নাঙ্গা পর্বত

ছবি: ফেইরি মিডোজ |  ইমরান খাকওয়ানি | CC BY-SA 4.0


এক.

পূর্ব দিগন্তে আলো ফোটার আগেই আচমকা ফ্রয়েনবার্গারের ঘুম ভেঙে গেল। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা মাথায় আসতেই ফ্ল্যাপের চেইন খুলে তাড়াতাড়ি সে  তাঁবু থেকে বেড়িয়ে গেল। ব্যাগ্র হয়ে সে তাকালো উত্তুরে ঢালের দিকে, কোন জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াল তার চোখ। কিন্তু গাঢ় এক অন্ধকার এখনও ছেয়ে আছে পুরো পর্বতে। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরেও কিছুই দেখতে পেল না সে। তাঁবুতে ফিরে ক্যাম্প-৪ এ অপেক্ষারত আর্লকে ওয়াকিটকিতে জানাল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অক্সিজেনের যন্ত্রপাতি নিয়ে সে যেন উপরে উঠে আসে। কারণ এই পরিস্থিতিতে হেরমানকে যদি কিছু সাহায্য করতে পারে তা হল অতিরিক্ত অক্সিজেন।

পুব আকাশ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে এল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সূর্যের তাপ পুরো রাখিয়টে ছেয়ে গেল। প্রচন্ড গরম ছিল সেদিন। কে বিশ্বাস করবে ৭০০০ মিটার উচ্চতায় নাঙ্গা পর্বতের ক্যাম্প-৫ এ দুপুরবেলা তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার রাতে তাপমাত্রা ছিল হিমাঙ্কের ২০ ডিগ্রি নিচে। ঝড়ো বাতাস থাকলে তো কথাই নেই তাপমাত্রা ঝট করে ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। দুপুর গড়িয়ে যাবার পর নিচ থেকে কুলিদের সাথে করে আর্ল অতিরিক্ত অক্সিজেনের সরঞ্জাম নিয়ে চলে এসেছে। একটু পর পর সবার চোখ চলে যাচ্ছে সিলভার স্যাডেলের দিকে, প্রতিবার সবাইকে নিরাশ হতে হচ্ছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে এল, কিন্তু হেরমান তখনও ফিরে এল না।

উদ্বিগ্নতা, হতাশা ও হেরমান বুলের ফেরার প্রতীক্ষায় আশাবাদ নিয়ে সবাই মুর’স হেডে জড় হল। এখানে তারা পূর্বরর্তী অভিযানে নিহত জার্মান অভিযাত্রীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি ফলক স্থাপন করবে। স্মৃতিফলক লাগানোর সময় সকলেই ভাবছিল এখানে হেরমান বুলের নামটিও আবার জুড়তে হবে কিনা।


রাখিয়ট ফেইসের রুটগুলো। লাল রঙে চিহ্নিত রুটটি দিয়ে ১৯৫৩ সালে হেরমান বুল নাঙ্গা পর্বত আরোহণ করেছিলেন।
ছবি [Jochen Hemmleb]


দেখতে দেখতে সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ল। কালো গম্ভীর ছায়া গ্রাস করে নিল পুরো ঢাল। তীব্র ঠান্ডার বাতাসের স্রোত বইতে শুরু করল। ফ্রয়েনবার্গার তাঁবুতে ঢোকার আগে শেষবারের মত তাকালো সিলভার স্যাডেলের দিকে। কালো ছোট একটা বিন্দুর দিকে তার চোখ আঁটকে গেল। প্রথমে মনে হল আধো অন্ধকারে তার ভ্রম হচ্ছে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে সেই কালো বিন্দুটি ধীরে ধীরে নড়তে লাগল। অবাক করা বাধাহীন খুশিতে ফ্রয়েনবার্গার চিৎকার দিয়ে উঠল। দীর্ঘ ৪১ ঘন্টা পর হেরমান বুল অবশেষে ফিরে আসছে।

দুই.

