অদ্রি সালতামামি ২০১৮


কেমন ছিল আমাদের জন্য ২০১৮ সাল?

গত বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৬ জন অভিযাত্রী ১২ টি চূড়ায় সর্বমোট ২৩ টি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে অভিযাত্রীদের সংখ্যা বাড়লেও কিছুটা কমে গেছে অভিযানের সংখ্যা।

গত বছর স্টোক কাংড়ি পর্বতে ৫ টি পৃথক অভিযানে ৭ জন অভিযাত্রী অংশ নিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র অভিযাত্রী ছিলেন। বাকি প্রায় সবকয়টি অভিযানই দলবদ্ধভাবে পরিচালিত হয়েছে।

সাল চূড়ার সংখ্যা অভিযান সংখ্যা অভিযাত্রীর সংখ্যা
২০১৫ ১২ ১২ ২৬
২০১৬ ১০ ১৭ ৪৬
২০১৭ ১৪ ২৫ ৬৭
২০১৮ ১২ ২৩ ৮৬

গত বছরের অভিযানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার এন্ড ট্যুরিজম সোসাইটির (ব্যাটস) আয়োজনে মাউন্ট ইয়ানাম অভিযান। ইউল্যাব অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের বর্তমান ও প্রাক্তন ২৪ জন অভিযাত্রী এতে অংশ নিয়ে ২০ জন সামিট করেছেন। তরুণ-তরুনীর মধ্যে পর্বতারোহণকে আরও জনপ্রিয় করা ও তাঁদের ফ্যাসিলিটেট করার জন্য বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসতে ইউল্যাবের এই অভিযানটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

মাউন্ট কানামোতে সম্পূর্ণ মেয়েদের একটি দলের অভিযান বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মেয়েদের পর্বতারোহণের প্রতি আরও আকৃষ্ট করবে।

মাউন্ট কানামোর আরেকটি অভিযানের দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা দরকার।  ইমরান খান অজিলের অতি আত্নবিশ্বাস, যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির অভাব, চূড়ান্ত রকমের অব্যবস্থাপনার কারণেই এত বড় ধরনের একটি দূর্ঘটনা ঘটেছিল। ইমরান খান অজিলের মাউন্ট কানামো অভিযান আমাদের আবারও সতর্ক করে দেয় পাহাড়-পর্বত যেমনই হোক, তাকে অবহেলার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।

এ বছরও দেও তিব্বা অভিযানে একটি দল গাইডের সামিট পর্যন্ত যেতে না চাওয়া ও চূড়ান্ত রকমের অসহযোগিতার অভিযোগ করেছে। বিগত বছরগুলোতে একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন অভিযাত্রীরা। অভিযাত্রীদের ফলস সামিটে নিয়ে যাওয়া, সামিটের অনেক আগেই ধর্মীয় সম্মানের কথা বলে থামিয়ে দেওয়ার মত ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। ভারতে এজেন্সির মাধ্যমে যারা পর্বতারোহণের পরিকল্পনা করছেন আগামীতে এই বিষয়টি সম্পর্কে আগেই পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে নেবেন বলে আশা করা যায়।

বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের এম এ মুহিত টেকনিক্যালি দূরহ আমা দাবলাম পর্বতে দ্বিতীয়বারের মত আরোহণের চেষ্টা করলেন। এই রকম অভিযান সামনের দিনগুলো আরও হবে আশা করা যায়। এর সাথে গত বছর একটি মাত্র টিম সেলফ সাপোর্টেড অভিযানে গিয়েছিল, এই বছর যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে আরও দক্ষ কয়েকটি দল অভিযানে যাবে তা আশা করা যায়।

দ্যা কোয়েস্টের অভিযানটি আমাদের তরুণ অভিযাত্রীদের জন্য একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সামিট ক্যাম্প থেকে ৭ ঘণ্টার সামিটপুশে বের হয়ে প্রচণ্ড খারাপ আবহাওয়ার কারণে ২০,৫৫৪ ফিট সামিটের প্রায় ৭২ ফিট নিচ থেকে তারা ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযাত্রীরা ‘সামিট ফিভারে’র প্রচণ্ড মানসিক চাপ সামলে উঠে সঠিক সময়ে ফিরে আসার কঠিনতম সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে।

আমরা আশা করি তাদের এই দৃষ্টান্ত আগামীতে সকল পর্বতারোহীকে কঠিনতম সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

একনজরে ২০১৮ সালে পর্বতারোহণে বাংলাদেশীদের উল্লেখযোগ্য অভিযানসমূহ: 

