পাহাড়ে পর্যটন ভাবনা


সাজেকের সাথে আমার প্রথম পরিচয় এক গল্পের মাধ্যমে গল্প বলবার আগে কিছুটা ইতিহাস কপচে নেই হিরো ওনোদার গল্পটা জানেন? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক জাপানি সেনা কর্মকর্তা হিরো ওনোদা যুদ্ধের শেষদিকে ফিলিপাইনের লুবাং দ্বীপে ছিলেন মূল সেনাবাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বার আগে তার প্রতি শেষ নির্দেশ ছিল, যেভাবেই হোক নিজের অবস্থান ধরে রাখো  জাপান আত্নসমর্পণ করলেও তার কাছে যুদ্ধ থামাবার কোন নির্দেশ পৌঁছানি বলে ওনোদা আর যুদ্ধই থামাননি আমেরিকান আর্মির লিফলেট হাতে পড়েছিল অবশ্য, কিন্তু ধোঁকা মনে করে আত্নসমর্পণ করেননি এক দুই নয়, পুরো ২৯টি বছর যুদ্ধ শেষ হয় ১৯৪৫ সালে, হিরো ওনোদা দ্বীপের অবস্থান ধরে রাখেন ১৯৭৪ সাল অবধি শেষকালে ১৯৭৪ সালে বহু দলিল ঘেটে ওনোদার পরিচয় বের করে তার ইউনিট কমান্ডারকেই নিয়ে যাওয়া হয় সেই দ্বীপে নিজের কমান্ডারের নির্দেশ শুনেই ওনোদা আত্মসমর্পণ করে ১৯৭৪ সালে

এই হিরো ওনোদার গল্প ঘিরেই এক গল্পকার কাহিনী ফেঁদে বসেন সাজেককে নিয়ে একদল পর্যটক সাজেকে কমলার স্বাদে অভিভূত হয়ে এর উৎস খুঁজতে যেয়ে এক গুহায় আবিস্কার করেন জাপানি কিছু সৈনিককে, যাদের নিয়ে আসা কমলার বীজ থেকেই সাজেকের কমলার উৎপত্তি!

এই গল্পটা পড়ি ক্লাস সিক্সে পড়বার সময় গল্পের বই জেনেও বিশ্বাস করে বসেছিলাম সেই গল্প, কারণ ঠিক ওই সময়েই টেকনাফের দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার অস্ত্র গোলাবারুদ সমেত একটা বেশ বড় বাংকারের খোঁজ পাওয়া গেছিলো, দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে সেই গল্প আমি বিশ্বাসও করে ফেলি সাজেকের রুইলুই পাড়ার বেশ দারুণ বর্ণনা ছিলো সেই বইতে আমি প্রথমবার যেবারে যাই আমার কল্পনায় ছিলো বইয়ের বর্ণনার সেই সাজেক পার্বত্য এক জনপদ, পাহাড় চূড়ায় মাচাঘর, দিনের বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা সেই জনপদে নিজেরাই কফি চাষ করে আর বাগানে ফলায় মিষ্টি কমলা!

এরপর পত্রিকায় পড়েছি রুইলুই পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে, স্থানীয়দের পাড়া স্থানান্তরে করে ফেলা হয়েছে, ইত্যাদি তবে তখন বুঝিনি রুইলুই আমার গল্পে পড়া সাজেক!

