আদিবাসী ও দেশান্তর


গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে একটা চাঞ্চল্যকর খবর আসে আলীকদমের গহীন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে। তৈন খাল সংলগ্ন রালাই পাড়ার পাওয়াই ম্রো তার পরিবার নিয়ে মাতামুহুরি নদীর একেবারে উজানের দিকের এক গেইটওয়ে দিয়ে ওপারে অর্থাৎ মিয়ানমারে পাড়ি জমাচ্ছিল। সে জানত না, দুর্গম সে সীমান্তে পুঁতে রাখা আছে বিধ্বংসী স্থল মাইন। অভাগা পাওয়াই ম্রোর বেখেয়াল পদক্ষেপ বিস্ফোরণ ঘটায়, এবং তার মৃত্যু ঘটে। আহত হয় তার স্ত্রী, শিশু সন্তান সহ পরিবারের বাকী ৫ সদস্য।

সে মার্চের প্রথম দিকে আরো কিছু উদ্বেগজনক ছবি উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। থানচি উপজেলার বড় মদকের উজানে বেশকিছু আদিবাসী পরিবার কুয়াশায় মোড়া সাংগুর পাড় ধরে গাট্টিবোচকা নিয়ে সীমান্ত পানে হাঁটা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায় এরা পুব সীমান্তের গহীন রংরাং পাহাড়ের দিকে যাচ্ছে, ওপারেই মিয়ানমার। মদক পাহাড়শ্রেণি টপকে, একাধিক পথ রয়েছে ওপারে যাবার। তবে বেশ দুর্গম এবং বিপদসংকুল সেসব জায়গা। এর বাইরেও আরো কিছু জায়গা থেকে খবর আসে- ম্রো এবং মারমারা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।


[প্রচ্ছদ ছবি] উশৈথোয়াই মারমা


উদ্বেগ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে আরো বেশি, যখন জানতে পারি একটি দালাল চক্র উন্নত জীবন ব্যবস্থা সহ নানান প্রলোভন দেখিয়ে আদিবাসীদের দেশান্তরে বাধ্য করছে। রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ভিটেমাটিতে তাদের ঘর তুলে দেয়া হবে, সাথে গবাদিপশু এবং আরো অনেক সুযোগ সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও আছে। এই দালাল চক্রের উদ্দেশ্য কী, তাদের মাথাগুলো কোথাকার, সে ব্যাপারে পরিষ্কার কোন ধারণা পাওয়া যায়নি।



প্রতিবছর ৯ আগস্ট পালিত হয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। উদ্দেশ্য আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশেরও উচিত রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবস পালন করা। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আদিবাসী জাতিসমূহের দেশান্তর: প্রতিরোধের সংগ্রাম’। প্রতিপাদ্যটা বেশ সময়োপযোগী মনে হল আমার কাছে। এটা নিয়ে চিন্তা ও কথা বলার অবশ্যই সুযোগ আছে এবং দরকার। দেশান্তর হতে পারে দুই ধরনের । স্বেচ্ছায় এবং জোরপূর্বক। দুর্গম পাহাড় আঁকড়ে শুধুমাত্র মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করে বাঁচে থাকা কোন জাতিগোষ্ঠীর জীবনে মানচিত্র, ভূখণ্ড এসব খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন নাও করতে পারে। তারা যদি নিজের ইচ্ছায় দুটো পাহাড় টপকে রাজনৈতিক সীমারেখা অতিক্রম করে ঘর বাঁধে সেটাকে ‘দেশান্তর’ তকমা আমি ব্যক্তিগতভাবে দিতে চাই না। তাদের ক্ষেত্রে এপার-ওপার আত্নীয়তাও কিন্তু বিরল নয়, প্রায়শই দেখা যায়। কিছু কিছু সীমান্তবর্তী এলাকায় এপারওপার নিয়মিত যাতায়াতও লক্ষণীয়। এ ধরণের দিকগুলো তাই সযত্নে আলোচনার বাইরে রাখছি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব মতে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ২৭টি। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামেই রয়েছে ১৫ টি আলাদা জাতিগোষ্ঠী। বাংলাদেশে ভূমি মালিকানার প্রচলিত আইন আর আদিবাসীদের ভূমি মালিকানার ধরণ এক নয়। তাদেরটা সামাজিক। ‘সার্বজনীন সম্পদ-সম্পত্তি মালিকানা অধিকার’ নীতিই হলো তাদের ভূমি মালিকানার ভিত্তি৷ এই মালিকানা বংশ পরম্পরায় মৌখিক৷ তিনটি সার্কেলের আওতায় পার্বত্য পাড়ার হেডম্যান এবং কারবারিরা এর ব্যবস্থাপনা করে থাকেন৷ কিন্তু গত ৩০ বছরে এই পার্বত্য পাড়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমির পরিমাণ কমেছে শতকরা ৫১ ভাগ৷ বলা যায়, পাহাড়িদের সামাজিক মালিকানার অর্ধেকেরও বেশি ভূমি ও ভূসম্পদ হাতছাড়া হয়ে গেছে এ সময়কালে। সমতলের আদিবাসীদের জমির মালিকানা প্রচলিত ভূমি রেজিস্ট্রেশন নীতিমালার আওতায় নির্ধারণ করা হলেও তারা বঞ্চনার শিকার হয় প্রতিনিয়ত। নানান কূট-কৌশল অবলম্বন করে  অধিকার হরণ করে নিজ ভূমি থেকে তাদের বিতাড়িত করা হয়। একসময় বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায় ৫০ হাজারের বেশি রাখাইনের বসবাস ছিল। এখন মাত্র ২ হাজার ২০০ জন।