হিমালয়ের একেবারের পশ্চিম খুঁটির নাম হচ্ছে নাঙ্গা পর্বত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮১২৬ মিটার উচ্চতার এই পর্বতটি পৃথিবীর নবম সর্বোচ্চ চূড়া। পাকিস্থানের গিলগিট-বালতিস্থান অঞ্চলের দায়ামির জেলায় সিন্ধু নদের দক্ষিণে এই পর্বতের অবস্থান। স্থানীয় ভাষায় এর নাম ‘ডায়ামির’; তিব্বতি ভাষায় যার অর্থ ‘বিশাল পর্বত’। আর নাঙ্গা পর্বত নামটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে যার অর্থ ‘নগ্ন পর্বত’। প্রথমবারের মত এই পর্বতটি আরোহণ করতে গিয়ে ৩১ জন আরোহী নির্মমভাবে এর ঢালে মারা যান তাই পর্বতারোহীদের কাছে এই পর্বতটি কিলার মাউন্টেইন নামেও পরিচিত।

নাঙ্গা পর্বতের সুদীর্ঘ রিজ লাইন বিপুল পরিমাণ বরফ ও শিলা দিয়ে গঠিত। এই পর্বতের প্রধান তিনটি ঢাল হল, ডায়ামির, রাখিয়ট ও রুপাল। পর্বতের উত্তুরে দেয়াল রাখিয়ট নামে পরিচিত। প্রথমদিকের সবক’টি অভিযান পর্বতের উত্তর দেয়াল দিয়েই সংঘটিত হয়েছিল। ততদিন পর্যন্ত মনে করা হত নাঙ্গা পর্বত আরোহণের উপযুক্ত পথ একমাত্র উত্তর দিক থেকে পাওয়া সম্ভব।  ১৯৫৩ সালেও অভিযাত্রী দলটিও  উত্তর বা রাখিয়ট ফেইস দিয়েই আগ্রসর হয়েছিল।

রাখিয়ট হিমবাহের ঠিক পাশেই ৪ হাজার মিটার উচ্চতায় আছে সবুজে ছাওয়াবিশাল এক তৃণভূমি। ১৯৩২ সালে জার্মান অভিযাত্রী দলের নেতা উইলি মারকেল সবুজ কচি ঘাসে ছাওয়া এই তৃণভূমির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নাম দিয়েছিল ‘ফেইরি মিডোজ’ বা ‘স্বর্গের উদ্যান’। সেখান থেকে পথ পর্বতের উত্তরপূর্ব ঢাল অতিক্রম করে রাখিয়ট ফেইসের ঠিক নিচ পর্যন্ত চলে গেছে। এই রাখিয়ট ফেইসের দেয়ালটি থেকে যখন তখন তুষারধ্বস নেমে আসে। এই দেয়াল বেয়ে কয়েকশ মিটার উপরে উঠলেই পাওয়া যায় মুর’স হেড নামে বিশাল খোলা একটি ময়দান। সেখান থেকে পথ আবার চলে যায় পর্বতের পূর্ব রিজলাইন ধরে সিলভার স্যাডেলের দিকে। সিলভার স্যাডেল থেকে সিলভার প্ল্যাটু অতিক্রম করে নাঙ্গা পর্বতের ৭৮৫০ মিটার উঁচু সাবসিডিয়ারি চূঁড়ায় উঠে আবার নামতে হয় বাঝিন গ্যাপে। সেখান থেকেই আবার শুরু হয় মূল চূড়ায় দীর্ঘ আরোহণের পথ।

এটি অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘ অভিযানের পথ। মূল চূড়া আরোহণের জন্য বেইজ ক্যাম্প থেকে ৪৬২৫ মিটার আরোহণ করতে হয় আর এর জন্য পাড়ি দিতে হয় প্রায় আঠার কিলোমিটার দূরহ পথ।

জার্মানির অভিযাত্রী স্লাজিনওয়াইট ভাইয়েরা উনিশ শতকের শেষ ভাগে ইউরোপিয়ানদের সামনে এই পর্বতটির অস্তিত্ব সর্বপ্রথম তুলে ধরেন। মিউনিখ অধিবাসী  স্লাজিনওয়াইট ভাইয়েরা ১৮৫৪ সালে ভারতবর্ষে আসেন ও হিমালয়ের মানচিত্র প্রণয়ন করেন। সেই সময়ই সিন্ধু নদের পাড় থেকে নাঙ্গা পর্বতের একটি জল ছবি আকেন অ্যাডলফ স্লাজিনওয়াইট। এটিকে নাঙ্গা পর্বতের সবচেয়ে পুরনো ছবির দলিল হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। ১৮৫৭ সালে অ্যাড লফকে নির্মমভাবে কাশগড়ের কাছে নির্মমভাবে খুন করা হয়। শুরু হল জার্মানদের নাঙ্গা পর্বত অভিশাপ।

তিন.

