ট্রেক প্রতিবেদন: গাড়োয়াল হিমালয়ের সান্নিধ্যে


ধুক ধুক করছে বুকটা, উপরের দিকে তাকালেই রন্টি স্যাডেলকে দেখা যাচ্ছে, দুই দিক থেকে ত্রিশূল আর নন্দাঘুন্টির দুইটা রিজ এসে মিলেছে যে জায়গা টায় সেটাই রন্টি স্যাডেল নামে পরিচিত। ১৭০০০ ফিট উঁচু এই স্যাডেল যুগ যুগ ধরে মানুষকে আকর্ষণ করে চলেছে নিজের মায়াবি উচ্চতায়। চোখের সীমানায় চলে এসেছে জায়গাটা সেই পরম আকাঙ্খিত জায়গা, তাকালেই মনে হচ্ছে একেবারে চোখের সামনে। কিন্তু আমি জানি এই জায়গাটা পার হতেই আমার সবচেয়ে বেশি শক্তি লাগবে, কারণ প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে বরফের মাঝে ট্রেকিং করে আমি খুবই ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। নিজের অজান্তেই বুক থেকে একটা হাহাকার বের হয়ে আসছে, মনে হচ্ছে আর মনে হয় পারব না।

পুরো ২৫০০ ফিটের বরফের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে যেতে হবে যেই লক্ষ্যে তার থেকে মাত্র ২০০ ফিট দূরে। না চাইলেও একটা চাপা গোঙানি বের হয়ে আসল মুখ দিয়ে। কুশল পেছন ফিরে তাকাল আমার দিকে। সে যে খুব অবাক হয়েছে বলাই বাহুল্য। এই পাঁচ দিনের প্রতিটা মুহূর্তে সে আমাকে শক্তি, সামর্থ্য আর আত্মবিশ্বাসের সর্বোচ্চ সীমারেখায় পেয়েছে। প্রতিটা মুহূর্তে  তাকে আমি অবাক করে দিতে পেরেছি। কিন্তু এইবার মনে হয় সে আরেকবার অবাক হয়ে গেল। হল কি এই ছেলেটার? পাঁচ দিনের মাঝে যাকে কখনো হতাশ হতে দেখেনি, অথচ কি হয়নি এর মাঝে? বৃষ্টি, ঝড়, তুষারপাত, মেঘের আনাগোনা, খারাপ আবহাওয়ায় কখনো যাকে পিছিয়ে আসতে দেখিনি, এখন মাত্র ২০০ ফিট দূরে তার কি হল?

৫ ঘন্টা পূর্বে

আগের রাতেই ঠিক হয়েছিল রন্টি স্যাডেলের জন্য বের হব ভোর ৫ টায়। ডোডাংয়ের আবহাওয়া প্রথম থেকেই ভাল ছিল না, বৃষ্টির মাঝে ঢুকেছি এই ক্যাম্প সাইটে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, থেমে থেমে বৃষ্টি, মাঝে মাঝেই দূরের ত্রিশূল আর নন্দাঘুন্টি থেকে ভেসে আসা তুষারধ্বসের বিকট আওয়াজ স্নায়ুর উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছিল। রাতে মোটামুটি ঘুম হল। আগের পরামর্শ মোতাবেক সকালে নুডুলস রান্না করা হয়েছে। ঘুম থেকে উঠেই বেড-টি, এরপর নুডুলস খেয়ে প্রস্তুত হয়ে নিলাম। রাজু বরাবরের মতই চুপ চাপ। রাতে ভাল ঘুম হয়নি মনে হয়। বড় ব্যাগ থেকে বেছে বেছে গিয়ার নিয়ে ছোট ব্যাগখানা সাঁজালাম, খেজুর, পানি, মোবাইল, ক্যামেরা, পঞ্চো নিলাম প্রথমেই।