●  স্টোক কাংড়ি (৬১৫৩ মিটার)
অবস্থান: লাদাখ, ভারত।
[১]
দল/ প্রতিনিধিত্ব – স্বতন্ত্র
অভিযাত্রীদের নাম- রকিব শাওন
কোন গাইড বা পোর্টারের সাহায্য ছাড়া এই অভিযানে তিনি অগাস্টের ২৮ তারিখে লেহ শহরে পৌঁছান। সেখান থেকে বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছান সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ। পরদিন রাত ১১ টায় রকিব শাওন বেইজ ক্যাম্প থেকে একাই চূড়ার উদ্দেশে রওনা হন। সকাল পৌনে সাতটা নাগাদ তিনি সোল্ডারে পৌঁছান। এখানে তিনি বুঝতে পারেন তার উচ্চতাজনিত শারিরীক সমস্যা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ১০০ মিটার নিচে নেমে আসেন। মিনিট বিশেকের মত সময় বিশ্রাম নিয়ে, কিছু খাবার ও ওষুধ খেয়ে কিছুটা সুস্থবোধ করায় আবার তিনি চূড়ার উদ্দেশে আরোহণ শুরু করলে শারীরিক অবস্থা আবারও আগের মত হয়ে যায়। একই সাথে তুষারপাত শুরু হওয়ায় তিনি বেইজ ক্যাম্পে নেমে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।
[২]

দল/ প্রতিনিধিত্ব – স্বতন্ত্র
অভিযাত্রীদের নাম- মনিরুজ্জামান মনির
২৭ অগাস্ট ভারতের স্থানীয় সময় রাত ১ টায় বেইজ ক্যাম্প থেকে কোন গাইড ও পোর্টার ছাড়া সম্পূর্ন একা রওনা দিয়ে সকাল ৮ টা ৪ মিনিটে চূড়ায় আরোহণ করেন।

[৩]

দল/প্রতিনিধিত্ব- স্বতন্ত্র
অভিযাত্রীদের নাম- অসিম সমাদ্দার ও জাকির হোসেন
অভিযাত্রীদ্বয় স্থানীয় গাইডের সাহায্য নিয়ে ২৩ অগাস্ট ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ৯ : ৩০ মিনিটে স্টোক কাংড়ি চূড়ায় আরোহণ করেন।
[৪]
দল/ প্রতিনিধিত্ব – স্বতন্ত্র
অভিযাত্রীদের নাম- আবু বকর সিদ্দিকী, হাসিব
আবু বকর সিদ্দিক ও হাসিব ঢাকা থেকে ১৪ অগাস্ট রাতে রওনা দিয়ে ১৭ তারিখ সকালে লেহ তে পৌঁছান। ১৮ তারিখ স্টোক ভিলেজ থেকে তারা ট্রেক শুরু করেন। প্রথম দিন তারা মানকারমো ক্যাম্পে পৌঁছে, সেখানে এক্লিমাটাইজেশন করেন ও পরদিন বেইজ ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা দেন।
বেইজক্যাম্পে একদিন আবহাওয়া ও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে ২০ তারিখ রাত ১০.৩০ মিনিটে গাইডসহ চূড়ার উদ্দেশে রওনা হন। রাত প্রায় ১ টার দিকে প্রায় ১৮০০০ ফুট উচ্চতা থেকে প্রচুর মাথা ব্যাথা অনুভত হওয়ায় হাসিব ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে আবু বকর সিদ্দিক গাউডের সাথে পরামর্শ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভোর ৫ টার দিকে গাইডকে সাথে নিয়ে আবু বকর স্টোক কাংড়ি সোল্ডারে পৌঁছান। সেখান থেকে ৩ ঘণ্টা ট্রেক করে সকাল ৮ টায় তারা স্টোক কাংড়ি চূড়া আরোহণ করেন।
[৫]
দল/ প্রতিনিধিত্ব – স্বতন্ত্র
অভিযাত্রীদের নাম- জয়নাব শান্তু
বেইজ ক্যাম্প থেকে চূড়া পর্যন্ত নিয়ে যেতে গাইডের আপত্তি, কথা কাটাকাটির মত অনাকাঙ্খিত ঘটনার পরেও বেইজ ক্যাম্প থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২ টায় রওনা দিয়ে বেলা ১১ টার দিকে সামিটে পৌঁছানোর দাবি করেন তিনি। ফেসবুকে যেই ছবিগুলো তিনি দিয়েছেন সেগুলো সামিটের ২০-২৫ ফিট নিচের বলেও দাবী করেন। এই জায়গায় তিনি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছিলেন। এ সময় তার ব্যাগে থাকা মোবাইলটি রেখেই সামিটে চলে যাওয়ায় চূড়ায় কোন ছবি তিনি তুলতে পারেন নি।

● মাউন্ট ইয়ানাম (৬১১১ মিটার)
অবস্থান: লাহুল, হিমাচল প্রদেশ, ইন্ডিয়া
[১]

দল/প্রতিনিধিত্ব- বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার এন্ড ট্যুরিজম সোসাইটি (ব্যাটস)
ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টসের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার এন্ড ট্যুরিজম সোসাইটি (ব্যাটস) আয়োজিত এই অভিযানে ২৫ জন অভিযাত্রী অংশ নিয়েছিলেন। ৬ অগাস্ট দেশ থেকে তারা ভারতের হিমাচল প্রদেশের উদ্দেশে রওনা হন। পারিবারিক কারণে একজন সদস্য দেশে চলে আসলে দল দাঁড়ায় ২৪ জনে। প্রয়োজনীয় এক্লিমাটাইজেশন শেষে দলটি ১৬ অগাস্ট রাত ৩ টায় চূড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। দলের ৪ জন সদস্য মাথা ব্যথার কারণে ক্যাম্পেই অবস্থান করেন। ২০ জনের দলটি সকাল ৯.৩০ মিনিটে চূড়ায় পৌঁছায়।
[২]
দল/প্রতিনিধিত্ব- স্বতন্ত্র
অভিযাত্রী- মৃদুলা আমাতুন নূর
২৮ অগাস্ট অটল বিহারী বাজপায়ী ইন্সটিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড এলাইড স্পোর্টসের প্রাক্তন প্রশিক্ষণার্থীদের একটি দলের সাথে তিনি চূড়ায় আরোহণ করেন। এই অভিযানের গাইড ছিলেন উত্তম শর্মা।


