পর্বত দিবসের নানা অনুষ্ঠান


বিশ্বকে সচেতন করতে ‘পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকি: জলবায়ু, ক্ষুধা, অভিবাসন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবছর পালন করা হবে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশেও আগামী ১১ ডিসেম্বর পালিত হবে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস। এই দিবস উপলক্ষে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকার শিল্পকলা একাডেমি মাঠে শুরু হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে পাঁচদিন ব্যাপী পার্বত্য মেলা।

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করা মানুষদের জীবন-সংস্কৃতি, পোশাক-পরিচ্ছেদ, ইতিহাস-ঐতিহ্য কে সমতলে বাস করা মানুষদের সামনে তুলে ধরতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ৯২ টি স্টল থাকছে। যেখানে নানা জাতের ধান, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া সহ পাহাড়ে জুম চাষ পদ্ধতির নানা ফসল ও হরেক রকমের ফলমূল বিক্রি ও প্রদর্শনী করা হবে। স্থানীয়দের নিজ হাতে তৈরী নানা রকম পোশাক পাওয়া যাবে স্টলগুলোতে। এছাড়া থাকবে পাহাড়ি নানা রকম মুখরোচক খাবার এবং পিঠার স্টল। বেশ কিছু স্টলে পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরা হবে।

আগামীকাল বিকাল ৩ টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর মেলা উদ্বোধন করবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রতি সন্ধ্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলা চলবে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এদিকে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) ও ঢাকাস্থ নেপালী দূতাবাস আগামী ১১ ডিসেম্বর যৌথভাবে আয়োজন করছে একটি র‍্যালী ও সেমিনার । জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে তা র‍্যালী ও সেমিনারে তুলে ধরা হবে।

সকাল ৮টায় শাহবাগ ছবির হাট থেকে র‍্যালীটি শুরু হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হবে। র‍্যালীতে অংশ নিচ্ছেন এভারেস্ট আরোহণকারী পর্বতারোহী এম.এ মুহিত ও নিশাত মজুমদার সহ দেশের অন্যান্য পর্বতারোহীগণ।। র‍্যালীতে আরও অংশ নিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিষ্ট সোসাইটি। এছাড়া পাহাড় ও প্রকৃতি বিষয়ে সচেতন যে কোন ব্যক্তি ও সংগঠন উক্ত র‍্যালীতে স্বকীয়ভাবে যোগ দিতে পারবেন।

র‍্যালীর পর সকাল ১০টায় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবসের উপর নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নেপালী রাষ্ট্রদূত প্রফেসর ডক্টর চপ লাল ভূষাল, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড.হোসেন জিল্লুর রহমান এবং পক্ষীবিদ ইনাম আল হক।

২০০৫ সাল থেকে বিএমটিসি প্রতি বছর আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উদযাপন করে আসছে। এ বছরের পর্বত দিবস সম্পর্কে জনাব এম.এ মুহিত বলেন,

‘২০০৪ সাল থেকে পর্বতাভিযানের জন্য বিশ বারের মতো হিমালয়ে গিয়েছি আমি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে হিমবাহগুলো কিভাবে গলে যাচ্ছে প্রতি বছর তা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়েছে। পরিবর্তিত হচ্ছে পর্বতে বসবাস করা মানুষগুলোর জীবনযাত্রা। তারাতো এমনিতেই সমতলের মানুষের তুলনায় অনেক সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত। এবারের পর্বত দিবসে আমাদের আয়োজনের মাধ্যমে আমরা পর্বত এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবো। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে হিমালয়ের পরিবেশ প্রতিবেশ কতটা ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে তা তুলে ধরা হবে এবারের র‍্যালী এবং সেমিনারে। এছাড়া আমরা যারা অ্যাডভেঞ্চারের জন্য হিমালয়ে কিংবা আমাদের দেশের পাহাড়ে যাই তারা পরিবেশের জন্য কি করতে পারি তাও তুলে ধরা হবে পর্বত দিবসের কর্মসূচীতে।’

(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)