একটু আগে আগেই চলা শুরু করে দিলাম। সকাল বেলায় আবহাওয়া বেশ ভাল। কিন্তু প্রথম চড়াইটা পার হতেই অবাক হতে হল। কারণ হেমকুন্ডের দিকে নেমে যাওয়া পুরা রিজটা বরফের কুচো দিয়ে ভর্তি। এইগুলা শেষ রাতে পড়া বরফ। এখনো শক্ত হয়নি তাই চলার পথ ভারি পিচ্ছিল। জুতো পায়ে হাঁটতে কষ্টই হচ্ছিল। কুশলকে বললাম এমন বরফ হলে তো মনে হয় ক্রাম্পন লাগবে সামিটে যেতে। সে বলল কিছু সামনেই ত্রিশূলের বেইজ ক্যাম্প, সেখান থেকে ক্রাম্পন নিয়ে আসবে। আপাতত কিছুক্ষণ খালি পায়েই হেঁটে যেতে হবে। শুরু হল ভেজা, তাজা, পিচ্ছিল বরফের মাঝ দিয়ে সরু রিজলাইন ধরে হাঁটা। প্রথমেই আমি বেশ এগিয়ে গেলাম, রাজু বেশ পিছিয়ে পড়ল। একটু পর পেছনে তাকিয়ে দেখি কুশল ত্রিশূল বেইজ ক্যাম্পের দিকে নেমে যাচ্ছে। বুঝলাম ক্রাম্পন যোগাড়ের জন্য যাচ্ছে। আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম। জুতোটা ভাল ছিল। তাই খুব একটা সমস্যা হচ্ছিল না।



এগিয়ে যেতে যেতে হেমকুন্ড থেকে প্রায় ২০-২৫ মিনিট রাস্তা আগে পেছনে তাকিয়ে কুশল আর রাজু কাউকেই দেখতে পেলাম না। একটু অবাক হলাম, কোন বিপদ হয়েছে কিনা আবার? চিৎকার করে কুশলকে ডাকতে থাকলাম। কোন সাড়া নেই? এইবার নিজের গতিকে রাশ টেনে ধরলাম। একটু পরেই দেখলাম কুশল একা একাই এগিয়ে আসছে , হাতে ক্রাম্পন নেই। সে জানল, রিজের শুরুতে বরফ দেখেই রাজু ফিরার সিধান্ত নিয়েছে, সে যথেষ্ট আত্নবিশ্বাস পাচ্ছে না। তাই কুশল তাকে ক্যাম্পের কাছাকাছি ফেরত দিয়ে এসেছে। কি করা, আমি হেমকুণ্ডের দিকে এগিয়ে গেলাম। রিজের বাম পাশ থেকে নন্দাঘুণ্টিকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ৬৩০০ মিটার (কিছু বেশি হব) উঁচু এই চূড়াটায় ভোরের সূর্য এসে পড়ে এক মোহনীয় রূপ লাভ করেছে। আমি নন্দাঘুণ্টিকে বায়ে রেখে এগিয়ে গেলাম হেমকুণ্ডের দিকে।



হেমকুণ্ড একটা সুন্দর লেক। চারদিকে বরফ দেখা গেলেও এই লেকে পানি সুন্দরভাবে দেখা যাচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ১৫২০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত এই লেক। তবে আমার মন পড়ে আছে সেই স্যাডেলের দিকটায়, হেমকুণ্ড থেকে উপরের দিকে তাকালেও রন্টি স্যাডেলকে দেখা যাচ্ছে। তাই কিছু ছবি তুলে আর ভিডিও করে এগিয়ে গেলাম রন্টি স্যাডেলের দিকে পেছনে হেমকুণ্ডকে রেখে। এইবার পুরা রাস্তা খানা খাড়া উঁচু হয়ে উঠে গিয়েছে সোজা রন্টি স্যাডেলে। রাস্তা পর্যবেক্ষণ করে যা বুঝলাম, প্রথম দিকের রাস্তাগুলা পুরা খাড়া পাথুরে ট্রেইল, উপরে শেষ রাতে জমা বরফের কুচো যা রাস্তাটাকে ভয়াবহ করে ফেলেছে, এর পরের প্রায় ৫০-৭০০ ফিট রাস্তা হল পাথুরে রিজ যা প্রায় ৩-৪ ফিটবরফের স্তূপ হয়ে আছে, উপরের তাজা বরফ সেখানেও কষ্ট দিবে বেশ। আর শেষ প্রায় ১০০০-১২০০ ফিট সম্পূর্ণ বরফের রাস্তা, ৪৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রী খাড়া হয়ে এই রাস্থা সোজা পৌঁছে গিয়েছে রন্টি স্যাডেলে।