● মাউন্ট কানামো (৫৯৭৪ মিটার)
অবস্থান: স্পিতি, হিমাচল প্রদেশ, ইন্ডিয়া
[১]
দল/প্রতিনিধিত্ব- স্বতন্ত্র
অভিযাত্রী- আফরিনা মিমি, শহরাত জাহান, ইশফাকুন নিসা
১০ জুন কিব্বের গ্রাম থেকে তিন সদস্যের দলটি স্থানীয় গাইড তেঞ্জিন সহ কানামোর উদ্দেশে রওনা হন। ১৫৭৪৮ ফিট উচ্চতায় হ্রদের একটু সামনে বেইজ ক্যাম্প স্থাপণ করেন। পরদিন ভোর ৫ টায় তারা সামিটের উদ্দেশে রওনা দেন। সেকেন্ড বেইজ ক্যাম্প পৌঁছানোর পরপর তুষারপাত শুরু হয়। আর কিছুদূর আরোহণের পর শহরাতের বমি বমি বোধ হওয়া তারা বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্রাম নিয়ে ও ওষুধ খাবার পরেও শহরাতের অবস্থার উন্নতি না হলে সে নিচে নেমে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সাথে নিসাও নেমে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। গাইড তেঞ্জিনকে সাথে নিয়ে বেলা ২টার সময় আফরিনা মিমি কানামো চূড়ায় আরোহণ করেন।

[২]

দল/প্রতিনিধিত্ব- স্বতন্ত্র
অভিযাত্রী- ইমরান খান অজিল, আশরাফুল কবির, ওয়াসিক মুরসালিন
২৬ অগাস্ট সন্ধ্যা ৭ টায় দলটি কাজা থেকে কিব্বের এসে পৌঁছায়। কিব্বের গ্রামে রাত না কাটিয়ে তখনই তারা কানামো বেইজ ক্যাম্পের উদ্দেশে ট্রেক শুরু করেন। দলের একজন অসুস্থ বোধ করায় হ্রদের অনেক আগেই তারা ক্যাম্প করতে বাধ্য হন। দলের বাকি দুজন সদস্য অসুস্থ বোধ করে রাতে বমি করায় ইমরান খান অজিল পরদিন সকাল সাড়ে ৮ টায় একাই চূড়ার উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর ২:৫৪ মিনিটে তিনি সামিটে পৌঁছান। চূড়া থেকে ১০০-১৫০ মিটার নিচে নামতে তার পা পিছলে যায় ও মাথায় আঘাত পাওয়ার দরূন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। রাত ৩ টার দিকে তার জ্ঞান ফিরে আসে। এ সময় তার কাছে পানি, হেডল্যাম্পের মত জরুরি প্রয়োজনীয় সাজসঞ্জাম ছিল না। রাতের অন্ধকারেই কোন রকমে তিনি বেইজ ক্যাম্পে নেমে আসেন। বেইজ ক্যাম্প নেমে তিনি দেখতে পান তার দলের বাকি দুজন সদস্য তাকে রেখেই কিব্বের চলে গেছে। বেইজ ক্যাম্পের সকল মালামাল একাই বহন করে আহত শরীর নিয়েই তিনি কিব্বের গ্রামে ফিরে আসেন।

[৩]

দল/ প্রতিনিধিত্ব – স্বতন্ত্র/ রোপ ফোর
সদস্য: রিফাত রাব্বি, মারুফা হক, মহিউদ্দিন মাহি।
কাযা থেকে কিব্বের যাওয়ার পথে স্বতন্ত্রভাবে অভিযানে যাওয়া রিফাত রাব্বি দুইজনের সাথে যুক্ত হয়।
২৮ জুলাই ২০১৮ সকাল ৮ টায়, কিব্বের থেকে দলটি স্থানীয় পোর্টার এবং গাইড সোনাম লোবজাং কে সাথে নিয়ে মাউন্ট কানামো বেইজ ক্যাম্পের দিকে যাত্রা শুরু করে। প্রথম দিন তীব্র ঝড়ো বাতাস ও হিমশীতল বৃষ্টির মধ্যে তারা দুপুর ১:৩০ মিনিটে ১৫৮০০ ফিট উপরে বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান করে। অনর্গল বৃষ্টিপাতের ফলে সেদিনের বেইজ ক্যাম্পের কার্যক্রম ব্যহত হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৯ জুলাই ভোর সাতটায় আবহাওয়া একটু পরিষ্কার হলে তারা মাউন্ট কানামো চূড়ার দিকে যাত্রা শুরু করে। দুপুর ১ টা ৩০ পর্যন্ত মারুফা হককে নিয়ে মহিউদ্দিন মাহি ৫৬০০ মিটার পর্যন্ত আরোহন করেন এবং মারুফা হক একটু স্লো হয়ে যাওয়ার কারণে ও হাতে সময় না থাকার কারণে এবং বিগত দুই তিনদিনের আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। অপরদিকে রিফাত রাব্বিকে গাইডসহ উপরের দিকে পাঠানো হয় কিন্তু শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বেলা ২ টা ৪০ মিনিটের মধ্যে আরো ২০০ মিটার আরোহণ করে নিচে নেমে আসেন। 