আলাদা করে পাহাড়ের কথা যদি বলি, যুগ যুগ ধরে আদিবাসীরা তাদের নিজস্ব সামাজিক পদ্ধতিতে ভূমি ব্যবহার করত৷ চিটাগাং হিলট্র্যাকটস রেগুলেশন অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয় ব্রিটিশ শাসনামলে। সেই আইনে একই ধরনের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু বিপত্তি ঘটে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ আমলে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত তাঁর গবেষণায় দেখেছেন, ‘‘২৭ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী মানুষের অনুপাত ছিল ৭৫ শতাংশ৷ আর এখন তা ৪৭ শতাংশ৷ গত তিন দশক ধরে ঐ অঞ্চলে আদিবাসী কমছে আর বাঙালিদের সংখ্যা বাড়ছে৷ পাহাড়িরা হারিয়েছে ভূমি-বনাঞ্চল আর আমদানি করা সেটেলার বাঙালিরা দুর্বৃত্ত আমলা প্রশাসনের যোগসাজশে তা দখল করেছে৷”

চলুন এবার একটু ইতিহাস খুঁড়ে দেখি। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হল। এতে করে বাস্তুচ্যুত হল ১ লাখ মানুষ, পার্বত্যঞ্চলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। প্লাবিত হল ৫৪ হাজার একর ধানি জমি। বিপুল সংখ্যক চাকমা চিরতরে পাড়ি জমাল ভারতের অরুণাচল প্রদেশে, আশ্রয়প্রার্থী উদ্বাস্তু হিসেবে। এরপর এলো আশির দশক। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী আদিবাসীদের ভূমি অধিকারে কালো অধ্যায় হয়ে। সংঘটিত ‘পপুলেশন ট্রান্সফার প্রোগ্রাম’ কাছাকাছি সংখ্যক স্থানীয়কে নিজভূম থেকে অপসারণ করে জন্ম দেয় বাজে রকমের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির। অবৈধভাবে ভূমি দখল, খুন, ধর্ষন হয়ে ওঠে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সে অবস্থা থেকে উত্তরণ আজও সম্ভব হয়নি, নিকট ভবিষ্যতেও হবে বলে মনে হচ্ছে না। জন্মগত ভাবেই পাহাড়িদের প্রতি একরাশ ঘৃণা নিয়ে জন্মায় পাহাড়ে স্যাটেলড বাঙালিরা। অনেকটা সহজাত প্রবৃত্তির মত বিষয়। সময় সুযোগ মত সে ঘৃণার বহিঃপ্রকাশও ঘটে। এটাই জাতিবিদ্বেষ। শুধু ওরা না, পাহাড়ে দায়িত্ব পালনের জন্য যাওয়া প্রশাসনের লোকবলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা এবং বিষয়টা অস্বাভাবিক না। এমনটাই হবার কথা। পার্বত্য চট্টগ্রামে যা হচ্ছে, ইতিপূর্বে যা হয়েছে তার সবটাই তথাকথিত উন্নয়ন এবং আপেক্ষিকভাবে দুর্বল জাতিগত অস্তিত্বের প্রতি অস্বীকৃতি, সোজা কথায় জাতিবিদ্বেষের কারণে।