শুরু হল আমার ৪ ঘণ্টা জীবন মরন লড়াই। প্রথম প্রথম বরফ নেগোশিয়েট করতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। পা বার বার পিছলে যাচ্ছিল, দুই একবার পড়েও গেলাম, পাথরের উপরে পড়ে গেলেও আল্লাহর রহমতে ব্যাথা পাচ্ছিলাম না, কুশলের ধাপগুলা খুব সাহায্য করছিল। তবে চলার গতি বেশ ধীর হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিক গতিতে আগাতে পারছি না আর প্রচুর শক্তি খরচ হচ্ছে প্রতিটা মুহূর্তে বরফ থেকে পা তুলে পরের স্টেপ নেয়ার জন্য। মাঝে মাঝে থেমে পানি, খেজুর খেয়ে নিচ্ছি। নিজের সাথে জোর করিনি, যখন থামতে মন চেয়েছে থেমে বিশ্রাম নিয়ে নিচ্ছিলাম। এভাবেই প্রথম খাড়া ধাপগুলো পার হয়ে আসলাম, এর পর শুরু হল বরফের রিজ ধরে এগিয়ে যাওয়া। এই জায়গাটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে।



একে তো রিজ, মানে রিজ থেকে কোন ভাবে পড়ে গেলে ভালই প্যারা খেতে হবে, তার উপর পুরু বরফ সেই রিজকে আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং করে দিয়েছে। কয়েকবার বিপদজনকভাবে পড়ে গেলাম , তবে আমার মধ্যে প্রতিজ্ঞা আর ধৈর্য এর কোন অভাব ছিল না, প্রতিবার পড়ার পরে আরো বেশি শক্তি নিয়ে উঠে দাড়িয়েছিলাম। এদিকে কুশল তাড়া দিচ্ছে, আবহাওয়া নাকি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। নিচের দিকে তাকালে বুঝা যাচ্ছে সেইটা, এক কালো দৈত্য যেন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাদেরকে। আমি বললাম চলতে থাকো।



স্থানীয় একজন গাইডের এর মাঝে বেশ অনেক দূর চলে গিয়েছিল, সে দেখে নেমে আসছে। সে যা শোনালো তাতে বেশ ভয় ধরে গেল, উপরে রন্টিতে যাওয়ার আগের জায়গা যেখানটা নন্দাঘুন্টির কাছে সেখানে নাকি রকফল হচ্ছে, খুব ভয়ংকর অবস্থা। একটু ভালভাবে তাকিয়ে আমি নিজেও কিছুটা নমুনা দেখতে পেলাম, একেকটা বিশাল রক, ছোট খাট একটা মাথায় পড়লে সাথে সাথেই অক্কা, কোন সন্দেহ নেই। আমি কুশলকে বললাম এগিয়ে যেতে থাক, যখন কিছু হবে দেখা যাবে । এক কথায় খুব বেশি কনফিডেন্ট ছিলাম, গাইড কেন যেন বার বার নিরুৎসাহিত করতে চাচ্ছিল আমাকে কিন্তু আমি দ্বিগুণ উৎসাহে তাকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।