নাঙ্গা পর্বতে প্রথমে পা রাখেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী আলবার্ট ফেড্রিক মামেরি। আল্পস পর্বতমালায় দূরহ সব আরোহণ শেষ করার পর তার দৃষ্টি চলে যায় হিমালয়ের সুবিশাল সব পর্বতচূড়ার দিকে। তার মনে হয়েছিল আল্পসের মত হিমালয়ের চূঁড়াগুলোতেও একইভাবে আরোহণ করা সম্ভব। কিন্তু হিমালয় যে একেবারেই অন্যরকম এক ধাঁধা সেটা তিনি বুঝতে পারেন নি। অতি উচ্চতায় মানুষের দেহে যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরী করে এটাও তখনকার সময়ে ছিল একেবারেই অজানা।

১৮৯৫ সালে মামেরি, নরমাল কলি, হেস্টিংস দুজন গুর্খা সহ প্রথমবারের মত আট হাজার মিটারের কোন পর্বত আরোহণে উদ্দেশে হিমালয়ে পদার্পন করে। অ্যাল্পাইন স্টাইলে আরোহণ করে তারা যখন রাখিয়ট ফেইসে রেকি করছিল তখন মামেরি ও সাথে থাকা দুজন গুর্খা রাঘুবীর থাপা ও গোমান সিং হঠাৎ নেমে আসা তুষারধ্বসে ভেসে যায়। তাদের মৃতদেহ আর কখনোই পাওয়া যায়নি।

নাঙ্গা পর্বতের বেইজ ক্যাম্প থেকে মামেরি তার স্ত্রীর কাছে বেশ কিছু চিঠি লিখেছিলেন। যেখানে নাঙ্গা পর্বতের অকল্পনীয় সৌন্দর্য ও এর তীব্র আকর্ষণ শক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন। তার এই মূল্যবান চিঠিগুলো পরবর্তীতে তার বিখ্যাত বই ‘মাই ক্লাইম্বস ইন দ্যা আল্পস এন্ড ককেশাস’ বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামেরির বইটি জার্মান ভাষায় অনুদিত করে প্রকাশ করার স্বত্বটি সেময় নিয়েছিল পর্বতারোহী, লেখক এবং প্রকাশক ওয়াল্টার স্কিমিজৎস। মামেরির লেখা পড়ে স্কিমিৎজ অভিভূত হয়ে পড়েন। নাঙ্গা পর্বত আরোহণের ঝোঁক তার মাথায় চেপে বসে। কিন্তু এর মধ্যেই ইউরোপ জুড়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তার স্বপ্ন আর বাস্তবে রুপ দেয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে যুদ্ধের দামামা থেমে যাবার পর স্কিমিজৎস তার দুজন বন্ধু উইলো ওয়েলজেনবাক ও পল বয়ারকে তার নাঙ্গা পর্বত আরোহণের স্বপ্নের কথা বলেন। পল বয়ারের মাথায় তখন শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা চলছিল তাই ওয়েলজেনবাকই লুফে নিল নাঙ্গা পর্বতের পরিকল্পনা।

আধুনিক আইস ক্লাইম্বিংয়ের পথিকৃত ওয়েলজেনবাক ১৯৩০ সালে নাঙ্গা পর্বত অভিযানের বিস্তারিত পরিকল্পনা করে ফেলেন। অভিযানের সবকিছুই যখন ঠিকঠাক একেবারে শেষ মুহুর্তে এল এক চরম দুঃসংবাদ। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে বিদেশ যাত্রার অনুমতি পাওয়া গেল না। বন্ধু পল বয়ারের কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানের কারণে পরের বছর ও তাকে পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়। অবশেষে ১৯৩২ সালে নাঙ্গা পর্বতে অভিযানে যাবার অনুমতি পাওয়া গেল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওয়েলজেনবাক নিজে সেই অভিযানে অংশ নেয়ার জন্য ছুটি পেল না। কিন্তু সে প্রাণপনে চাইছিল অভিযানটি হোক। আর তাই তার বন্ধু উইলি মার্কেলের নেতৃত্বে অভিযাত্রী দলকে মিউনিখ থেকে বিদায় জানান। এই থেকে শুরু হল জার্মানীর নাঙ্গা পর্বত উপাখ্যান।

চার.

নাঙ্গা পর্বতে প্রথম জার্মান অভিযানটি সংঘটিত হয় ১৯৩২ সালে। উইলি মার্কেলের নেতৃত্বে অংশ নেওয়া আটজন অভিযাত্রীদের মধ্যে একজন আমেরিকানও ছিল। অভিযাত্রীদের সকলে দক্ষ পর্বতারোহী হলেও তাদের কারও হিমালয়ের  পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। সেই সাথে হিমালয়ে আট হাজার মিটারের চূড়ায় আরোহণের জন্য পরিকল্পনাও সঠিক ছিল না। বিশেষ করে তাদের অভিযানে পর্যাপ্ত কুলি নেওয়া হয়নি। পরিকল্পনার অভাব, অব্যবস্থাপনা ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে অভিযাত্রী দল রাখিয়ট চূঁড়ার উপরে অগ্রসর হতে পারে নি। সেবার নাঙ্গা পর্বতের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ৭০৭০ মিটার উচ্চতার রাখিয়ট চূড়ায় আরোহণ করেই অভিযানের সমাপ্তি টানতে হয়।