প্রথমবার রুইলুই পাড়ায় পৌঁছাই প্রচন্ড শীতের ভোরে (তখনো এসকর্ট প্রথা চালু হয়নি, ইচ্ছেমতো সময়ে চলে যাওয়া যেত) পুরো রুইলুই জুড়ে দুইটা কি তিনটা ব্যক্তিমালিকাধীন কটেজ এবং পাড়ার বেশ অনেকটাই তখনো আছে পাড়া থেকে বের হলেই বিশাল কমলার বাগান, তাতে আধপাকা কমলা ঝুলে আছে দুদিন ছিলাম সেবারে, পুরো রুইলুইতে আমরা ১১ বন্ধুসহ ট্যুরিস্ট সংখ্যা ১৯! সারাদিন ঘুরে বেড়াই, রীতিমতো আধুনিক সড়কে রাতের স্ট্রিটল্যাম্পের আলোয় ঘুরে বেড়াই আর আফসোস করি নগর জীবন নিয়ে, স্থানীয়দের সাথে আড্ডা বসাই, ভুতের গপ্পো হল এক বেলা, এক বাড়িতে কফি গাছ পেয়ে কফির বীজ চুরি করতেও ভুল হল না কমলার হালি ১২ টাকা মনে হলো স্বর্গ বোধহয় এমনি! রাতে হেলিপ্যাড থেকে হেঁটে ফিরছি, রাতের টহলে বের হওয়া এক জিপ থামিয়ে সেনা সদস্যরা জোড় করে গাড়িতে লিফট দিয়ে পৌঁছে দিলেন ক্লাব হাউজে আমাদের আবাসে

ক্লাব হাউজে থাকবার কথা ছিল না অবশ্য, রুইলুই কমিউনিটি পুলিশের চীফ ও রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রের প্রহরী বিতরাম ত্রিপুরার হোমস্টেতে থাকবার কথা ছিলো তখন কেবল দুটো কটেজ বলে সবাই এমন হোম স্টেতেই থাকতো অবশ্য তবে ক্লাব হাউজ দেখে আমাদের এতো ভাল লেগে যায় যে বিতরাম দাদাকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে আমরা ক্লাব হাউজে উঠে যাই

এরপর থেকে নিয়মিত গিয়েছি কাজের সূত্রে, এমনি একা একা চলে গেছি, কখনো স্কুলফ্রেন্ডের সাথে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে ঘুরতে প্রতিবারেই ৩/৪ মাস পরপর গেছি দ্বিতীয়বারে যখন যাই, অবাক হয়ে আবিস্কার করলাম আগেরবার যেখানে ঘন বন দেখে এসেছি সেখানটায় জঙ্গল পরিস্কার করে কটেজ উঠে যাচ্ছে এরপর যেয়ে দেখি হেলিপ্যাডের আগে রাস্তার দুধারে জায়গাগুলো খালি নেই মোটেই তারপর যেয়ে দেখি কংলাক পাড়া পর্যন্ত কটেজ উঠে গেছে আর রুইলুই পাড়ায় রাস্তার দুপাশ ছেড়ে নিচের দিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কটেজ সাম্রাজ্য!



প্রথমবারে গিয়ে কংলাকের চূড়াটা একেবারে রীতিমতো বুনো অবস্থায় পেয়েছিলাম পরের বার যেয়ে দেখি বেঞ্চ পেতে চা বিক্রির ব্যবস্থা, এরপর ছোট একচালা ঘর, এরপর আরেকটু বড় ঘর, পাড়ার চতুর্দিকে ইতোমধ্যে কটেজ উঠে যাচ্ছে রুইলুইতে আরো কটেজ বাড়ল আগে ছিলো রাস্তার দুধারে দুই লেয়ারে, এখন সেটা কোন কোন জায়গায় ৫/৬ লেয়ারে পৌঁছে গেছে! এক কটেজে মাটির নিচে সিড়ি দেখে আগ্রহ নিয়ে নিচে যেয়ে দেখি মাটির নিচে পুরো একটি ফ্লোর, তাতে ৬টি রুম! পুরো রুইলুইতে ২ কি ৩ ঘর স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর এখনো টিকে আছে, এছাড়া পুরো গ্রামটিই এখন কটেজপাড়া নয়, রীতিমতো বস্তিতে পরিণত হয়ে গেছে আগে যেখানে পর্যটক বাদে বাঙ্গালি মুখের আদল চোখে পড়ত না বললেই চলে, এখন সেখানে বাঙ্গালির জয়জয়কার পার্বত্য জনজাতির মানুষ যারাই আছেন তারা সবাই জেলা সদর থেকে আসা কটেজ ব্যবসায়ী!