[৪]

দল/ প্রতিনিধিত্ব – স্বতন্ত্র
সদস্য- নাঈম রেজা
হাই অল্টিটিউড ট্রেকিং এর প্রথম অভিজ্ঞতা হিসেবে রেজাএকাই ঢাকা থেকে স্পিতির উদ্দেশে রওনা হন জুলাইয়ের ১৭ তারিখ।
২১ তারিখ বিকেলে কাজা পৌঁছান। এক্লিমেটাইজেশনের জন্য একদিন কাজাতে থেকে কিব্বের পৌঁছান ২২ তারিখ সন্ধ্যায়। ২৩ তারিখ সারাদিনই কিব্বেরের পাশের গ্রাম চিচামে এক্লিমেটাইজেশন করেন। ২৪ তারিখ সকাল সাড়ে আটটায় গাইড টাশি আর মালামাল বোঝাই করে নেয়া খচ্চর সহ তারা কানামোর বেইজক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হ্ল। মাঝে হঠাত করেই প্রচণ্ড বাতাস আর বৃষ্টির কবলে পরে বেইজ ক্যাম্পের অনেক আগেই তাঁবু পিচ করতে একরকম বাধ্য হয় তারা; তখন ঘড়িতে সময় আনুমানিক ১১ঃ৩০। আবহাওয়া পরিষ্কার হবার পর তাঁবু গুটিয়ে নিয়ে বেইজ ক্যাম্পের জন্যে হাঁটা শুরু করে, বেলা দুইটার দিকে কানামোর বেইজক্যাম্পে পৌঁছায়। ২৫ তারিখ রাত তিনটায় বেইজক্যাম্প থেকে তারা ট্রেক শুরু করে। বেলা ১২ঃ১৬ মিনিটে গাইড তাশি সহ নাঈম রেজা মাউন্ট কানামোর সামিটে (৫৯৭৪ মি.) পৌঁছান।

[৫]

দল/ প্রতিনিধিত্ব – স্বতন্ত্র
সদস্য- তানভীর আমান, সৌরভ ঘোষ
তানভীর কায়সার, ফারুক পারভেজ, তাসিফুল ইসলাম।
৫ সদস্যের দল ১৬ অগাসাত বিকেল বেলা কিব্বের পৌঁছান। পরদিন বেলা ১২ টার দিকে তারা বেইজক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা দেন। ১৮ তারিখ ভোর ৬ টার সময় দলটি সামিটের উদ্দেশে বেইজ ক্যাম্প থেকে রওনা দেন। সকাল ১১ টার সময় তারা অ্যাডভান্স বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছান। ৫৫০০ মিটার উচ্চতায় তাসিফুল ইসলামের শরীর খারাপ হয়ে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে তিনি নিচে নেমে আসেন। শেষ দিকে ফারুক পারভেজের শরীরও খারাপ হয়ে যায়। এই পর্যায়ে দলটি সুই ভাগে ভাগ হয়ে আরোহণ করতে থাকেন। সৌরভ ও তানভীর কায়সারকে নিয়ে গাইড এগিয়ে যায় ও অসুস্থ ফারুকের সাথে তানভীর আমান ধীরে ধীরে আরোহণ করতে থাকেন। প্রথম দলটি বেলা ১:১০ মিনিটে ও পরবর্তী দলটি বেলা ২ টায় সামিটে পৌঁছান।