১৯৩৪ সালে উইলি মার্কেল নাঙ্গা পর্বতে আরেকটি অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এবছর আরও ভালভাবে পরিকল্পনা করা হয়। অভিযাত্রীরাও গতবারের তুলনায় ভালভাবে প্রস্তুতি নেন। পুরো অভিযানটি অর্থায়ন ও সংগঠিত করে হিটলারের নাৎসি সরকার। নাৎসি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, সীমাহীন চাপ ও জাত্যাভিমানে বলিয়ান হয়ে অভিযাত্রী দল আবারও স্বর্গীয় তৃনভূমিতে তাঁবু ফেলে। সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। দলের দুজন টাইরোলিয়ান পর্বতারোহী পিটার আসচেনব্রেনার ও আরভিন স্নাইডার ৭৯০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত চলে যান। কিন্তু তখনই শুরু হয় তুমুল তুষার ঝড়। আবহাওয়া এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে তারা নিচে নেমে আসতে বাধ্য হন। জুলাই ৭ তারিখে ৭৪০০ মিটার উচ্চতায় পর্বতারোহী ও দার্জিলিং থেকে সাহায্যের জন্য যাওয়া শেরপা সহ মোট ১০ জন তীব্র তুষার ঝড়ে আটকা পড়ে। তীব্র ঠান্ডা, ক্লান্তি, অল্টিটিউড সিকনেসের কারণে উলি ওয়েল্যান্ড, ওয়েলজেনবাক, মারকেল ও ৬ জন শেরপা সেদিন মারা যায়। এমন বিরূপ পরিস্থিতে শুধুমাত্র তুষার খেয়ে টিকে থেকে ৬ দিন পর ফেরত আসে একমাত্র জীবিত সদস্য শেরপা আং শেরিং। তার এই ফিরে আসা পর্বতারোহণ ইতিহাসে এক অন্যতম আশ্চর্য ঘটনা হিসেবে ধরা হয়।

তিন বছর পর ১৯৩৭ সালে মার্কেলের দেখানো পথে কার্ল ভেন’র নেতৃত্বে আরেকটি জার্মান অভিযান সংঘটিত হয়। তীব্র তুষারপাতের কারণে দলটি খুব ধীর অগ্রসর হচ্ছিল। জুলাই ১৪ তারিখে রাখিয়ট চূঁড়ার নিচে অভিযাত্রী দল ক্যাম্প-৪ স্থাপন করে। সাতজন জার্মান আরোহীর সাথে অভিযানে থাকা নয়জন শেরপা সেই সময় ক্যাম্পে অবস্থান করছিল। রাতের অন্ধকারে ক্লান্ত হয়ে সবাই যখন বিশ্রাম নিচ্ছিল হঠাৎ করে রাখিয়ট চূঁড়া থেকে নেমে আসা অ্যাভালঞ্জ ক্যাম্পের উপর আছড়ে পড়ল। তাঁবুতে ঘুমিয়ে থাকা ১৬ জন পর্বতারোহী চিরদিনের জন্য নাঙ্গা পর্বতের ঢালে মিলিয়ে যায়।

পরের বছর নাঙ্গা পর্বতের নেতৃত্ব দেন কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানের জন্য খ্যাত পর্বতারোহী পল বয়ার। অভিযানের শুরু থেকে খারাপ আবহাওয়ার জন্য সব পরিকল্পনা ওলটপাল্ট হয়ে যাছিল। পূর্বের দূর্ঘটনাগুলো পল বয়ারকে আরও বেশী সাবধানী করে তুলেছিল। অভিযাত্রীরা সিলভার স্যাডেলে পৌঁছানোর আগেই পল বয়ার সবাইকে নিচে নেমে আসতে বলেন। নাঙ্গা পর্বত আরোহপ্নের চাইতে জার্মানদের জীবন তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

