাম ও রিয়াজ আহমেদ শীতকালের আগেই লাদাখে হিমালয়ের নতুন পরিবেশে অভিযানের পরিকল্পনা করেন। মুসা ও সজলের পূর্বে প্রশিক্ষণ ও পর্বতারোহণের অভিজ্ঞতা থাকলেও অন্য দুই সদস্যের ছিল না। মুসা ভিসা না পাওয়ায় অপর তিনজন অক্টোবরের প্রথমদিন সড়ক পথে রওনা দেন কলিকাতা। কলিকাতায় সজলের অন্য কাজ শেষ করে পার্সপোর্টসহ বাংলাদেশি পরিচয়বাহী সকল চিহ্ন পরিহার করে ৫ অক্টোবর রওনা দেন লাদাখের উদ্দেশে। ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশনকে না জানিয়ে বেআইনিভাবে যাওয়াই এর কারণ। কলিকাতা থেকে বিহার, আহমেদাবাদ, লক্ষ্ণৌ হয়ে জম্মু। জম্মুতে হিন্দু নাম নিয়ে একটি আশ্রমে থেকে পরদিন টাটা সুমোতে ঘণ্টা সাতেকের পথ পেরিয়ে তিন জন বিকালের দিকে পৌঁছালো কাশ্মীর। কাশ্মীর থেকে কারগিল হয়ে ৯,২০০ ফুট উঁচু লে শহরে পৌঁছে শুরু হল মূল অভিযান। লক্ষ্য ঠিক করা হল ২১,০০০ ফুট উচ্চতায় খাংগিয়াছে (কাং ইয়াৎসে) পর্বত। লে তে দুইরাত কাটিয়ে ১১ অক্টোবর বুধবার ভোরে গাইড মেহেদী, সহকারী আশিক এবং সজল ও সাকিব রওনা দিল ১২,৪০০ ফুট উচ্চতার মারসেলাংয়ের দিকে। ইতিমধ্যে অপর সদস্য রিয়াজ উচ্চতাজনিত সমস্যার জন্য অভিযান থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে নিজেকে। ঘোড়া চালক আজ্জুর একটি ঘোড়া ও পাঁচটি খচ্চর সহ সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বিকাল ৪ টায় দলটি পৌঁছালো ১৪,৬০০ ফুট উচ্চতার ক্যাম্প ‘চো স্কুমরো’তে। পরদিন ১৭,৫০০ ফুট উচ্চতার গংমারু লা পেরিয়ে পাকিস্তানের কেটু দেখতে দেখতে পৌঁছালো নিমালিংয়ে। নিমালিং পৌঁছানোর পর উচ্চতাজনিত কারণে সম্পূর্ণ নতুন সাকেব নিজাম কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে বইতে শুরু করেছে তুষার ঝড়। একরাতের তুষার ঝড়ে ছয় ইঞ্চি সমান বরফে ঢেকে গেল চারদিক। মাত্র একদিনের পথ বাকি থাকতেই প্রকৃতির এই প্রতিকূল পরিবেশের কারণে ব্যর্থ হল খাংগিয়াছে (কাং ইয়াৎসে) পর্বত অভিযান।