শেষ বারে যেয়ে আমার বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল আমি কি কোন পার্বত্য জনপদে আছি, নাকি সমতলে অবস্থিত কোন বাজারে? আমাদের সমতলের বাজারগুলোতে যেমন কালিঝুলি মাখা ভাতের হোটেল চোখে পড়বে আপনার, যেটির সামনে একটি তেলমাখা টেবিল আর পাম্পচুলা থাকবে যাতে সন্ধ্যার পর পুরি-পিঁয়াজু ভাজা হতে থাকবে, ঠিক তেমন একেবারে ভাত আর পুরির রেস্টুরেন্টে ভরে গেছে এককালের পাহাড় চূড়ার শান্ত জনপদ রুইলুই! রাতে ঘুরে বেড়ালে কেরোসিনের পাম্প চুলার ফ্যাসেফ্যাসে আওয়াজে মনে হবে না আপনি ১৪০০ ফুট পাহাড় চূড়ায় বসে আছেন!

মূল বক্তব্যে যাবার আগে এতো বিশাল গপ্পো ফাঁদবার কারণ আমার দেখা পর্বতচূড়ার শান্ত জনপদ থেকে ক্রমে জনপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় একটি হিল স্টেশনে পরিণত হয়ে, তার থেকে নগরের ঘিঞ্জি কোন বস্তিতে পরিণত হবার যাত্রার কিছুটা বর্ণনা দেওয়া

রুইলুই পাড়া একটি পার্বত্য জনপদ থেকে পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় স্থানীয়রা কষ্ট পেলেও অন্তত ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছিলো দেশে এমন একটি হিল স্টেশনের খুব জরুরী দরকার তাছাড়া, প্রথমবারে যেয়ে দেখেছি পর্যটক যারা আসে বেশিরভাগই হোম-স্টে মডেলে থাকছে অর্থাৎ কারো ব্যক্তিগত বাড়িতে মাথাপিছু খরচ দিয়ে রাতে মাথা গোঁজার ঠাই ও বেলাপ্রতি টাকা হিসেব করে খাবার পাবার সুযোগ এই কমিউনিটি ট্যুরিজমের সুবিধাটি হচ্ছে, পরিবারের বর্তমান সম্পদ থেকেই বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি, আয়ের সুষম বন্টন ও সকলেরই আয়ের সুযোগ থাকায় সমহারে কমিউনিটির উন্নয়ন ইত্যাদি পর্যটনের এই ধারাটি ভারত ও নেপালের পার্বত্য অঞ্চল সমূহে বহু আগ থেকেই প্রচলিত কমিউনিটি ট্যুরিজমের একটি নীতি মেনে চলা হয়, সাধারণত একটি বাড়িতে কখনোই এক ঘরের বেশি পর্যটক রাখা হয় না ও পর্যটকদের আবাস বন্টনের ক্ষেত্রে সমগ্র কমিউনিটির একটি হাত থাকে বলে সবাই সবসময় পর্যটক পায় ফলে রিভিউ কিংবা রেফারেন্সের ফলে এক বাড়ি পর্যটক পেতেই থাকবে, আরেক বাড়ি কিছুই পাবে না এমনটি কখনোই হয় না

কমিউনিটি ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে যেহেতু ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যবহার হয়, তাই পুরোপুরি বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় কেউ চাইলেই ইচ্ছেমতো পর্যটক রাখতে পারে না আর যেহেতু গ্রামে পরিবার সংখ্যা নিদ্রিস্ত, ফলে কখনোই একটি গ্রামের ধারণক্ষমতার বেশি অতিরিক্ত পর্যটক অবস্থান করবার সুযোগ পান না ফলে এমনটি হবার জো নেই যে, কোন ছুটিতে ৩০০০ মানুষ এসে গাদাগাদি করে রইল, আবার অন্য সময়ে ৩০ জন পর্যটকও আসলেন না এরকম অবস্থা যাতে কখনোই না ঘটে সেটির নিয়ন্ত্রণে অনেক দেশেই এককালীন সর্বোচ্চ অবস্থানের পারমিটের ব্যবস্থা আছে ফলে প্রতিটি পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্রেরই চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে তাতে সারাবছর পর্যটকদের আনাগোনা তৈরি করে রাখা হয় এতে যেমন কখনোই স্থানীয় অধিবাসীর উপর অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ পড়ে না, তেমনি পরিবেশেরও ভারসাম্য বজায় থাকে