১৯৩৯ সালে ৪ জনের ছোট একটি দল নাঙ্গা পর্বতের ডায়ামির ফেইস ধরে আরোহণের চেষ্টা করেন। অভিযাত্রীদের মধ্যে ছিল প্রখ্যাত পর্বতারোহী হেইনরিখ হ্যারার। তাদের লক্ষ্য ছিল নাঙ্গা পর্বত আরোহণের একটি সহজ পথ খুঁজে বের করা। রেকি অভিযান শেষ করে তারা যখন ফেরত আসছিল তখনই শুরু হয়তে গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। অভিযাত্রীরা সেই সময় ব্রিটিশ ভারতের দেহরাদুনে অবস্থান করছিলেন। জার্মান গুপ্তচর হিসেবে অভিযাত্রীদের গ্রেফতার করা হয়। জেল থেকে অতঃপর হ্যারারের পলায়ন ও তিব্বতে তার সাত বছরের অভিযান নিয়ে লিখা হয় বিখ্যাত বই সেভেন ইয়ার্স ইন টিবেট।

পাঁচ.

১৯৫০ সালে ফ্রেঞ্চরা অন্নপূর্ণা চূড়ায় আরোহণ করার পর থেকে অন্য রাষ্ট্রগুলো তাদের শৌর্য-বীর্য প্রমাণের জন্য উঠে পড়ে লাগল। ব্রিটিশরা এভারেস্ট, ইটালিয়ান রা কে-টু আর জার্মানরা নাঙ্গা পর্বতকে ঘিরে তাদের পরিকল্পনা আরও বেশি জোরদার করা শুরু করল। এই সময়ে পর্বতারোহণ গুটিকয়েক মানুষের আত্মিক চাহিদার বদলে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুব্ধ হওয়া শুরু করল। এই রকম আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে আরেক জার্মান নতুনভাবে নাঙ্গা পর্বতের স্বপ্ন পূরণে পর্বতারোহণের এই রঙ্গমঞ্চে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তার নাম ডা. কার্ল মারিয়া হারলিংকফার।

১৯৩৪ সালে হারলিংকফার ছিল ১৭ বছরের তরতাজা তরুণ। উইলি মারকেল ছিল তার সৎ ভাই। হারলিংকফারের কাছে মারকেল ছিল এক জলজ্যান্ত হিরো। সে খুব কাছ থেকে তার ভাইকে নাঙ্গা পর্বতের জন্য নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে দেখেছে। মারকেল মারা যাবার পর থেকে তার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল নাঙ্গা পর্বত। তার ভাইয়ের স্বপ্নের এই পর্বত আরোহণের জন্য হারলিংকফার উঠে পড়ে লাগল। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৩ সালে তার ভাই সহ ১৯৩৪ এর অভিযানে মারা যাওয়া সকল পর্বতারোহীর স্মৃতির উদ্দেশে নাঙ্গা পর্বতে আরেকটি অভিযান সংগঠিত করে ফেলতে সক্ষম হন কার্ল হারলিংকফার।

হারলিংকফারের নাঙ্গা পর্বত আরোহণহের সুতীব্র ইচ্ছা থাকলেও তিনি পর্বতারোহী ছিলেন না। কিন্তু তার সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল অসাধারণ। অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা তার কাছে অত্যন্ত সহজ ব্যাপার ছিল। তা স্বত্তেও অ্যাল্পাইন ক্লাবগুলো তাকে সহযোগিতা করেনি। সেই সময়ের সব দক্ষ পর্বতারোহী হিসেবে স্বীকৃত অনেকেই তার নেতৃত্বে কোন অভিযানে অংশ নিতে সরাসরি মানা করে দেয়। অনেক চেষ্টার পর অবশেষে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করতে সক্ষম হয় হারলিংকফার। দলে ছিল অ্যাসচেনব্রেনার, ফ্রেয়েনবার্গারের মত অভিজ্ঞ পর্বতারোহী। সেই সাথে টাইরোলের সেই সময়ের বিখ্যাত জুটি হেরমান বুল ও কুনো রেইনারকে দলে টেনে নেওয়া হয়। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে যাত্রা শুরু করে অভিযাত্রীরা।

সবকিছু ভালভাবেই চলছিল। মে মাসের শেষ নাগাদ অভিযাত্রীরা ফেইরি মিডোজের তাদের বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে ক্যাম্প-১ থেকে ক্যাম্প-৪ স্থাপন হয়ে যায়। উপরের ক্যাম্পগুলোতে রেশন ও যন্ত্রপাতি মজুদ করা শুরু হয়। জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। অবিরত তুষারপাত  ও তীব্র ঝড় বাতাসের কারণে অভিযাত্রীদের আরোহণ ব্যাহত হতে থাকে। জুনের ৩০ তারিখে দলের নেতা হারলিংকফার উপরের ক্যাম্পে থাকা অভিযাত্রীদের নিচে নেমে আসার নির্দেশ দেন। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আঁটকে থাকা জার্মান ও টাইরোলিয়ান আরোহীদের এখানেই অভিযান শেষ করার কোন রকম ইচ্ছাই ছিল না। তারা জোড়ালোভাবে তাদের নেতার নির্দেশ উপেক্ষা করে বসে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় নিচে নেমে যাবার কোন ইচ্ছাই নেই তাদের।