● ইমজাৎসে /আইল্যান্ড পিক (৬১৮৯ মিটার)
অবস্থান: সলো খুম্বু, নেপাল

উচ্চতা: ৬,১৮৯ মিটার বা ২০,৩০৫ ফুট
অভিযাত্রীগণ: ইয়াসমিন লিসা, সোহাগ বিশ্বাস, হাসান রকিব রানা, তারেক অণু,
কনক আদিত্য, মারুফ কবির এবং নিশাত মজুমদার।
দলটি ৬ মে, ২০১৮ তারিখ নেপালের কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়। থামেলে দুই রাত্রি থেকে পর্বতারোহণের অনুমতিপত্র সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করে ৮ মে হেলিকপ্টারে দলটি লুকলা পৌঁছায়। এখানে গাইড কুমার খাদকা তাদের অভ্যর্থনা জানায়। লুকলা বিমানবন্দর থেকে ট্রেকিং শুরু করে ঘণ্টাখানেক পরে পৌঁছায় ব্যাঙ্কার; এখানেই প্রথম রাত্রিযাপন। পরবর্তী দিনই তারা নামছে বাজার পৌঁছায়। এক্লিমাটাইজেশনের জন্য যান খুমজুং গ্রামে।
১১ মে ট্যাংবোচে, ১২ মে ডিঙবোচে। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উচ্চতার সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য ডিঙবোচে দুই রাত থেকে ৫,৪০০ মিটার উচ্চতার নাগার্জুন পর্বত শৃঙ্গে আরোহণ করা হয়। ১৪ মে চুখং; এখান থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ভাড়া করা হয়।।
পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই অভিযাত্রী সোহাগ বিশ্বাসও ইয়াসমিন লিসাকে চুখং রেখে বাকি অভিযাত্রীরা বেইজ ক্যাম্পের উদ্দেশে দুপুরের দিকে যাত্রা করে।  ইমজা খোলাকে পাশে রেখে, ট্রেক করে ১৫ মে বিকেল নাগাদ বেইজ ক্যাম্প পৌঁছায়। পরের দিন আরোহণ-অবরোহণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ মে রাত দুটায় সামিট পুশ শুরু হয়। ভোর রাতে ক্রাম্পন পয়েন্ট পৌঁছে সকাল আটটা নাগাদ আইল্যান্ড পিকের আইস ওয়ালের কাছে পৌঁছায়। কিছুদূর ক্লাইম্ব করার পর অভিযাত্রী মারুফ কবির নানাবিধ প্রতিকূলতার কারণে সিদ্ধান্ত নেন ফিরে যাবেন; সেই সাথে অভিযাত্রী কনক আদিত্য স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেন হাসান রকিব রানাকে সাথে নিয়ে ফিরে যাবেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দুই অভিযাত্রী তারেক অণু ও নিশাত মজুমদার সিদ্ধান্ত নেন একজন গাইড ফিরতি দলকে গাইড করবে আর গাইড কুমার খাদকাকে নিয়ে তারা আরোহণের চেষ্টা করবেন। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে হোয়াইট আউট শুরু হয়। এর মধ্যেও উর্ধ্বগামী দল তাদের অভিযান চলমান রাখে এবং এবং বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেই দুপুর একটা পঁচিশ মিনিটে আইল্যান্ড পিক ‘টিম বাংলাদেশ’ ইমজাৎসে চূড়ায় আরোহণ করেন। 

● রুডুগাইড়া (৫৮১৯ মিটার)
অবস্থান: গারোয়াল হিমালয়, উত্তরাখন্ড, ইন্ডিয়া

দল/ প্রতিনিধিত্ব – ঘুরতে থাকা চিল
সদস্য: প্রলয় খান, তারিক ইবনে নাজিম ও জয়নাব শান্তু।
বাংলাদেশের ‘ঘুরতে থাকা চিলে’র ৩ জন ও ভারতের ৬ জন সদস্য উক্ত অভিযানে অংশ নেন। ভারতের ‘ট্রেক অ্যান্ড ফ্লাই হিমালায়াস’ এই গাইডেড অভিযানটি পরিচালনা করেন। বাংলাদেশ থেকে এই অভিযানে অংশ নেন প্রলয় খান, তারিক ইবনে নাজিম ও জয়নাব শান্তু।
উত্তরাখণ্ডের গারওয়াল হিমালয়ের গাঙোত্রী থেকে দলটি ৬ অক্টোবর ট্রেক শুরু করে ৮ তারিখ বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছায়। সেখানে তাদের একদিন এক্লিমাটাইজেশন করার কথা থাকলেও আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাবে এমন পূর্বাভাষ থাকায় পরদিন ৯ অক্টোবর ভোর ৪ টায় তারা সামিটের উদ্দেশে বেইজক্যাম্প ত্যাগ করেন। এদিকে জয়নাব শান্তু বেইজ ক্যাম্প পৌঁছাতে দেরী করায় সামিটের জন্য বের হতে পারেননি।
৯ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে অসুস্থবোধ করায় প্রলয় খান রিজলাইনের সোল্ডার (৫৬০০ মিটার) থেকে নিচে নেমে আসেন। ভারতেরও একজন আরোহী নিচে নেমে যান। বেলা ১১:৪৫ মিনিটে বাংলাদেশের তারিক ইবনে নাজিম ৫৮১৯ মিটার উচ্চতার রুডুগাইড়া চূড়ায় আরোহণ করেন।


● লাকপা রি (৭০৪৫ মিটার)
অবস্থান: ইস্ট রম্বুক হিমবাহ, তিব্বত

দল/ প্রতিনিধিত্ব – বাংলা ট্রেকিং অ্যান্ড মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব (বিএমটিসি)
অভিযান সদস্য: এম এ মুহিত,শায়লা বিথী,কাজী বিপ্লব
দলটি ২৯ এপ্রিল ২০১৮ নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। ৪ মে নেপালের রসুয়াগাড়ি সীমান্ত পার হয়ে তারা তিব্বতের ক্যারুং ও তিংরি অতিক্রম করেন। পরে ৮ মে বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছান তারা। বেইজ ক্যাম্পে চার রাত ও মিডল ক্যাম্পে এক রাত কাটিয়ে তারা ১৩ মে অ্যাডভান্স বেইজ ক্যাম্পে (এভারেষ্ট অ্যাডভান্স বেস ক্যাম্প) পৌঁছান। ১৭ মে রাত আড়াইটার দিকে অ্যাডভান্সড বেইজ ক্যাম্প থেকে তিন শেরপাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের তিন পর্বতারোহী চূড়ান্ত–আরোহন শুরু করেন। ১৭ মে নেপাল সময় বিকাল ৩টায় বাংলাদেশের তিন পর্বতারোহী লাকপা রি শীর্ষে আরোহণ করেন।