ব্রিটিশ পিরিয়ডে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোতে অতি নগন্য সংখ্যক মানুষের বসবাস ছিল। ছিল না বললেই চলে। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে বিপুল জনগোষ্ঠী, যারা ভারতে পাড়ি জমাতে ব্যর্থ হয়েছিল তাদের রাইক্ষ্যাং রিজার্ভে পুনর্বাসিত করা হয়। আভ্যন্তরীণ দাংগা হাংগামা তথা স্যাটেলার আগ্রাসনের কবলে পড়ে বহু আদিবাসী পরিবার কাসালং রিজার্ভে তাদের আশ্রয় খুঁজে নেয়।

সাংগু-মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষেত্রেও বিষয়টা একই রকম। লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চকরিয়া তথা সমতলের বাঙালির অনুপ্রবেশের কারণে ক্রমশ কোণঠাসা হয়েছে লামা-আলিকদমের আদি বাসিন্দারা। আস্তে আস্তে এরা ভেতরের দিকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে মাতামুহুরির উজানে যারা বসবাস করে তারা একসময় আলীকদম বাজার সংলগ্ন এলাকাতেই থাকত। আজ থেকে এক দশক আগেও আন্ধারমানিকের উপরে অর্থাৎ সাঙ্গুর উজানে স্থায়ী কোন বসতি ছিল না। তার আগে অবশ্য একটি পাড়া ছিল মাত্র। ‘ডিওয়ে এক্সপেডিটরস’ অভিযাত্রি দল ২০০৮ সালে যখন সাঙ্গুর উজানে অভিযান চালায়, তখন তারা লিক্রেতে পুরাতন উইথং পাড়ার কিছু ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায়। একটি ঘর ছিল তখনও ঠায় দাঁড়িয়ে। শক্ত খুটি আর বড় ঘরের আকৃতি। ২০০৬ সালে সেনাবাহিনী উইথং পাড়া উচ্ছেদ করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের দিকে আবার লিক্রেতে পাড়া পুনঃস্থাপন করা হয় এবং আরো উজানের দিকে গড়ে ওঠে আরো কিছু পাড়া। যারা আগে অনেক ভাটির দিকে ছিল, ক্রমশই ভেতরে চেপে গেছে।

তখন অর্থাৎ উক্ত ঘটনাগুলো ঘটার আগে কোন সমস্যা ছিল না, কারণ জনসংখ্যা ছিল অতি নগণ্য। সম্পদের ভোগ, ব্যবস্থাপনার মত বিষয়গুলো ছিল আরো সুশৃংখল এবং নিয়মতান্ত্রিক। শতসহস্র প্রজাতির সাথে বসবাসরত অল্প কিছু আদিবাসীও নির্দিষ্ট একটা এলাকা ভাগাভাগি করে নিতে পারত। মোটামুটি টেকসই একটা অবস্থা তখন জারি ছিল। আর প্রকৃতিও নিজেও স্থিতিস্থাপক এবং পুনরুৎপাদী। নিজেকে রিকভার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার অসীম ক্ষমতা আছে তার। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় সময়টুকু তো দিতে হবে তাকে।



আদিবাসীরাও মানুষ, তারাও ভোক্তা। তবে আমাদের মত অতটা আগ্রাসী না। তারা আমাদের চেয়ে প্রকৃতিকে অনেক ভাল বোঝে। এই বোঝাটাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদি প্রাকৃতিক সম্পদের অনুপাতে আদিবাসী ভোক্তা অনেক বেড়ে যায় তখন বিষয়টা ‘সাসটেইনেবল’ থাকে না। কিন্তু, দায়ী আসলে কারা?

আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে যে অল্প কয়েকটা পাড়া ছিল মাতামুহুরি রিজার্ভে, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণার পর ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট তাদের উঠে আসতে বাধ্য করে। জনসংখ্যার চাপে আবারো রিজার্ভে পাড়া গজায়। এখন তো মাতামুহুরি রিজার্ভ জনবহুল কুরুকপাতা ইউনিয়ন হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছে সাংগুর উজানে কোন পাড়া থাকতে পারবে না। তার মানে, আমরা ওদের ভূমি দখল করে, জুম জমি কেড়ে নিয়ে, ঠেলে সংরক্ষিত বনের ভেতরে ঢুকাচ্ছি, আবার বলছি বের হয়ে আসো। এটাও বলছি, ভাল না লাগলে চলে যাও সীমান্তের ওপারে। এবং পাড়া মাইগ্রেট হচ্ছেও। বংশপরম্পরা, ভূমি অধিকার এসব মিলিয়ে গেছে বহুকাল আগেই।