অভিযাত্রীদের এহেন দৃঢ়তা দেখেই বুঝি প্রকৃতি মাতা পহেলা জুলাই একটু সদয় হয়ে উঠে। আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়, বাতাস থেমে যায়। এই সুযোগে জুলাইয়ের ২ তারিখ ৬৯০০ মিটার উচ্চতায় সিলভার স্যাডেলে পৌঁছানোর আগের কল’এ বুল ও কেম্পটার তাদের ক্যাম্প-৫ স্থাপন করে। আর্ল ও ফ্রয়েনবার্গার ক্যাম্প-৪ এ নেমে যায়। বুলের পরিকল্পনা ছিল খুব দ্রুত যদি তারা সিলভার স্যাডেলে (৭৪৫০ মিটার) পৌঁছাতে পারে তাহলে এর উপরের মালভূমি থেকে নাঙ্গা পর্বতের সাবসিডিয়ারি চূড়া কমপক্ষে আরোহণ করা সম্ভব হবে। আল্পসে বেশ অনেকগুলো আরোহণে সে রিজ থেকে রিজ লাইন ট্রাভার্স করে গেছে। এর জন্য যেই পরিমাণ সাহস ও শক্তি প্রয়োজন তার সবই বুলের আছে। এবার হিমালয়ে তার শক্তি ও সামর্থ প্রমাণের জন্য বুল তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার জন্য প্রস্তুত ছিল।

জুলাই ৩, রাত ২ টা। হেরমান বুল তার তাঁবু থেকে বাইরে বেড়িয়ে এল। তার অপর সঙ্গী কেম্পটার তখনও স্লিপিং ব্যাগ থেকে বের হতে পারছিল না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নাঙ্গা পর্বতের গাঢ় অন্ধকারকে লক্ষ্য করে বুল একাই হাঁটা শুরু করল। বুল রওনা হয়ে যাবার ঘন্টা খানেক পর কেম্পটার বেড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়া খুবই চমৎকার ছিল। পায়ের নিচের তুষার তখন বেশ ভালভাবে জমাট বেঁধে ছিল। পরিষ্কার আকাশে কোন মেঘ ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই চাঁদ আকাশে উঠে এল। সমস্ত পাহাড় সাড়ি উজ্জ্বল আলোতে ছেয়ে গেল। ভোর ৫টায় বুল সিলভার স্যাডেলে পৌঁছে গেল। তিন কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতেই বুল ক্লান্ত হয়ে পড়ল।

প্ল্যাটুর শেষে বুল একটু জিরিয়ে নিল। এক কাপ চা খেয়ে তার পিঠের ব্যাকপ্যাকটি খুলে রেখে দিলেন। সূর্যের তাপ বাড়ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অসহ্য গরমবোধ হবে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে এক ফোটা বাতাস আজ বইছে না। মনে হচ্ছে সব কিছু নিথর হয়ে পড়েছে। ব্যাকপ্যাক ফেলে দেয়ার পর বুল আবার দ্রুত আরোহণ করতে লাগল। বুলের গতির সাথে কেম্পটার কিছুতেই পাল্লা দিয়ে তাকে ধরতে পারল না। প্ল্যাটুর কাছে পৌঁছে কেম্পটার আর সামনে না আগানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং নিচে নামতে থাকে।

দুপুর দুটায় বুল ৭৮০০ মিটার উচ্চতায় চূড়ায় পৌঁছানোর রিজলাইনের সাথে সংযক্ত কল’র কাছে পৌঁছে যায়। তার সামনে এখন ৩০০ মিটারের সবচেয়ে বড় বাঁধা দাঁড়িয়ে ছিল। রক ফেইসটি দেখে বুল কিছুতেই আত্মবিশ্বাসী হতে পারছিল না। একা একা এমন একটি ফেইস তার ক্লাইম্ব করা উচিত কি উচিত না এই নিয়ে চরম দ্বিধা-দ্বন্দে ভুগতে লাগল। শেষ পর্যন্ত নাঙ্গা পর্বতের আকর্ষণ জিতে গেল আর বুল রক ক্লাইম্ব করা শুরু করলেন। বুল যতটা কঠিন ভেবেছিল রক ফেইসটি তার চাইতেও কঠিন ছিল। ৩০০ মিটার ক্লাইম্ব করতে তার লেগে যায় পুরো ৪ ঘন্টা। প্রায় ৬ টার দিকে বুল নাঙ্গা পর্বতের সোল্ডারে পৌঁছায়। আরও এক ঘন্টা লম্বা রিজলাইন ধরে আরোহণের পর সন্ধ্যা ৭টায় হেরমান বুল প্রথমবারের মত নাঙ্গা পর্বতের চূঁড়ায় পা রাখতে সক্ষম হল। নিস্তব্ধ, বাতাসহীন এই হিমরাজ্যে একাকী দাঁড়িয়ে নাঙ্গা পর্বতের উপাখ্যান শেষ করল টাইরোলিয়ান পর্বতারোহী হেরমান বুল।