● আমা দাবলাম (৬৮১২ মিটার)
অবস্থান: সলো খুম্বু, নেপাল

দল/ প্রতিনিধিত্ব – বাংলা ট্রেকিং অ্যান্ড মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব (বিএমটিসি)
সদস্য: এম এ মুহিত
১৫ অক্টোবর কাঠমান্ডু পৌঁছান। ২২ অক্টোবর লুকলায় পৌঁছান। তার সাথে বিএমটিসির পাঁচ সদস্যের একটি দল ছিলো। যারা এভারেষ্ট বেইজ ক্যাম্প ট্রেক করবেন। তাদের নিয়ে এভারেষ্ট বেইজক্যাম্পে এম এ মুহিত পৌঁছান ২৯ অক্টোবর। দলের বাকিদের বিদায় জানিয়ে তিনি ২ নভেম্বর আমা দাবলাম বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছান। ১০ নভেম্বর খারাপ আবহাওয়ার কারণে তিনি ক্যাম্প ওয়ানের নিচ থেকে ফেরত আসেন। ১৭ তারিখ আবারও উপরে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় এবং ২৪ তারিখ পর্যন্ত খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় তিনি বেস ক্যাম্প থেকে ১৮ নভেম্বর নেমে আসেন। তার সাথে ছিলেন মিংমা শেরপা।

● দেও তিব্বা (৬০০১ মিটার)
অবস্থান: মানালি, হিমাচল প্রদেশ, ইন্ডিয়া

[১]
দল/প্রতিনিধিত্ব- স্বতন্ত্র
সদস্য: অভিজিত নন্দী, তানিয়া খন্দকার, মাজহারুল ইসলাম মিনরুল, তাকলিমা, মুহিত
গাইডেড এই অভিযানে স্থানীয় দুজন গাইডেড সাথে উত্তরাখণ্ডেরও দুজন গাইড ছিলেন। ৫ সদস্যের দলটি ৫০৭৮ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প-১ এ যাওয়ার পরে খারাপ আবহাওয়া, সিজনে কোন সামিট না হওয়া, নতুন রাস্তা, হিডেন ক্রেভাস এবং ছোট দলের সামিট এর চান্স বেশি এই ভাবে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় অভিজিৎ ও তানিয়া সামিটের উদ্দেশে যাবেন আর বাকিরা বেইজ ক্যাম্পে নেমে যাবে। এর পরেও পুরো পথে স্থানীয় গাইডদের অসহযোগীতা মোকাবেলা করে তাদের এগিয়ে যেতে হয়েছিল। স্থানীয় গাইড বাররংবার তাদের ফিরে যাবার জন্য ফোর্স করছিল।
প্রচলিত রাস্তা নস্ট হয়ে যাওয়া, ক্রাভাস ভরা স্নো ফিল্ড পার হয়ে ক্যাম্প ২ এর দিকে যেতে গিয়ে অনেক সময় লেগে যায় যায়। স্থানীয় গাইড দুইজন ক্যাম্প ২ এর জন্য আর উপরে যেতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের ৫২৩৮ মিটারে ক্যাম্প করতে হয়। এতে সামিট পুশ গিয়ে দাঁড়ায় ৮০০ মিটারে। সেদিন রাত ৩:৪০ মিনিটে তারা সামিটের উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় ৫৬০০ মিটার উঠে যখন প্রথম দেও তিব্বা দেখা যাচ্ছিলো তখন স্থানীয় গাইডরা সামিট হয়ে গেছে বলে দাবী করে। অভিজিৎ আর তানিয়া তবুও সামনে এগিয়ে যেতে থাকেন।। কোন ফিক্স রোপ না থাকায় এবং কিছু জায়গায় লাইফ লাইন ও ছিলো না তাই বেশ সময় নিয়ে এগোতে হচ্ছিলো। প্রায় ৮ ঘণ্টা পরে একটা রিজ লাইনের সামনে আসার পরে গাইড আবারও দাবী করে, “সামনেই সামিট, সন্মান দেখিয়ে আর উপরে যেতে হবে না। এটাই সামিট”। জায়গাটা পাঊডার স্নো তে ভরা ছিলো, এবং মেঘে ঢেকে যাচ্ছিলো। সন্মানে বিষয়টা না জানা থাকায় এবং গাইডদের অসহযোগী আচরণে ক্লান্ত হয়ে অভিযাত্রীরা সেখানেই থেমে যান। অভিযাত্রীদের সাথে থাকা জিপিএস রিসিভারে তাদের সর্বোচ্চ আরোহিত উচ্চতা দেখাচ্ছিল ৫৯৩৭ মিটার।
[২]
দল/প্রতিনিধিত্ব: ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স
সদস্য: ফরহাদ হোসেন, হাসনাত আল কোরাইশি, সাদাব ইয়াসির, সোহান আহমেদ, তানভীর আহমেদ।
২৬ সেপ্টেম্বর মানালি থেকে ভার্টিকাল ড্রিমার্স ক্লাবের ৫ সদস্যের দলটি অ্যাল্পাইন স্টাইলে দেও তিব্বা চুড়া আরোহণের জন্যে কানোলের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রথম দুইদিন চিক্কা ও সেরিতে ক্যাম্প করার পর ৩য় দিনে টেনটাতে ক্যাম্প করা হয়। টেনটাতে গিয়ে জানা যায়, ৪-৫ ফুট বরফ থাকায় বেইজ ক্যাম্পের পর আর সামনে যাওয়ায় যাবে না । বেইজ ক্যাম্পের পানির অভাব থাকায় শেষ ক্যাম্প টেনটাতেই হয় । দলটি একদিন রেস্ট নিয়ে বেইজ ক্যাম্প থেকে ২০০- ৩০০ মিটার উপড়ে থাকা ছোট চন্দ্রতালে যায়। এর পরদিন টেনটা থেকে টানা হেঁটে কানোল পৌঁছায় বিকাল ৪ টায়।
[৩]
দল/প্রতিনিধিত্ব: টিম হোয়াইট এক্স
সদস্য: আসাদ জামান( দলনেতা), তাস্কিন আলী, আসিফ আলতাফ, সাদমান সাকিব।
১লা সেপ্টেম্বর মানালি থেকে টিম হোয়াইট এক্স’র ৪ সদস্য চিকা র উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। প্রথম দিন চিকা, পরেরদিন সেরিতে ক্যাম্প করার কথা থাকলেও আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে দলটি পান্দুরুপাতে ক্যাম্প করতে বাধ্য হয়। পরদিন তারা সেরি তে পৌঁছে ২ দিন সেরি তে অবস্থান করে আবহাওয়া উন্নতি হওয়ার অপেক্ষা করে। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না দেখে তারা এ অবস্থাতেই বেইজ ক্যাম্প পর্যন্ত যায়। বৈরি আবহাওয়ার কারনে বেইজ ক্যাম্পে আরও দুই দিন অপেক্ষা করতে বাধ্য হয় । অবশেষে সপ্তম দিন সকালে আবহাওয়া কিছুটা ভাল হলে তারা ধুয়াঙ্গন কল এর দিকে এগিয়ে যায়। ঐদিন তারা সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫২০০ মিটার উচ্চতায় ধুয়াঙ্গন কল এ পৌঁছাতে সক্ষম হয়। কিন্তু বিগত কিছুদিনের বৃষ্টিপাত ও তুষারঝরের কারনে ধুয়াঙ্গনের উপরে ক্রেভাসগুলো ফ্রেশ স্নো তে ঢেকে গিয়েছিল । অবশেষে দলনেতার সম্মতিতে অভিযান ওখানেই সমাপ্তি টানা হয়। পরের দিন তারা ধুয়াঙ্গন কল থেকে বেইজক্যাম্পে ফিরে আসে।

