চিয়াসটপই


ছবি [সন্দীপ রায়]

সকালে ঘুম ভাঙ্গল সন্দীপের ডাকে। গতকাল রাস্তা ভুল করে আমরা দুজন এই পাড়াতে চলে এসেছি। কিন্তু তাতে ভালই হয়েছে, কারণ কাল থেকে পাড়ার মানুষের আতিথেয়তায় আমি মুদ্ধ। রাতে কারবারি দাদা মুরগি দিয়েছিল খাবার জন্য। অনেকদিন পর যেন কাল পেট ভরে খেলাম। রাতে এক দাদার সাথে পরিচয় হয়েছিল যিনি আজ আমাদের গন্তব্যের পাড়াতে যাবেন। তাকে বলে রেখেছিলাম কাল যেন যাওয়ার সময় আমাদের দুজনকেও নিয়ে যায়। ভোরে ঘুম থেকে উঠে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিলাম। সকাল সকাল আজ বের হয়ে যেতে হবে।

হাত মুখ ধুয়ে বাইরে থেকে ঘরে ঢোকার সময় শুনতে পারছিলাম সন্দীপ কার সাথে যেন কথা বলছে। ভিতরে ঢুকে দেখি সাদা গেঞ্জি আর লুঙ্গি পড়া একজন মধ্য বয়স্ক পাহাড়ি লোক সন্দীপকে কি কি যেন জিজ্ঞাসা করছে। কিন্তু ওনাকে কাল একবারও দেখিনি, মনে হয় বাইরে থেকে এসেছেন। অবাক করা ব্যাপার হল এই পাড়াতে কেউই ভাল বাংলা বলতে পারেন না, কিন্তু ইনি অনর্গল বাংলা বলে যাচ্ছে। আমি ঢোকার পর উনি জিজ্ঞাসা করলেন আমার বাড়ি কোথায়, কেন এখানে এসেছি, কোথায় যাব ইত্যাদি ইত্যাদি। এক পর্যায়ে জানতে পারলাম উনি পাহাড়ে কোন এক প্রজেক্টে কাজ করেন এবং সেই কাজেই আজ সকালে এই পাড়াতে এসেছেন। আমাদের গন্তব্যের নাম শুনে বললেন আজ নাকি ঐ পাড়ায় মেলা মানে উৎসব হবে।

উৎসবের কথা শুনে দুজনই আমরা নড়েচড়ে বসলাম। যেকোন উৎসবই আমার খুব ভাল লাগে। আর এটা তো পাহাড়ের এক জাতিগোষ্ঠীর উৎসব। এমন একটি দূর্লভ সুযোগ সবসময় পাওয়াও যায় না। তার কাছে তাই জানতে চাইলাম এই উৎসব সম্পর্কে- কেন হয়, কি করা হয়, কারা করে ইত্যাদি। উনি বললেন, কিছুদিন ধরেই কিছু প্রেতাত্মা ওই পাড়ার ক্ষতি করছে, তাই তারা আজ একটা গরু বলি দিবে সেই আত্মাকে তাড়ানোর জন্য। পাড়ার পাশের জঙ্গলেই নাকি সেই আত্মাগুলো বসবাস করে। তার কথা শোনার পর আর সময় নষ্ট না করে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তক্ষনাৎ রওনা দিয়ে দিলাম সেই পাড়ার উদ্দেশে। মনে মনে একটু উত্তেজনা টের পাচ্ছিলাম, প্রথমবারের মত ভুত তাড়ানোর অভিযানে যোগ দিতে যাচ্ছি।

আমি, সন্দীপ আর রাতে পরিচয় হওয়া সেই দাদা খাল ধরে হাঁটা শুরু করলাম। আজকে হাঁটতে আমার আর সন্দীপের বেশ কষ্ট হচ্ছে। দুজনের পায়ের কয়েক জায়গায় ছিলে গেছে। আজকের গন্তব্য খুব দূরে নয়, একদম কাছে। খুব বেশি হলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগবে। কিন্তু অল্প এই পথটুকুই অসম্ভব সুন্দর।