কিছুদিন আগেই, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের ফেইসবুক পেইজে ঘোষণা এল মাতামুহুরিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য একটি স্থান শনাক্ত করা হয়েছে। মাতামুহুরিতে যদি বাঁধ দেয়া হয় তাহলে উজানের মানুষ, জীববৈচিত্রের কী হবে সেটা বোঝার জন্যে খুব বেশি বুদ্ধিমান হবার প্রয়োজন নেই। কাপ্তাইয়ের মত আরো একটি ম্যাসাকার হবে এটা, অন্যকিছু না।

সর্বশেষ আদমশুমারি ও গৃহগণনা বলছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৭ টিতেই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে। কারণ কী, এরা কোথায় গেল? উত্তর হল, এরা দেশান্তরি হয়েছে। কারণটা এতক্ষণে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা।



আলাদা জাতিসত্ত্বা হিসেবে সবারই আছে অনন্য সংস্কৃতি-বিশ্বাস। চাকমা, মারমা, মুরং, বম, ত্রিপুরা, খুমি, তঞ্চ্যঙ্গা, পাংখোয়া যাদের কথাই বলি না কেন, এরা সবাই নিজস্ব ঐতিহ্যমণ্ডিত জীবনযাপন, শৈল্পিক ভাবনার প্রতিফলন, ভাষা, কৃষ্টি, অলংকার, পোষাক-পরিচ্ছদ, আধ্যাত্মবাদ, পূজা-পার্বণ, খাদ্যাভ্যাস ও প্রথাগত সামাজিক বিষয়াদির দিক দিয়ে অতুলনীয় এবং স্বতন্ত্র। বৈচিত্রের যেন শেষ নেই। 

তাছাড়া, আদিবাসীদের রয়েছে ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা, নানারকম শিল্প ও সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ। তাদের বাদ্যযন্ত্র, নাচ-গান, ছড়া-গল্প, রুপকথা, ধাঁধাঁ, শ্লোক, হাতিয়ার, পোষাক এসব ব্যাপারগুলো জীবিকার অন্যতম মাধ্যম জুম চাষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা। জাতিসত্ত্বা অনন্য, বংশানুক্রমে চলতে থাকা এই চর্চা তাদেরকেও অনন্য করে রেখেছে।



আমরা যারা সমতলে অথবা পাহাড়ে স্যাটেলড হয়ে বসবাস করছি তাদের উচিৎ দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা। জাতকানা মনোভাব পরিহার করে আমাদের উচিত এই মহামূল্যবান সংস্কৃতিগুলোকে বুকে ধারণ করে বাঁচা আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো। সাধারণ বাঙালি এবং প্রশাসনের বোঝা উচিত- আদিবাসীদের সংস্কৃতি পুরোটাই ভূমি কেন্দ্রিক। নিজভূম বিষয়টা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আর সংস্কৃতি হচ্ছে মানব জীবনের অজৈবিক, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। মনুষ্যজাতি আত্মপরিচয় লাভের জন্য যা কিছু শেখে, বোঝে, পালন করে তা সংস্কৃতিরই অংশবিশেষ। কোন স্থানের অন্যতম বড় সম্পদ তার মহামূল্যবান নিজস্ব তথা স্থানীয় সংস্কৃতি। ওসব জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা তাদের আপন সংস্কৃতিকে লালন করার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক ব্যাপারগুলোর মধ্যে যে একটা ঐক্যতানের সৃষ্টি হয়, এতে তারা বিচরণ করে বেড়ায়; স্থাপিত হয় পরিপূর্ণতা ও আত্মতৃপ্তির মৌলিক ভিত্তি।


কৃতজ্ঞতা
কংচাই মারমা
তথ্য সহায়িকা
[১] Land and forest rights in the Chittagong Hill Tracts by Raja Devasish Roy 
[২] Webb, W.E., Roberts, R. (1976) Reconnaissance Mission to the Chittagong Hill Tracts, Report: Forestry sector
[৩] Ishaq, M. (1975) Bangladesh districts gazetteer: Chittagong Hill Tracts
[৪] ৪৭ জেলায় আদিবাসীর সংখ্যা কমেছে!, শিশির মোড়ল, প্রথম আলো, ১৭-০৮-২০১২
[৫] Dway Expeditors 
[৬]আদিবাসীদের সামাজিক ভূমি অধিকার এবং বর্তমান চিত্র,হারুন উর রশীদ স্বপন,www.dw.com,২৬-০৭-১৭
(Visited 1 times, 1 visits today)
কামরুল হাসান সজীব
কামরুল হাসান সজীব
পেশায় সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। সারাদিন রাত কাজ করেন, শুধুমাত্র মনমত কিছু সময় যেন পাহাড়ে কাটাতে পারেন। বাসা ও কাজের বাইরে সমস্ত জগত জুড়ে শুধুই পাহাড়। পাহাড়ে পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ানো ছাড়াও শখের মধ্যে হচ্ছে ছবি তোলা ও গিটার বাজানো।