রিজটা পার হতে গিয়ে বেশ কষ্ট হচ্ছিল মাঝে মাঝে পাথরের মাঝে গর্ত, কিন্তু উপর দিয়ে বরফের স্তর থাকায় বুঝা যাচ্ছিল না, দুই একবার এমন কিছু জায়গায় পা দিয়ে ফেললাম আর সাথে সাথে পা বেশ ভেতরে চলে যাচ্ছিল, ব্যথাও পেলাম ছোটখাট, কেন জানি মনে হচ্ছিল আজকে মনে হয় এই রিজ পার হওয়া আর সম্ভব হবে না। ঘড়ির টাইম প্রায় ১০ টার কাছাকাছি। রিজের শেষ দিকে এসে রিজটা বেশ সহজ হয়ে গেল। কারণ যত উপরের দিকে যাচ্ছি বা উঠছি বরফের স্তর শক্ত হচ্ছে আস্তে আস্তে, শক্ত বরফ দিয়ে চলা অত কষ্ট লাগছে না। একসময় রিজ শেষ হয়ে এল। উপরের দিকে তাকিয়ে এখন শুধুই বরফের রাস্তা, আর পাথরের কিছু দেখা যাচ্ছে না, মনে হচ্ছে এই তো সামনেই রন্টির চূড়া। কিন্তু বরফের হিসাব নিকাশ কিছুটা আলাদা, সেটা সূর্যের আলোর রিফ্লেকশনের জন্য হলেও হতে পারে। কাছে মনে হলেও আসলে দেখা যাবে ৭০০-৮০০ ফিট উচ্চতা হবে। তাই চূড়ান্ত যাত্রার আগে আরেকবার বিশ্রাম নিয়ে নিলাম, খেজুর, পানি খেয়ে নিলাম । এইবার শুরু হবে নিখাদ বরফের খাড়াল দেয়াল বেয়ে উপরে উঠার লড়াই, এই ক্ষেত্রে ক্রাম্পন খুব সহযোগিতা করত, কিন্তু কুশল মাউন্ট ত্রিশূলের বেইজ ক্যাম্প থেকে তা যোগাড় করতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন খালি জুতা পড়েই পথ চলতে হচ্ছে।

এইবার বাকি পথটুকু সম্পূর্ণ বরফের দেয়াল, প্রায় ৭৫ ডিগ্রী খাড়া রাস্তা সোজা চলে গিয়েছে রন্টি স্যাডেল পর্যন্ত। আস্তে আস্তে সেই বরফের দেয়ালে উঠা শুরু করলাম, আমার শরীর সম্পূর্ন ফিট, শক্তির কোন অভাব নেই, কিন্তু ১-২ মিনিট হাঁটার পরেই কেমন যেন একরকম ক্লান্তি এসে ভর করছে, না চাইলেও থেমে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। হাঁটতে ইচ্ছা করছে না, পথ যেন কোনদিন শেষ হবে না এমন মনে হচ্ছে, তাকালে মনে হচ্ছে হাত ছোয়া দূরত্ব কিন্তু হাঁটতে গেলে রাস্তা লম্বা হয়ে যাচ্ছে, আশ্চর্য ব্যাপার, এর মাঝে কুশল একটা খুব ভাল উপায় দেখাল ট্রেকের, সে বলল এমন সময় সোজা সামিট বরাবর না হেঁটে বরং আকা বাঁকা করে হাঁটলে নাকি কষ্ট কম হয় , তাই সে সেভাবে হাঁটা শুরু করল, প্যাঁচ মেরে একবার ডান দিক থেকে বাম দিকে যাচ্ছে, কিছুক্ষণ পর আবার বাম থেকে ডান দিকে, আমি তার সিস্টেমটা অনুসরণ করলাম, দেখলাম খুব ভাল একটা উপায়, মনে হচ্ছে না উপরে যাচ্ছে, বরং মনে হচ্ছে সমান রাস্তা ধরে হাঁটছি। কষ্ট বেশ কম লাগছে, আগের চেয়ে দ্রুত সামিটের দিকে আগাচ্ছি। তবে এই দিককার বরফগুলা শক্ত হওয়ায় এমনিতে কষ্ট কমই হচ্ছিল। এইভাবে উপরে উঠতে উঠতে সামিটের বেশ কাছে চলে আসলাম। খুবই ভাল লাগছিল। কুশল দেখলাম শেষের দিকে একটু দ্রুত গিয়ে সামিটে পৌঁছাল।