রোদ উঠে গিয়েছে পুরো দমে, কিন্তু গায়ে এক ফোঁটা রোদ লাগছে না। কারণ খালের দুই পাশে বিশাল সব গাছ রয়েছে আর গাছগুলো এতটাই ঘন সন্নিবেশিত হয়ে আছে যে ডালপালা ও পাতার জাল ভেদ করে রোদের আলো মাটিতে পড়ে না। রোদ পায় না বলে অসম্ভব ঠাণ্ডা সেই খাল। সবসময় গা শিরশির করা ঠাণ্ডা একটা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। আর টিয়া পাখির কথা আর কি বলব। টিয়েদের অভয়াশ্রম মনে হয় এটা। পুরোটা পথে শুধু এদেরই ডাক শুনতে পেলাম। ২০ মিনিট পর খালের এমন এক জায়গায় এসে পড়লাম যেখানে দুই পাশের পাহাড় একদম খাড়া হয়ে কাছে চলে এসেছে। গিরিখাদের মত জায়গাটা একেবারে অন্ধকার হয়ে আছে। চারিদিকে কেমন জানি একটা ভুতুড়ে ব্যাপার আছে। মানুষের চলাফেরা কম বলেই সব পাথরগুলো শ্যাওলা জমে সবুজ হয়ে আছে। কেন যেন মনে হচ্ছে অশুভ কোন কিছু সামনে ওঁত পেতে রয়েছে আর হুট করেই সামনে চলে আসবে। জানিনা মাত্র প্রেত আত্মার গল্প শুনেছি বলেই এমন লাগছে কি না!

গা ছমছমে সেই অন্ধকার জায়গাটা পেরিয়ে এসেই দূরে পাড়ার প্রথম দর্শন পেলাম। আধ ঘন্টার মত হাঁটার পর পাড়ার সামনে চলে এলাম। খুব ছোট্ট একটা পাড়া কিন্তু খুব সুন্দর। এখানে এসে খালটির দুইপাশে উপত্যকার মত তৈরি হয়েছে। আশেপাশে বড় কোন পাহাড় নেই। খালের পাশে একটা ছোট্ট টিলার উপর পাড়াটির অবস্থান। তার পিছনে বিশাল পাহাড় সারিবদ্ধ হয়ে উপরে উঠে গেছে। পাড়ায় অনেক বড় বড় গর্জন ও কড়ই গাছ দেখলাম। চারপাশ অনেক খোলামেলা বলে পাড়া থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। রোদের আলো পড়ে চকচক করা খালটি পাড়ার পাশ দিয়ে সাপের মত এঁকেবেঁকে দক্ষিণে চলে গেছে।

এটি একটি মুরং পাড়া। মাত্র ১২ টি পরিবার থাকে এখানে। যাবার পর জানতে পারলাম কারবারি দাদা ঘরে নেই, উপজেলা শহরে গিয়েছেন। তাই উনার ছোট ভাই আমাদের তার ঘরে মেহমান করে নিলেন। ঘরে ঢোকার পর দাদা বললেন, আজ মেলা হবে, ব্যাগ ট্যাগ রেখে যেন তৈরি হয়ে নেই। গোসলের পর সবাই আমরা খাওয়া-দাওয়া করব। কিছুক্ষণ পরই আমরা সবাই মিলে খাল থেকে গোসল করে আসলাম। উনি গোসল করতে যাচ্ছিল তাই, নাকি মেলার জন্য গোসল করা নিয়ম তা অবশ্য জানতে পারলাম না।এরপর সবাই মিলে ঝাল মরিচ ভর্তা আর কচু দিয়ে পেট ভরে ভাত খেলাম। দাদা বললেন, আজ যেন আর কোথাও না যাই। একটু পরেই উৎসব শুরু হবে। আজকে সবার সাথে উৎসব করে পেট ভরে গরু খেয়ে পরদিন যাবার জন্য। এতে আমাদের কোনই আপত্তি নেই, খুশি খুশি মনে রাজি হয়ে গেলাম।