২ thoughts on “আদিবাসী ও দেশান্তর

  1. টু বি অনেস্ট আমি ব্যক্তিগতভাবে এই আদিবাসী টার্মটা মেনে নিতে পারি না। একইভাবে উপজাতি, ক্ষুদ্রনৃত্বাত্তিক জনগোষ্ঠীর মত টার্মগুলোও আমার কাছে ফালতু মনে হয়। এগুলো রাজনৈতিক শব্দ- যা বিভিন্ন ভাবে মানুষ তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজে লাগায়- এর মধ্যে জনকল্যান ব্যাপারটা কখনোই থাকে না।

    আমি যেমন জাতিতে বাঙালি আর বাংলাদেসী নাগরিক সেই হিসেবে আমার যা যা রাইট আছে ঠিক একইভাবে কেন একজন বম, চাকচা, মারমা, মুরং, খিয়াং, রাখাইন, খাসিয়া, সাঁওতাল জাতির সবাই বাংলাদেসী নাগরিক হয়েও সেই একই রাইট পাবে না সেটাই আমি বুঝি না।

    আমাদের উচিৎ সবার আগে তাদের মানুষ হিসেবে ট্রিট করা। এমন মানুষ যারা বিশেষভাবে পাহাড়ে বসবাস করার জন্যই অভিযোযিত। তাদের পুরো লাইফস্টাইল পাহাড়ের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে আমরা সমতলে যারা বাস করি তারা পাহাড়ে বসবাসের জন্য একেবারেই অভিযোজিত না। উলটো জোর করে পাহাড়ে সমতলের মত লাইফস্টাইল লিড করতে গিয়ে পুরো প্রকৃতির বারটা বাজিয়ে দিচ্ছি। এই সহজ বিষয়টি জটিল করলেই বুঝি শাসকদের শাসন করতে সুবিধা হয়। আর বোকা জনগন খাবলাখাবলি করে মরে…

    আমাদের উচিৎ প্রকৃতি ও বাংলাদেশের স্বার্থে এই জাতিগুলোর বিচিত্র সব সংস্কৃতিগুলোকে যথাযথভাবে সংরক্ষন করা। তাদের উপর চলা সব ধরনের বৈষম্য দূর করা। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। আর সর্বপোরি তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা। বিশেষ করে কিভাবে সবচেয়ে কম কনজিউম করেও খুব ভাল থাকা যায়। আমি সবসময় তাদের একটা সম্পদ নিয়ে খুব ঈষার্ন্বিত থাকি, সেটা হচ্ছে ইনার পিস।

    আমরা আসলে তাদের ব্যাপারে একদমই সচেতন না। দুই দিন আগেও একটা পোস্ট দিয়েছিল এই ব্যাপারে বলে যে সমতলে আমরা যারা থাকি তাদের ম্যাক্সিমাম মানুষ পাহাড়িদের সম্পর্কে কিচ্ছু জানে না। তাই এই বিশেষ দিনগুলোতে এমন উদ্যোগ নেয়া উচিৎ যেন একে অপরকে আমরা আরও ভালভাবে জানতে আর বুঝতে পারি। এভাবেই হয়ত একদিন সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

  2. যেভাবে আদীবাসীদের উপরে শোষন-নীপিড়ন, চলছে তাতে করে আদিবাসীরা দেশান্তরী হয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়াটা সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হয়। প্রশাসনিক অনিয়ম দূর্নীতি যখন একটি দেশে নিয়ম হয়ে ওঠে সেখানে পুরা দেশই তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারায়। আর সেখানে অইরকম দুর্বলতম আদিবাসীরাতো চলে যেতে বাধ্য। আমরা আদিবাসীদের এবং তাদের সংস্কৃতির তাৎপর্য বুঝিনা। বুঝতেও চাইনা। সেই সাথে আমাদের সরকারগুলো এসব বুঝতে অক্ষম, অপারগ! 😕

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)