২০০৪ খ্রিস্টাব্দে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে বেসিক কোর্স শেষ করা সিরাজুল হক সাগর সর্বদা একাকী অভিযান করার জন্য মুখিয়ে থাকেন। দলগতভাবে প্রশিক্ষণ এবং মেরা পিক অভিযানে অংশ নিলেও একাকী ট্রেকিং করেছেন কয়েকবার। অক্টোবর মাসে তিনি নিজ উদ্যোগে নেপাল হিমালয়ের অন্নপূর্ণা এলাকায় একটি একক অভিযান করেন। গাইড হিসাবে পূর্ব অভিযানের গাইড আং দাওয়া শেরপা এবং একজন পোর্টার আং দর্জী শেরপা থাকলেও সাগরের সাথে অন্য কোন অভিযাত্রী ছিল না। ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা দিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর কাঠমুন্ডু পৌঁছে লক্ষ্মীপূজার দশাই উৎসবের লম্বা ছুটির ফাঁদে পড়েন সাগর। এখানেই দেখা হয় বাংলাদেশের মহিলা ট্রেকার সালমা ও অপারের সাথে। ৩ অক্টোবর নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের অনুমতি নেন শিংগুচুলি (২১,৩২৩ ফুট) পর্বতের জন্য। ৪ তারিখ ভোরে রওনা দেন সাগর। বাস যাত্রা শেষে পোখরা হয়ে ফেদি থেকে ট্রেকিং শুরু করে রাত্রি যাপন করেন দামপুসে। দ্বিতীয় রাত্রিযাপন ঘাংদ্রুক, তৃতীয় রাত চমরং, চতুর্থ রাত্র দেওরালী হয়ে পঞ্চম রাত্রে পৌঁছান মাচ্ছাপুচ্ছেরে (ফিসটেল) বেইজক্যাম্প। পঞ্চম ও ষষ্ঠ রাত এখানেই কাটান। অ্যাক্লামাটাইজেশন করার জন্য ট্রেকিং করেন অর্ন্নপূর্ণা সাউথ বেইজক্যাম্প। ১০ অক্টোবর ফিসটেল বেইজক্যাম্প থেকে রওনা দিয়ে পৌঁছান শিংগুচুলি ও থার্পু চুলি বেইজক্যাম্পে। ১১ অক্টোবর পৌঁছান অ্যাডভান্স বেইজক্যাম্প। ওখানে ছিল ৩ জার্মান ও ১ সুইসের ক্যাম্প দেখতে পান যারা ইতিমধ্যে থার্পু চুলি পর্বতারোহণ করে এসেছেন। ওই দলের গাইডের কাছে খবর পেলেন পরিস্থিতির। ১২ অক্টোবর রওনা দেবার কথা থাকলেও রুট ঠিকমতো না জানায় একদিন বিশ্রাম নিলেন সাগররা। পরদিন ১৩ অক্টোবর ভোর রাত্র ২:৩০ মিনিটে রওনা দিয়ে শিংগুচুলি ও থার্পু চুলি পর্বতের মাঝের ভ্যালিতে পৌঁছালেন সকাল সাড়ে নয়টায়। নির্ধারিত ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্বত শিংগুচুলির দিকে ঘণ্টাখানেক গিয়ে পেলেন খাড়া রিজ এবং পাথুরে মোরেন। পরিস্থিতিও অনুকূলে নয়। চারদিক নরম তুষারে (সফ্ট স্নো) ঢাকা। আং দাওয়া শেরপাও পূর্বে আসেননি এই পথে। সবকিছু মিলিয়ে সিধান্ত পরিবর্তন করে অনুমতি না থাকলেও রওনা দেন থার্পু চুলি পর্বতচূড়ার দিকে। ২টা রোপ, জুমার, ক্রাম্পন, সিলিং রোপ, ক্যারাবিনার এবং হার্নেস সেট পরে শুরু করলেন টেকনিক্যাল ক্লাইম্বিং। প্রথমে গাইড আং দাওয়া শেরপা, নিচে সিরাজুল হক সাগর। মাত্র দুই আড়াই ফুট চাওড়া তুষারাবৃত পাথুরে রিজ (পর্বত গাত্র) ধরে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ক্লাইম্বিং করে পৌঁছালেন ১৮,৫৭৫ ফুট উঁচু থার্পু চুলি পর্বত চূড়ায়। সিরাজুল হক সাগর তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন একাকী একটি টেকনিক্যাল পর্বতচূড়া জয় করলেন ১৩ অক্টোবর দুপুর ১:৪৫ মিনিটে।

১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের বাংলাদেশের প্রথম দলগত মহিলা দলের এভারেস্ট বেইজক্যাম্প ট্রেকিং পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন। বিকাল ৪:৩০ মিনিটে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির হল রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা কামরুন নাহার ডানা। উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সভাপতি আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল, মহাসচিব মশিউর আর খন্দকার, ইয়াহিয়া খান, রিফাত হাসানসহ অনেক অ্যাডভেঞ্চার আগ্রহী ব্যক্তি। উপস্থাপনা করেন সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া দিপু। অনুষ্ঠানে যাত্রা পথের বর্ণনা দেন সালমা খাতুন ও অপার আহমেদ। সর্বশেষে এভারেস্ট বেইজক্যাম্প অভিযাত্রা নিয়ে তৈরি ১৪ মিনিটের একটি ভিডিও দেখানো হয়।

১৭ নভেম্বর জাতীয় প্রেসকাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় মেয়েদের দ্বিতীয় দলের এভারেস্ট বেইজক্যাম্প, সজল খালেদের দলের খাংগিয়াছে ট্রেকিং এবং সিরাজুল হক সাগরের একাকী অভিযানে নেপাল হিমালয়ের থার্পু চুলি পর্বতচূড়া জয় পরবর্তী সম্বর্ধনা ও সংবাদ সম্মেলন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লেখক আনিসুল হক। সভাপতিত্ব করেন মুসা ইব্রাহীম। অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন মহিলা দলের দলনেত্রী সাদিয়া সুলতানা সম্পা, খাংগিয়াছে ট্রেকিংয়ের দলনেতা সজল খালেদ ও একক অভিযাত্রী থার্পু চুলি শিখর জয়ী সিরাজুল হক সাগর। শেষে ২৫ মিনিট ব্যপ্তির এভারেস্ট বেইজক্যাম্প ট্রেকিংয়ের ভিডিও ও খাংগিয়াছে ট্রেকিংয়ের আলোকচিত্র প্রদর্শীত হয়।