খাবার দাবার শেষ করে আমি আর সন্দীপ শুয়ে আরাম করছি আর অধীর হয়ে অপেক্ষা করছি কখন উৎসব শুরু হবে। কিন্তু উৎসব শুরু হবার কোন নাম গন্ধই নেই। পুরো পাড়ার সবাই যে যার মত কাজে ব্যস্ত। ৩ ঘণ্টা আগে দাদা বলেছিল একটু পরে উৎসব শুরু হবে। কিন্তু এখনো এমন কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যদিও খাতায় কলমে শীতকাল চলছে কিন্তু বাইরের খা খা রোদ দেখে তা বুঝার কোন উপায় নেই। তাই ঘরে শুয়ে শুয়ে আরাম করছিলাম আর সন্দীপ বাইরে গিয়ে তার এলোমেলো ফটো আর ভিডিওগ্রাফির প্রতিভা প্রদর্শন করছিলো। কেন জানি তখন আলসেমী করে শুয়ে থাকতে খুব ভাল লাগছিল। ঘরে এক চিলতে ছোট জানালাটা দিয়ে আকাশের একটা অংশ দেখা যাচ্ছিল, আর ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে গায়ে সূর্যে আলো্র রেখা এসে পড়ছিলো। আকাশটাও কেন যেন ছিল অসাধারণ নীল। এভাবে এলোমেলো চিন্তা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেও জানিনা। ঘুম ভাঙল একবারে বিকালে।

ঘুম থেকে উঠে তাড়াতাড়ি বাইরে বের হলাম। হতাশ হয়ে দেখলাম কিছুই নেই। না মানুষ, না কোন উৎসব। কি ঝামেলা! উৎসব শুরু হয় না কেন? বাইরে গেলাম দেখার জন্য কি অবস্থা। পাড়ার নিচে কিছু মানুষ বাঁশ চেঁছে চুলের মত করে কি যেন বানাচ্ছে। গোলাকার বাঁশের উপর বাঁশের আঁশ চেঁছে চুলের গোছার মত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দূর থেকে বাঁশ দিয়ে বানানো এই ঝালরগুলো চমৎকার লাগছিল। এক বাঁশ দিয়েই যে তারা কত রকমের শিল্পকর্ম করতে পারে। জিজ্ঞেস করে জানলাম এই ঝালরগুলো উৎসবের জন্যেই তৈরি করা হচ্ছে। গরুকে যেখানে বেঁধে রাখা হবে তার চারপাশে এই ঝালর লাগানো বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হবে।

এমন সময় দেখলাম একদল লোক একটা বাচ্চা গরুর ৪ পা বাঁশের সাথে উল্টো করে বেঁধে পাড়ার উপরে নিয়ে যাচ্ছে। আমিও তাদের অনুসরণ করতে থাকলাম। একটা ফাঁকা মত জায়গায় তারা গরুটিকে নামিয়ে রাখল আর গরুকে ঘিরে বৃত্তাকারে লম্বা করে বাঁশ গাড়তে লাগল যেন গরুটাকে বাঁশের বৃত্তাকার ঘেরাওয়ের ভিতরে আটকে রাখা যায়। বৃত্তটা অর্ধেক সম্পূর্ণ হবার পর তারা গরুটাকে সেই অর্ধেক তৈরি ঘেরাওয়ের ভিতরে ঢুকিয়ে দিল এবং বাঁশ গেড়ে বৃত্ত সম্পূর্ণ করল।

বাঁশ দিয়ে গরুটাকে পুরোপুরি ঘিরে ফেলার পর বাঁশের চিকন চিকন কঞ্চি দিয়ে সব বাঁশ একত্রে বেঁধে দেওয়া হল যেন কোন ভাবেই গরুটা আর বের হতে না পারে। তারপর তারা সেই ঝালর ওয়ালা ২টা বাঁশ সেই বৃত্তের ভিতরে গেঁড়ে দিল। একটা গরুর মুখের সামনে আরেকটা লেজের পিছনে। তারপর আরেকটু সামনে ফাঁকা জায়গাতে, যেদিকে গরু মুখ করে আছে, আরো দুটো ঝালরওয়ালা বাঁশ পাশাপাশি গাড়ল এবং একটি বাঁশ ঐ দুটি ঝালরওয়ালা বাঁশের মাঝখান দিয়ে বেঁধে দিল। সেইপটা দেখতে অনেকটা ইংরেজি অক্ষরের এইচের (H) মত দেখাচ্ছিল। সব শেষে সেই মাঝখানের বাঁশের সাথে দড়ি দিয়ে একটি গোলাকার লোহার ঘণ্টা ঝুলিয়ে দেওয়া হল এবং তার নিচে একটি মাটির হাড়ি রাখা হল।