ছয়.

হেরমান বুল যখন নাঙ্গা পর্বতের চূঁড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন কেম্পটার নিচের ক্যাম্পে এসে বুলের একাকী অভিযাত্রার কথা জানায়। নিচের প্রতিটি ক্যাম্প থেকে তখন সবাই ব্যাগ্র হয়ে সিলভার স্যাডেলের দিকে তাকিয়ে থাকে যদি বুলকে দেখা যায়। কিন্তু তুষার রাজ্যে কোন কালো বিন্দু আর দেখা যায়নি। ফ্রয়েনবার্গার ক্যাম্প-৫ এ উঠে আসে আর কেম্পটারের সাথে সেই রাত কাটায়। কেউই সেরাতে ঘুমাতে পারেনি। সে রাতে সবাই বুলের জন্য প্রার্থনা করছিল আর তার ফিরে আসার অপেক্ষা করছিল।

চূড়ায় পৌঁছানোর পরপরই সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ল। সাথে থাকা সর্বশেষ চা টুকু এক চুমুকে খেয়ে নিয়ে হাতের আইস এক্সটি চূড়ায় গেঁথে দিলেন বুল। সেখানে টাইরোলের পতাকা লাগিয়ে একটি ছবি তুললেন। এরপর সেই পতাকা খুলে পাকিস্থানের পতাকা লাগিয়ে দিল। কয়েকটি ছবি তুলে আইস এক্স ও পাকিস্থানের পতাকা চূড়ার উপর রেখে বুল যখন নিচে নামা শুরু করল তখন ধরনীতে রাতের আঁধার নেমে এসেছে। চূড়া থেকে নেমে সোল্ডারের কিছুটা নিচে বায়োভ্যাক করতে হল। প্ল্যাটুতে ব্যাকপ্যাক ফেলে আসায় কোন ধরনের গরম জামা, স্লিপিং ব্যাগ ও অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়া ৮০০০ মিটারের উপরে ডেথ জোনে রাত কাটাতে বাধ্য হলেন তিনি।

প্রকৃতি সেরাতেও তার প্রতি সদয় ছিল। ছোট একটি পাথরের উপর রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত একইভাবে সে বসে রইল। সারাদিনের মত রাতেও কোনরকম বাতাস বইছিল না। গরম জামা না থাকা স্বত্তেও বুলের তেমন ঠান্ডা লাগছিল না। শুধু সে টের পাচ্ছিল ধীরে ধীরে তার পায়ের আঙ্গুলগুলো কেমন অসাড় হয়ে যাচ্ছে। সারারত ধরে বুলের ভ্রম হতে লাগল। এক দুঃস্বপ্নের মত রাতটি একসময় শেষ হল। ভোর ৪টায় পুবের আকাশ হালকা ফ্যাকাশে হয়ে উঠতেই বুল শরীরের সকল জড়তা কাটিয়ে নিচে নামা শুরু করল। শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে কোন আইস এক্স ছাড়াই সে এক সময় সিলভার স্যাডেলে এসে পৌঁছাল। এই পর্যন্ত এসে তার শরীরের সব শক্তি নিশেষ হয়ে যায়। তার সাথে থাকা পারভিটিনের শেষ ডোজ টা সে নিয়ে নেয়। শরীর একটু চাঙ্গা হয়ে উঠতেই সে প্ল্যাটুতে তার ফেলে যাওয়া ব্যাকপ্যাকের কাছে এসে পৌঁছায়। কিন্তু তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে সে কিছুই মুখে তুলতে পারছিল না। দুপুরের তীব্র তাপদাহে তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু পানি মুখে দিলে পেট গুলিয়ে সব বেড়িয়ে যাচ্ছিল। পায়ের নিচের ঠান্ডা তুষার ঠিকরে আসা তাপ, ভয়ানক ক্লান্তি মিলিয়ে বুলের সবকিছুই ভ্রম মনে হচ্ছিল। হাচড়ে পাচড়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় হেরমান বুল সিলভার স্যাডেলে এসে পৌঁছাল।