১ ডিসেম্বর শুক্রবার মীর শামছুল আলম বাবুর মনিপুড়িপাড়াস্থ কার্যালয়ে (টিম এক্সট্রিম) অনুষ্টিত হয় বাংলাদেশী পর্বতারোহীদের মিলনমেলা। মূলত প্রবাসী বাংলাদেশী পর্বতারোহী ইন্তেসার হায়দারের আগমণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনাম-আল-হক, ইয়াহিয়া খান, মুনতাসির মামুন ইমরান, সিরাজুল হক সাগর, মুসা ইব্রাহীম, নূর মোহাম্মদ, রিফাত হাসান, এম. এ মুহিত, রূপেস চাকমা, সালমান সাঈদ, সজল খালেদ, জেসমিন আলী, তালবিদা আলী, আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল, রিয়াজ আহমেদ, এহসান হাফিজ জয় প্রমুখসহ ইন্তেসারের মা আলমাস হায়দার। মীর শামছুল আলম বাবুর পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে ইন্তেসার হায়দার তার মাউন্ট ভিনসন (১৬,০৭৬ ফুট) ও মাউন্ট ফরবেস (১১,৮৫১ ফুট) বিজয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা ও স্লাইড প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে পর্বতারোহণ করা ইন্তেসার হায়দারকে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সদস্যপদ দেওয়া হয়।

১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে দ্বিতীয় বারের মতো পালিত হয় বিশ্ব পর্বত দিবস। এ উপলক্ষে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং ও ট্রেকিং ক্লাব বেশ কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ৮ ডিসেম্বর পার্বত্য বান্দরবান জেলা সদরে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি, পর্বত পর্বতের মানুষ ও পর্বতারোহণ বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, পর্বতারোহণ যন্ত্রপাতি ও কলাকৌশল প্রদর্শন এবং আলোচনা সভা। পর্বতারোহী, পাহাড়প্রেমী সমতলবাসীর সাথে অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করেন বহুসংখ্যক পাহাড়ি মানুষ। মূল বিশ্ব পর্বত দিবস অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের পাশ্ববর্তী রমনা পার্কস্থ ছবির হাট প্রাঙ্গণে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয় বিশ্ব পর্বত দিবস। যার এবারের প্রতিপাদ্য হল-পর্বতের টেকসই ব্যবস্থাপনা।

২৫ জানুয়ারি ২০০৭ বৃহস্পতিবার ইনাম-আল-হকের বাসায় ইনাম-আল-হক, মুসা ইব্রাহীম, সজল খালেদ, মীর শামছুল আলম বাবু, এম.এ মুহিত, মুনতাসির মামুন ইমরান, সালমান সাঈদ প্রমুখের উপস্থিতিতে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ জানুয়ারি মঙ্গলবার এনাম তালুকদারের বাসায় আরো একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন মীর শামছুল আলম বাবু, মুসা ইব্রাহীম, সজল খালেদ, রিফাত হাসান, সিরাজুল হক সাগর ও এনাম তালুকদার। এই দুই সভায় ক্লাবটিকে প্রকৃত সাংগঠনিকভাবে পরিচালনা, সদস্যকরণ, নিবন্ধকরণ, সংবিধান রচনা প্রভৃতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা হয়।

ফেব্রুয়ারির অমর একুশে বই মেলায় প্রকাশিত হয় হিমালয় পর্বত, এভারেস্ট ও বাংলাদেশের পবর্তারোহণ কর্মকাণ্ড নিয়ে লিখিত মীর শামছুল আলম বাবুর বই ‘হিমালয় এভারেস্ট ও বাংলাদেশ’।

এভাবেই ট্রেকিং, অভিযান আর নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের পর্বতারোহণ কর্মকাণ্ড-সুদূর ভবিষ্যতের মহা সাফল্যের প্রত্যাশায়।


(Visited 1 times, 1 visits today)
মীর শামছুল আলম বাবু
মীর শামছুল আলম বাবু
একাধারে আলোকচিত্রী, চলচ্চিত্র গবেষক, পর্বতারোহণ প্রশিক্ষক। পাহাড়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে বান্দরবানের কেওক্রাডংয়ে সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার ট্রেকিং ও পর্বতারোহণ জীবনে পদার্পণ।

One thought on “বাংলাদেশে পর্বতারোহণ যুগের সূচনা (শেষ পর্ব)

  1. ধন্যবাদ, লেখাটা অবশেষে ছাপানোর জন্য। লেখাটা (বইটা) ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। ২৫ জানুয়ারি ২০০৭ এর রাত্রে শেষবার কলম চালানো হয়েছে। সুতরাং এটা সেই সময়ের কথা ধরেই পড়তে হবে।

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)