এখন রাত হয়ে গেছে। নটা দশটার মত বাজে মনে হয়। মেলা এখনও শুরুই হয়নি। তাই আমি আর সন্দীপ তখন কারবারী দাদার ঘরে পাড়ার মানুষগুলোর সাথে আড্ডায় ব্যস্ত। তাদের কাছ থেকে পরবর্তী দিনের গন্তব্যের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি আর বসে বসে পুড়ানো পাহাড়ি আলু খাচ্ছি। ভালই লাগছিল এভাবে আড্ডা দিতে। দাদাদের জিজ্ঞাসা করলাম তাদের এই উৎসব সম্পর্কে। ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় অনেক কিছুই বলল তারা। নানান কারণে এ উৎসব হতে পারে। তবে আজকে হচ্ছে জঙ্গলের শয়তান আত্মাকে তাড়ানোর জন্য। আর এই মেলাকে তারা বলে চিয়াসটপই, মানে গরু মারার মেলা। কারণ এ মেলার শেষে তারা একটি গরুকে বলি দিবে এবং সেই গরুটিই মেলার মূল আকর্ষণ। তাকে ঘিরেই যত প্রকার আনুষ্ঠিকতা পালন করা হবে।

এভাবে আড্ডা দিতে দিতে দেখলাম একদল লোক ঘরে বেশ কিছু বাঁশের তৈরি বাদ্য যন্ত্র নিয়ে হাজির হল। তারা সেগুলো এ ঘরে নিয়ে আসার কারণ তারা এগুলো এখন টিউন করবে বাজাবে। বাদ্যযন্ত্রগুলো দেখতে বেশ অন্যরকম। বাঁশ ও পাহাড়ি লাউ দিয়ে তৈরি এই বাঁশিগুলোকে মুরং ভাষায় বলে প্লুং। কোনটি দেখতে লম্বা আবার কোনটি দেখতে ছোট আবার কোনটি মোটা আবার কোনটিবা চিকন। এরকম বিভিন্ন আকারের কারণেই বোধ হয় এদের সুর আলাদা হয়। এ ধরণের বাদ্যযন্ত্র মুরং ছাড়া আর মনে হয় কেউ ব্যবহার করে না।

যন্ত্রগুলো টিউন করা হয়ে যাওয়ার পর তারা সবাই গোল হয়ে বসল। উৎসবে যারা এগুলো বাজাবে তাদের সবাইকে পালাক্রমে একজন পাহাড়ি পানীয় খাইয়ে দিতে লাগল। তারা পানীয় খেতে লাগল যতক্ষণ তারা মাতাল না হয়ে যায়। খাওয়া দাওয়া শেষ করে তারা সবাই অনুশীলনের জন্য প্রস্তুত হতে লাগল। কারবারির ঘরেই অনুশীলন হবে। যে যার বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সবাই গোল হয়ে উঠে দাঁড়ালো এবং তা বাজিয়ে তাল ঠিক করা শুরু করল। তাদের মধ্যে একজন কিছু করছিল না, তার কাজ ছিল কার কি ভুল হচ্ছে তা খুঁজে বের করে ঠিক করে দেওয়া। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ অনুশীলন করার পর সবাই মিলে বাইরে চলে আসল। ঘরের এক কোনায় বসে তাদের অসাধারণ প্রস্তুতি দেখেই আমরা দুজন মুগ্ধ হয়ে গেলাম।