সামিটের প্রায় ২০-৩০ ফিট নিচ থেকে কুশলকে বললাম, সে যেন আবার নিচে নেমে আসে, আমি সামিটে পৌঁছাব এইটা সে পেছন থেকে ভিডিও করবে। সে নিচে নেমে আসল। এইবার কুশলের হাতে মোবাইল ধরিয়ে আমি শুরু করলাম শেষ ধাপ টুকু পার হওয়া। সত্য কথা বলতে খুব ফুরফুরে লাগছিল, শারীরিকভাবে কোন সমস্যা মনে হয়নি। স্বাভাবিক ছিলাম, মনে হচ্ছিল ৫ দিনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। এত কষ্ট, এত বিষন্ন রাত, এতগুলো একলা দুপুর, এতগুলো দিন পরিবার থেকে দূরে থাকা সব এখন অতীত, আমার আর কোন কষ্ট নেই, কোন বিস্বাদ, কোন বেদনা নেই। আমার কোন অভিযোগ নেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি, উনি সদয় হয়েছেন বলেই আসতে পারলাম এই রন্টি স্যাডেলে।



মনে আছে একদম শেষ কিছু ধাপ আমি দৌড়েই পার হচ্ছিলাম। গিয়ে রুকস্যাক থেকে বাংলাদেশের পতাকাখানি স্যাডেলে থাকা একটি লাঠিতে বেঁধে নিলাম। আর প্রাণ ভরে দেখতে থাকলাম চারদিকের শুভ্রতাকে। নন্দাঘুন্টির দিকটা বেশ পরিষ্কার, অপরদিকে মাউণ্ট ত্রিশূলের দিকটা এখনও নিজেকে মেঘের অবগুন্ঠনে ঢেকে রেখেছে। যেন নতুন বিয়ে হওয়া লাজুক কোন বধূ।



স্যাডেলের অপর প্রান্তে নাকি জসিমঠ যাওয়ার একটা ৭ দিনের ট্রেইল আছে, কুশল থেকে সব জেনে নিচ্ছিলাম। বিভিন্ন ভাবে ছবি তুললাম মো্বাইল আর ক্যামেরা দিয়ে। কিছু ভিডিও করলাম। বসে হালকা নাস্তা করে নিলাম। এর মাঝে হঠাৎ পুরো আকাশ নীল হয়ে গেল, ত্রিশূলের আপার সাইড পরিষ্কার হয়ে এল। আবার ছবি তুললাম। প্রায় ৩০ মিনিট কাটালাম রন্টি স্যাডেলে, আমরা সেখানে প্রায় ১১ টার কিছু পরে পৌঁছেছিলাম, এর মাঝে জিপিএস দিয়ে কিছু রিডিং নিয়ে নিলাম, তারপর আর কি করা , সেখানে ত আর থাকা যাবেনা, নেমে যেতে হবে আবার। তাই প্রায় ৩০ মিনিট পর শুরু হল অবরোহণ, দীর্ঘ দুই মাস ধরে যে স্বপ্ন দেখছিলাম তা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

কজনই পারে নিজের দেখা স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে, আমি পেরেছি আল্লাহ পাকের রহমতে, সেখান থেকে দেখে এসেছি আরো বড় স্বপ্ন। ইনশাআল্লাহ্‌, আল্লাহ্‌ পাক চাইলে সেই স্বপ্নও পূরণ হবে একদিন।


 

(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)