রুইলুইয়ের ক্ষেত্রে চাইলেই এমনটি করে ফেলা যেত যদি ঘর হিসেব করে একটা ক্যাপাসিটি নির্ধারণ করা হতো এই ৫০ ঘরে নূন্যতম আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করে (পরিস্কার বিছানা, স্যানিটারি টয়লেট, পানির ব্যবস্থা, সোলারে বিদ্যুৎবাতি সুবিধা)  ঘরপ্রতি গড়ে ৭ জন করে এককালীন সর্বোচ্চ ৩৫০ জন অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে, এর সাথে একটি সেন্ট্রাল নম্বর থাকতে পারতো সকলের বুকিং একত্রে নিয়ে বাড়িপ্রতি এসাইন করবার জন্যে তাতে যেটি হতো বাই রোটেশন সব বাড়িতে নিয়মিত পর্যটক অবস্থান করতে পারতো ফলে পুরো গ্রামের সবার আয়ের সমতা থাকতো, সহনীয় মাত্রায় পর্যটক অবস্থানের কারণে অল্প সংখ্যক গাড়ি চলাচলের মাধ্যমেই পর্যটকদের আনা নেওয়া করা যেত পরিবেশের উপর চাপ কিংবা দূষণের মাত্রা সবই একটি সহনীয় মাত্রার মাঝে থাকতো এভাবে নিয়মিত আয় সৃষ্টির ফলে সামগ্রিক ভাবে ধীরে ধীরে গ্রামের সকলের জীবনমান উন্নয়নের একটি সম্ভাবনা থেকে যেতো

এই বহুল ব্যবহৃত কমিউনিটি ট্যুরিজম অনুসরণ করবার বদলে আমরা সমতলের উপযোগী এপ্রোচ নিয়ে শুরতেই কমার্শিয়াল কটেজ চালুর সুযোগ করে দিলাম যেহেতু পার্বত্যগ্রামগুলোর মানুষদের হাতে নগদ অর্থ তেমন একটা থাকে না, ফলে তারা সেই কটেজ ব্যবসার এই খাতে কোন প্রকার অংশ নিতে পারলেন না, উপরন্তু অল্প কিছু নগদ টাকার লোভে অধিকাংশই নিজেদের ভিটেমাটি বিক্রি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি লিজে দিয়ে বাসস্থান সরিয়ে নিয়ে গেলেন রুইলুই থেকে এই সুযোগে সমতল থেকে আসা ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা রীতিমতো লুফে নিলেন ফলে দ্রুতই রুইলুইতে একের পর এক কটেজ স্থাপিত হতে থাকল কোন সমন্বিত পরিকল্পনা না থাকায় সারাদেশ থেকে পর্যটকের চাপ আসতে থাকায় হুট করে আবাসন আর পরিবহনের বিপুল চাহিদার তৈরি হল ফলে অবস্থা এমন দাড়ালো যে বড় কোন ছুটির দিনে একত্রে ৫/৬ হাজার মানুষকে স্থান দিতে সক্ষম কটেজ, এতো বিপুল মানুষকে বহন করতে বিপুল গাড়ির সমাগম আর খাবারের জোগান দিতে একগাদা রেস্টুরেন্ট মিলিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ একেবারেই বিপর্যয়ের মুখে রুইলুইতে