তাঁবু থেকে বেড়িয়ে চূড়ার দিকে রওনা হবার ৪১ ঘন্টা পর হেরমান বুল ক্যাম্পে ফিরে এল। ক্যাম্পের কাছে এসে বুল কোন কথা বলতে পারছিল না। তার দুই পায়ে বাজেভাবে ফ্রস্ট বাইট হয়েছিল। পারভিটিনের জন্য তার মেজাজ ও খিটখিটে হয়ে গিয়েছিল। সে যখন বেইজ ক্যাম্পে এসে পৌঁছালো বাকি অভিযাত্রীদের ম্লান আচরণে বুলকে বেশ অবাক করেছিল। তার মনে হয়েছিল সে জার্মান না বলে সবাই তেমন খুশি হতে পারছে না।

নাঙ্গা পর্বত থেকে ফিরে পুরো অভিযানটি বিতর্কে জড়িয়ে যায়। অভিযানের একেক সদস্য অভিযান নিয়ে সংবাদপত্রে একেক রকম খবর দেওয়া শুরু করল। দলের নেতার দক্ষতা নিয়ে বেশীরভাগ আরোহী প্রশ্ন তুলল। হেরমান বুল তার নাঙ্গা পর্বত অভিযানের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখল নাঙ্গা পর্বত পিলগ্রিমেজ নামে পর্বতারোহণ ক্লাসিক।

অনেকেই বলে হেরমান বুল অনেক ভাগ্যবান ছিলেন, তাই পায়ের কয়েকটি আঙ্গুলের বিনিময়ে নাঙ্গা পর্বত থেকে জীবত ফিরতে পেরেছিল। কিন্তু বুলের বইটি পড়লে জানা যায় কোন কিছু তোয়াক্কা না করে ক্লাইম্ব করে যাওয়াই ছিল হেরমান বুলের পর্বতারোহণের দর্শণ। তার ধ্যান জ্ঞান কেবলই পর্বতারোহণ ছিল আর আরোহণ করার সময় অন্য কোন কিছুই তার মনসংযোগকে নষ্ট করতে পারত না। সে চরমতম ঝুঁকি নিতে দ্বিতীয়বার ভাবত না। হিমালয়ের বিশাল পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে অ্যাল্পাইন স্টাইলের পথিকৃত হিসেবে হেরমান বুলের এই মহাকাব্যিক আরোহণ চিরদিন প্রেরণাদায়ী হয়ে থাকবে।


উপজীব্য

[১] Adobe of snow by Keneth Meson
[২] Nanga Parbat pilgrimage by Hermann Buhl
[৩] Nanga Parbat: Official Report by Karl M. Herrlingkoffer
[৪] Alpine Journal


(Visited 1 times, 1 visits today)
সালেহীন আরশাদী
সালেহীন আরশাদী
সারাদিন শুয়ে শুয়ে বই পড়া তার শখ। পাহাড়ে যাওয়াটাকে জীবন দর্শন মনে করেন। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা পাহাড়ের ঔষধশাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করা তার স্বপ্ন।

৯ thoughts on “নাঙ্গা পর্বত

  1. বরাবরের মতই অসাধারণ লেখা! শেষের দিকে সিনেমার মত যেন দেখতে পাচ্ছিলাম বুল এক পা এক পা করে এগিয়ে চলেছে। আরও লেখা চাই ভাই!

  2. অসাধারণ লেখা। হেরমান বুল নিশ্চিত সুপারম্যান ছিলেন। কিন্তু এড ভিশ্চার্স এর টু ওয়ে জার্নি নীতিটাই বেশি ভাল লাগে কেন জানি।

    1. আমার মতে পর্বতারোহণকে ডেফিনিট কোন স্ট্রাকচারে বেঁধে ফেলা খুব অন্যায়। একেক জনের দর্শন, একেক জনের স্টাইল ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। ভাল বা খারাপ বলতে এখানে আসলে কিছু নেই।

      1. বিষয়টা আসলে ব্যক্তিগত ভাল লাগার। পর্বতারোহণের কোন স্টাইলকে ভাল বা খারাপ বলার যোগ্য মনে করি না নিজেকে :)।

  3. অস্থির একটা লেখা পড়লাম ভাই,
    আমারতো এখনই যেতে মন চাইছে বাট
    এতো বিপদজ্জনক এতো মানুষ মারা গেস,
    আবার ভয়ও লাগতেছে।

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)