সকাল থেকে যেই মেলা শুরু হবে হবে শুনছি তা শেষ পর্যন্ত রাত ১১ টায় শুরু হল! গরু যেখানে আটকানো রয়েছে তার পাশে দুই জায়গায় দুটো বড় আগুন ধরানো হয়েছে।এই আগুন ধরানোর দুটি কারণ। এক, যেন সব কিছু দেখা যায় আর দুই, যেন গা গরম থাকে। দিনে বোঝা না গেলে কি হবে, রাতে এখানে অসম্ভব রকমের ঠান্ডা। যারা নাচছে না বা বাজাচ্ছে না তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আগুন পোহাচ্ছে। ছেলেরা একটি আগুনের সামনে আর মেয়েরা আরেকটি আগুনের সামনে।

উৎসব শুরু করার আগে সবাই সেই ঝোলানো ঘণ্টার নিচে রাখা সেই হাড়ি থেকে পাইপ দিয়ে একপ্রকার পানীয় পান করতে লাগল। হাড়িটি পুরাটা সেই পানিতে ভর্তি করা আর একটি পাতা দিয়ে সেই হাড়ির মুখ বন্ধ করা। একজন পাইপ দিয়ে বসে সেই পানীয় পান করতে থাকে আর একজন অন্য একটি পাত্র থেকে সেই পানীয় হাড়িতে ঢালতে থাকে। যেন হাড়ি খালি না হয়ে যায়। তারপর সকলের পান করা হয়ে গেলে ঘণ্টায় বাড়ি মেরে শুরু হল ভুত তাড়ানোর উৎসব।

ছেলেরা সবাই তাদের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে বাজাতে আর মেয়েরা নাঁচতে নাঁচতে গরুর চারপাশে ঘুরতে থাকে। এই কাজটিই তারা সারারাত ধরে করল। এই প্রক্রিয়াতে অংশ নিয়েছিল শুধু ৩ জন মেয়ে আর অনেকজন ছেলে। মেয়ে ৩ জন হল কারবারীর স্ত্রী ও তার ছোট দুই ভাইয়ের স্ত্রী। একমাত্র তারা তিন জনই নাচ্ছিল আর বাকি সবাই প্লুং বাজাচ্ছিল। ছন্দ আর তালের সাথে নাচতে নাচতে মেয়েরা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে পিছাতে থাকে আর ছেলেরা মেয়েদের দিকে তাকিয়ে আগাতে থাকে। আর নাচ শুরু হয় যেমন ঘণ্টা বাজিয়ে তেমনি শেষও হয় ঘণ্টা বাজিয়ে। এভাবেই চলতে থাকে সারা রাত। মাঝখানে মাঝখানে তারা অবশ্য কিছুক্ষণের বিরতি নেওয়া হয়। সেই হাড়ি থেকে পানীয় পান করে পরে আবার ঘণ্টা বাজিয়ে নাচ শুরু হয়।

প্লুং বাঁশির তীক্ষ্ণ করুণ সুরের মূর্ছনা থেকে এক সময়ে আমি চুপচাপ উঠে পড়লাম। সেদিন ছিল আমাবস্যার রাত, কিছুই দেখা যায় না চারপাশে। খালের পাড়ে বাঁশ দিয়ে তৈরি এক মাঁচার উপর শুয়ে কাটিয়ে দিলাম অনেকটা সময়। আমাবস্যার রাত বলে কোন চাঁদ ছিল না আকাশে, তাই তারাদের মেলা বসেছিল যেন। তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে হচ্ছিল আকাশ যেন নিচে নেমে আসছে। এতো তারা একসাথে এর আগে কখনোই দেখিনি আমি। কিছুক্ষণের মধ্যেই গরুর বাচ্চাটিকে বল্লম দিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলা হবে। কচি বাছুরের মাংস দিয়ে শুরু হবে ভোজ। এটুকু আমার না দেখলেও চলবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। আবারও বেড়িয়ে পড়তে হবে গন্তব্যের পানে।


(Visited 1 times, 1 visits today)
শামীম-আল -মেহেদী
শামীম-আল -মেহেদী
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে লেখাপড়া করছেন। পৃথিবীর সাত মহাদেশ ঘুরে দেখা ও পর্বতারোহণের স্বপ্ন দেখেন তিনি।

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)