● অনামী চূড়া (৬২৬৫মিটার)
অবস্থান: লাহুল, হিমাচল প্রদেশ, ইন্ডিয়া

দল/ প্রতিনিধিত্ব-দ্যা কোয়েস্ট
অভিযাত্রী- মুনীম চৌধুরী,শোয়েব রহমান,তাহমিদ রাফিদ,সামিউর রহমান, জহিরুল হাসান ইভান,আল আমিন ইসলাম,ইন্তিয়াজ মাহমুদ।
১১ই জুন দলটি ছোটা ধারা থেকে চন্দ্রা নদী অতিক্রম করে ট্রেকিং শুরু করেন। উচ্চতার সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য  ৩৮৯৬ মিটারে তারা ট্রানসিট ক্যাম্প স্থাপন করেন। পুরো দলকে ভালভাবে এক্লেমাটাইজ করার জন্য ট্রানসিট ক্যাম্পে চার দিন অবস্থান করেন তারা। ১৬ই জুন ছোটা শিগড়ি গ্লেসিয়ারে ৪৫২০মিটার উচ্চাতায় বেজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।এরপর পর্যায়ক্রমে ক্যাম্প ১, ২ এবং সামিট ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ২৩ জুন ভোর ৬ টায় দলটি সামিটের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু আবহাওয়া ক্রমেই খারাপ হতে শুরু করলে সকল সদস্যের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে টিম লিডার সামিটের ৭২ ফিট নিচ থেকে নেমে যাবার সিধান্ত নেন। দলের সকল সদস্য রাত ১০ টায় নিরাপদে নিচের ক্যাম্পে নেমে আসেন।