ক্ষতি শুধু প্রাকৃতিক ভাবেই নয়, ব্যবসায়িক দিক থেকেও রুইলুই কেন্দ্রিক ব্যবসা মডেল আর কোনমতেই ফিজিবল নয় যেহেতু সপ্তাহে কেবল ১ রাত ব্যবসা হচ্ছে এখানটায় বাকী ৬ দিন থেকে যাচ্ছে রীতিমতো গ্রাহকশূন্য এটি যেমন এখানে বিনিয়োগকারীদের ভোগাচ্ছে, তেমনি ভোগাচ্ছে গাড়ি ব্যবসায়ীদের ফলে একদিনের ব্যবসা দিয়ে সারা সপ্তাহের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা মাত্রাতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে পর্যটকদের কাছ থেকে এর ফলে পর্যটকের পুনঃভ্রমণের সম্ভাবনা ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রুইলুই পর্যটন কেন্দ্র এবং দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহের একটি হিলস্টেশন হবার বদলে রুইলুই ৪/৫ বছরের একটা ট্রেন্ডে পরিণত হয়ে আগ্রহ পরতির দিকে পর্যটকদের এমনকি পরিচিত পুরনো কটেজ ব্যবসায়ী যারা ছিলেন তারা এখন জমিতে বিনিয়োগ করছেন জপুইয়ের দিকে, কারণ পরিকল্পিত রাস্তাটি হয়ে গেলে জপুই হবে নতুন পর্যটন আকর্ষণ, তারাও বুঝে গেছেন রুইলুইয়ের সব সম্ভাবনা গলাটিপে মেরে ফেলা হচ্ছে, এর সব সুধা রীতিমতো ছিবড়ে শুষে নেওয়া হয়ে গেছে! রুইলুইয়ের আত্মিক ধ্বংস যা হবার হয়ে গেছে এ স্রেফ একটি উঁচু পাহাড় চূড়ায় থাকা একটা কটেজ রাজ্য!

রুইলুই এই পুরো যাত্রাটি পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন উন্নয়নে স্থানীয় অধিবাসী, স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটনের উন্নয়ন করতে যাওয়া যে কারো জন্যেই কেইস স্টাডির মতো রুইলুইয়ের ভুলকে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর (নেপাল ও ভারতের কমিউনিটি ট্যুরিজম) মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে খোদ সরকারের পর্যটন উন্নয়ন দফতরের সহযোগিতায় একটি বিশাল হোমস্টে ও কমিউনিটি ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে যেখানে চাইলেই সরকারী ওয়েবসাইট থেকেই হোমস্টে বুকিং করে চলে যাওয়া যায় প্রত্যন্ত কমিউনিটি ট্যুরিজম কেন্দ্রে একই মডেল অনুসরণ করে যদি আমাদের পর্যটন কর্পোরেশন স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয় তবে এই সামান্য পৃষ্ঠপোষকতাই পারে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন এক মাত্রা যুক্ত করতে হোমস্টে বুকিংয়ের সঙ্গে রুট পার্মিট গ্রহণের ব্যবস্থা যদি পুরোটাই ডিজিটাল করে ফেলা যায়, এরফলে যেমন পর্যটকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, পর্যটনে ভারসাম্য রক্ষা হবে, কোন নির্দিষ্ট ট্রেন্ড নয়, দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্রে সারাবছর পর্যটকদের আনাগোনা থাকবার মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।


(Visited 1 times, 1 visits today)
মাসুক উর রহমান
মাসুক উর রহমান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে লেখাপড়া শেষ করে এখন বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে একজন উদ্যোগতা হিসেবে কাজ করছেন।

One thought on “পাহাড়ে পর্যটন ভাবনা

  1. সাজেকের আজকের এই পরিবর্তনের দায় কিছুটা আমারও।
    তারপরও পর্যবেক্ষণ টি অসাধারণ লেগেছে।
    সমস্যা তুলে ধরেছেন যেটি অনেকেই করে।
    তবে ভাল লেগেছে সমাধানের পথ দেখিয়ে দেওয়া।

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)