● মাউন্ট বাবি কাংরি (৬০৭০ মি)
অবস্থান: লাদাখ, ইন্ডিয়া

দল/প্রতিনিধিত্ব- স্বতন্ত্র
সদস্য: জিসান হায়াত, আল-আমিন ইসলাম হৃদয়, শ্যামল দাস। গাইড হিসেবে ছিলেন কলকাতার নগু দা,
 ফুরকে শেরপা।
২৪ অগাস্ট বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু হয় এবং ট্রেক শুরু হয় ৩০ অগাস্ট লাদাখ থেকে। ১ তারিখ বিকাল নাগাদ বেইজক্যাম্প স্থাপন করা হয় ৪৮৫৮ মি উচ্চতায়। এই সময়ে  ৩ জনই একদিন করে অল্টিচিউড সিকনেসের আক্রান্ত হয়।  রাতে পুরোপুরি বিশ্রাম, প্রচুর পানি আর একবেলা ডায়ামক্স খেয়ে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তারা ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়৷ ২ তারিখ বেইজক্যাম্প থেকে লোড ফেরি করে ৫০৫৫ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প-১ সেট করে আবার বেইজক্যাম্প ফিরে আসে। একদিন বিশ্রাম নিয়ে ৪ তারিখ আবার ক্যাম্প-১ এ যায় সেখান থেকে পরদিন ৫৪৮০ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প-২ বা সামিট ক্যাম্পে যায়। পর দিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় সামিট পুশ শুরু করে বিকাল ৫ টায় সামিট করে দল। ক্লাইম্বের সময় প্রচুর ক্রিভাস যুক্ত পথ পাড়ি দেয় দল। দেরি হয়ে যাওয়ায় সামিটে অল্প কয়েক মিনিট কাটিয়েই নামতে হয় সবাইকে। সামিট ক্যাম্পে পৌঁছায় রাত ৮ টায়। ক্যাম্পের জায়গায় এসে আবিষ্কার করে ক্যাম্প আসলে সেখানে নেই। সেদিন আবহাওয়া খারাপ ছিল, সারাদিন ধরে ব্লিজার্ড হচ্ছিল। ঝড়ো বাতাসে টেন্ট উড়ে গেছে, বিভিন্ন জিনিসপত্র এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সবাই ক্লান্ত ছিল তাই ক্যাম্প-১ এ নামা সম্ভব হয় না। প্রায় ১৫০ মিটার নেমে এসে বাতাস থেকে বাঁচার জন্য দুটি পাথরের আড়ালে আশ্রয় নেয় দল। খুঁজে পাওয়া ৩ টা স্লিপিং ব্যাগ ৫ জন ভাগাভাগি করে রাত কাটায়। ভোর পর্যন্ত তুষারপাত চলে । সকাল বেলা আবহাওয়া পরিষ্কার হওয়ার পর সকলে সুস্থ ভাবে ক্যাম্প-১ এ ফেরত আসতে সক্ষম হয়। সেখানে অল্প শুকনো খাবার খেয়ে সেদিনই বিকালের মধ্যে তারা বেইজক্যাম্প চলে আসে। একদিন বিশ্রাম নিয়ে ৯ তারিখ বেইজক্যাম্প ত্যাগ করে এবং ১১ তারিখ রাতে মানালি পৌঁছানোর মাধ্যমে অভিযানের সমাপ্তি হয়।

● ইয়ালা পিক (৫৫২০ মিটার)
অবস্থান: লাংতাং, নেপাল

দল/ প্রতিনিধিত্ব – রোপ ফোর
সদস্য: দলনেতা ছিলেন মহিউদ্দিন মাহি, সাদিয়া শারমিন ও মাসুদ পারভেজ সুজন।
২৪ তারিখ ভোর ৭:০০ টা থেকে একজন পোর্টার সহ দলটি তাদের মূল অভিযান শুরু করে সায়েব্রুবেসি থেকে। ২৬ তারিখ সকালে কিয়ানজিন গুম্ফার দিকে যাত্রা শুরুর পরপরই সাদিয়া শারমিন উচ্চতাজনিত শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয় , তাই সে আর সামনে না আগানো সিদ্ধান্ত নেয় এবং লাংতাং গ্রামে থেকে যায়। দলনেতা মহিউদ্দিন মাহি ও মাসুদ পারভেজ সুজন কিয়ানজিন গুম্ফার (৩৮৫০মিটার) উদ্দেশে রওনা হয়ে যায় ও সেখানে ২ দিন অবস্থান করে এক্লিমাটাইজেশনের জন্য। ২৮ তারিখ দলনেতা মহিউদ্দিন মাহি ও মাসুদ পারভেজ সুজন তাদের পোর্টার ও গাইডসহ চলে যায় ইয়ালা পিক বেইজ ক্যাম্পে এবং সেখানে রাত্রিযাপন করে। ২৯ তারিখ ভোর ৫:৩০ মিনিটে দলটি সামিট পুশের জন্য রওনা হয় এবং স্থানীয় সময় ৯:২০মিনিটে তারা  ইয়ালা পিকের চূড়া আরোহণ করে।

● কিলিমাঞ্জারো (৫৮৯৫ মিটার)
অবস্থান: কিলিমাঞ্জারো ন্যাশনাল পার্ক, তানজানিয়া

দল/ প্রতিনিধিত্ব – স্বতন্ত্র
সদস্য: মৃদুলা আমাতুন নূর
৪ মার্চ গাইডেড অভিযানে মৃদুলা আমাতুন নূর আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ এই শিখরে আরোহণ করেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)
অদ্রি সম্পাদক
অদ্রি সম্পাদক
সম্পাদকরাও একেকজন পাঠক।

২ thoughts on “অদ্রি সালতামামি ২০১৮

  1. সালতামামি’র জন্য ধন্যবাদ।
    তবে এর তথ্যগুলো তারিখ অনুযায়ী দিলে সুবিধা হত।
    আর সব অভিযানের তথ্য আরো একটু বিস্তারিত চাই আমরা……………

মন্তব্য করুন

*Please Be Cool About Captcha. It's Fun! :)